প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০০
বিশেষ ফলো-আপ প্রতিবেদন
তারেক রহমানের ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ কি তবে শুরু?
চাঁদপুরের পরীক্ষার হলে যার বাস্তব প্রতিফলন

চাঁদপুর, ১১ জানুয়ারি ২০২৬: গতকালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় যে নজিরবিহীন স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলার চিত্র আমরা দেখেছি, তা কেবল একটি প্রশাসনিক সাফল্য নয়—এটি একটি গভীর রাজনৈতিক দর্শনের ফসল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মেধাবী তরুণদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়ে আসছিলেন: "দলীয় পরিচয় নয়, মেধা ও যোগ্যতাই হবে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি।" ভিডিও বার্তায় তাঁর সেই বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এবং সুশাসনের স্বপ্ন যে আজ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে, চাঁদপুরসহ সারা দেশের পরীক্ষার হলগুলোই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
|আরো খবর
তারেক রহমানের বক্তব্যের প্রতিফলন ও মাঠপর্যায়ের চিত্র
তারেক রহমান তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে বারবার জোর দিয়েছেন একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার ওপর, যেখানে কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় টাকার লেনদেন বা জালিয়াতির স্থান থাকবে না। গতকাল চাঁদপুরের কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের অনমনীয় অবস্থান এবং হলের ভেতরের সেই নিবিড় নিস্তব্ধতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তা সরাসরি তাঁর সেই ‘সুশাসন মডেল’-এর সাথে মিলে যায়। যখন শীর্ষ পর্যায় থেকে মেধার মূল্যায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকে, তখন মাঠপর্যায়ের প্রশাসনও জালিয়াতি চক্রর বিরুদ্ধে এমন সাহসী ভূমিকা নিতে পারে।
নিয়োগ বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট ধ্বংসের বার্তা
তারেক জিয়ার দেওয়া ভিডিও দিকনির্দেশনায় তিনি সবসময় একটি কথা বলেন—নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। গত দেড় দশকের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ আর ‘প্রশ্ন ফাঁস’ সিন্ডিকেট যেভাবে মেধাবীদের স্বপ্ন চূর্ণ করেছিল, ৯ জানুয়ারির পরীক্ষায় সেই সিন্ডিকেটের পরাজয় হয়েছে। ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার জালিয়াতি চক্রগুলো যখন ধরাশায়ী হয় এবং প্রকৃত মেধাবীরা যখন নির্ভয়ে পরীক্ষা দেয়, তখনই বোঝা যায় যে রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সংস্কারের যে ডাক তারেক রহমান দিয়েছিলেন, তা সফল হতে শুরু করেছে।
চাঁদপুর মডেল: এক শিক্ষকের আবেগ ও আগামীর নিশ্চয়তা
চাঁদপুরের কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে আমরা যে অভূতপূর্ব পরিবেশ দেখেছি, যেখানে একজন প্রবীণ অধ্যাপক আবেগপ্লুত হয়ে বিগত ১৫ বছরের গ্লানি মোচনের কথা বলেছেন, তা আসলে একটি জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক। তারেক রহমানের ‘ভিশন’ অনুযায়ী—শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা মানেই হলো একটি শিক্ষিত ও উন্নত জাতি গঠনের প্রথম ধাপ। যখন একজন পরীক্ষার্থী নিশ্চিত থাকে যে কোনো ডিজিটাল ডিভাইস বা আর্থিক লেনদেনে নয়, বরং কেবল নিজের মেধার জোরেই সে শিক্ষক হতে পারবে, তখনই সেই দেশ তারেক জিয়ার স্বপ্নের পথে ধাবিত হয়।
মেধার জয় ও একটি সমৃদ্ধ প্রজন্মের স্বপ্ন
শিক্ষক নিয়োগে এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মানে হলো আগামীর শিশুদের হাতে যোগ্য শিক্ষকের হাত তুলে দেওয়া। ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যে তারেক রহমান যেমনটি চেয়েছিলেন—যোগ্যতম ব্যক্তিরাই যেন শ্রেণিকক্ষে যান—৯ জানুয়ারির পরীক্ষা সেই পথকেই প্রশস্ত করেছে। এটি কেবল একটি নিয়োগ পরীক্ষা নয়, বরং এটি একটি ব্যবস্থার পরিবর্তনের সূচনা।
চাঁদপুরের সেই নীরব বিপ্লব আর সারা দেশের জালিয়াতিবিরোধী অভিযান প্রমাণ করেছে—রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতিবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তারেক রহমানের মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশর যে স্বপ্ন তিনি দেশের মানুষকে দেখিয়েছেন, এই স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ছিল সেই দীর্ঘ যাত্রার এক উজ্জ্বল প্রারম্ভ। মানুষের মনে হারানো আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। এই শৃঙ্খলার ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে মেধাবীরাই হবে এদেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
সহ-সভাপতি, বাকসিস, চাঁদপুর জেলা।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।
ডিসিকে/এমজেডএইচ







