বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৭

তিন নদীর মিলনস্থলে ইবাদতের শান্ত ঠিকানা চাঁদপুর বড় স্টেশন রেলওয়ে জামে মসজিদ

কবির হোসেন মিজি
তিন নদীর মিলনস্থলে ইবাদতের শান্ত ঠিকানা চাঁদপুর বড় স্টেশন রেলওয়ে জামে মসজিদ

চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে আছে এক শান্ত সুনিবিড় পবিত্র ইবাদতের স্থান বড় স্টেশন রেলওয়ে জামে মসজিদ। এই মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থানই নয়, এটি বড় স্টেশন পর্যটন এলাকায় আগত অনেক মানুষের জন্যে এক আধ্যাত্মিক আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে।

বড় স্টেশন এলাকা দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় নদীভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক, ট্রেনযাত্রী ও স্থানীয় মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা অনেক মুসল্লি এই মসজিদে এসে নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে নারী পর্যটক ও নারী যাত্রীদের জন্যেও এখানে আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা এই মসজিদের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।

তিন নদীর মিলনস্থলের ঠিক পাশেই মসজিদটির অবস্থান হওয়ায় অনেকেই এটিকে আল্লাহর বিশেষ রহমত হিসেবে মনে করেন। স্থানীয়দের মতে, হয়তো এই পবিত্র মসজিদের বরকতেই নদীর ভয়াল ভাঙ্গন থেকেও আশপাশের এলাকা অনেকাংশে সুরক্ষিত রয়েছে।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও মসজিদটির রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। পাকিস্তান আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রথম এই মসজিদটি স্থাপন করে। পরে ১৯৭৫ সালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এটি পাকা ভবনে রূপ দেয়া হয়। সময়ের পরিক্রমায় মুসল্লির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুনভাবে মসজিদটির সংস্কার ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে মসজিদটি পুনঃসংস্কার করে বর্তমান আধুনিক রূপ দেয়া হয়।

মসজিদ ভবনটি প্রায় ১০ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অবস্থিত। লম্বায় ১০৩ ফুট এবং পাশে প্রায় ৮৫ ফুট জায়গা জুড়ে মসজিদের ভেতরের নামাজের স্থান রয়েছে। এটি তিনতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হলেও বর্তমানে দ্বিতীয় তলার অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কিছু অংশ এখনো বাকি রয়েছে। ভবিষ্যতে পুরো তিনতলা ভবন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মসজিদের বাইরের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও ভেতরের সৌন্দর্য যেনো আরও বেশি মুগ্ধ করে। ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে মনোরম নকশায় তৈরি দৃষ্টিনন্দন মেহরাব। মসজিদের প্রতিটি গোলাকার পিলারে টাইলসের দৃষ্টিনন্দন গাঁথুনি রয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল লাইটের আলোয় দেয়ালজুড়ে আরবি অক্ষরে কালেমা ফুটে উঠে, যা মসজিদের ভেতরে এক অন্যরকম পবিত্র আবহ সৃষ্টি করে।

মসজিদের নির্মাণ ও সংস্কারে স্থানীয় মানুষের অবদানও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ীরা আর্থিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় মসজিদটি আজকের এই দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে।

বর্তমানে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন রেলওয়ে বড় স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মারুফ হোসেন। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন বড় স্টেশন মাছঘাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. জালাল উদ্দিন বাবুল জমাদার। তারা জানান, নিচতলা ও দ্বিতীয় তলা মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি একসঙ্গে এখানে নামাজ আদায় করতে পারে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে গড়ে তিনশ' থেকে সাড়ে তিনশ' মুসল্লি উপস্থিত হন। আর জুমার দিনে সেই সংখ্যা হাজারেরও বেশি হয়ে যায়।

মসজিদটির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চাঁদপুরের সুপরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুফতি সিরাজুল ইসলাম। মুয়াজ্জিন হিসেবে আছেন মাওলানা আব্দুল হাকিম।

তিন নদীর মিলনস্থলে অপরূপ প্রকৃতি, নদীর ঢেউয়ের শব্দ আর মসজিদের ভেতরের শান্ত পরিবেশ, সব মিলিয়ে বড় স্টেশন রেলওয়ে জামে মসজিদটি চাঁদপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। এখানে এসে নামাজ আদায় করলে অনেক মুসল্লিই মনে করেন নদীর বিশালতার মাঝে যেনো আল্লাহর সৃষ্টির মহিমা আরও গভীরভাবে অনুভব করা যায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়