প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০২৬, ০২:৫২
ধানমন্ডিতে ফ্রেন্ডস ’৮০-এর সংবর্ধনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল
“আমি এমপি হয়েছি, বড় সাহেব হইনি”—
ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সংবর্ধনায় শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক

|আরো খবর
ধানমন্ডিতে ফ্রেন্ডস ’৮০-এর সংবর্ধনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদক
অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন
ঢাকা | ১১ মার্চ ২০২৬
রাজনীতির ব্যস্ততা, সংসদীয় দায়িত্ব কিংবা ক্ষমতার আনুষ্ঠানিকতা—সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে পুরনো বন্ধুত্বের টানে এক আবেগঘন মিলনমেলার সাক্ষী হলো রাজধানীর ধানমন্ডি। চাঁদপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক-এর সম্মানে বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির ‘শালিমার কিচেন’-এ অনুষ্ঠিত হয় সংবর্ধনা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল।
“ফ্রেন্ডস ’৮০ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের বন্ধু, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মানবিক সম্পর্কের শক্তি—এই আয়োজন যেন তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে ওঠে।
বন্ধুত্বের আবেগে ভাসলেন মানিক
সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“আমি এমপি হয়েছি—এটা হয়তো সাময়িক একটি দায়িত্ব। কিন্তু বন্ধুত্ব আজীবনের। আমি চাই না কেউ মনে করুক আমি দূরে চলে গেছি। আগে যেমন বন্ধুদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও সেই ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।”
তিনি হাস্যরসের সুরে আরও বলেন,
“কেউ যদি মনে করে আমি এমপি হয়ে ‘বড় সাহেব’ হয়ে গেছি, তাহলে আমার সত্যিই খুব কষ্ট লাগবে।”
বন্ধুদের উদ্দেশে তিনি একটি বিশেষ অনুরোধও করেন। কোনো কারণে ফোন ধরতে না পারলে যেন তাঁরা মেসেজ দিয়ে রাখেন—তিনি কথা দেন, এক সপ্তাহ বা দশ দিন দেরি হলেও তিনি অবশ্যই যোগাযোগ করবেন।
প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে আবেগঘন মুহূর্ত
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তাঁদের বন্ধু , হেলি, ও তারেক-এর স্মৃতি স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন,
আগে যেকোনো অনুষ্ঠানে তাঁরা সবাই একসঙ্গে মিলিত হতেন, আনন্দ করতেন। আজ তাঁদের অনুপস্থিতি সেই স্মৃতিগুলোকে আরও গভীর করে তোলে।
এই মুহূর্তে উপস্থিত অনেক বন্ধুর চোখেও আবেগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চাঁদপুরকে ‘মডেল আসন’ করার প্রত্যয়
নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে মানিক এমপি বলেন, তাঁর লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক সাফল্য নয়; বরং এলাকার মানুষের বাস্তব সমস্যার সমাধান।
তিনি বলেন,
চাঁদপুর-৩ আসনের উন্নয়নে রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের বিভিন্ন স্থানের সফল উন্নয়ন মডেল থেকে শিক্ষা নিয়ে চাঁদপুরকে একটি আধুনিক, স্মার্ট ও আদর্শ মডেল নির্বাচনী এলাকায় রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ড. সবুর খানের আহ্বান: বন্ধুত্বকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপ দিন
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. সবুর খান।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের মেয়াদ হয়তো পাঁচ বছর, কিন্তু বন্ধুত্ব ও এলাকার প্রতি দায়বদ্ধতা আজীবনের।
তিনি “ফ্রেন্ডস ’৮০”-এর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের অনেকেই এখন কর্মজীবন থেকে অবসরে আছেন। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সবাই মিলে চাঁদপুরের উন্নয়নে কাজ করলে একটি নতুন “চাঁদপুর মডেল” তৈরি করা সম্ভব।
ড. সবুর খান আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম—বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ—ব্যবহার করে সামাজিক উদ্যোগ ও কমিউনিটি উন্নয়নের কার্যক্রম জোরদার করারও আহ্বান জানান।
অসুস্থতার সময় বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর গল্প
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সাবেক সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বন্ধুত্বের এক আবেগঘন স্মৃতি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, নিজের অসুস্থতার সময় মানিক তাঁকে সিঙ্গাপুর থেকে মেসেজ পাঠিয়ে খোঁজ নিয়েছিলেন এবং প্রয়োজনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
কল্লোল বলেন, “আমি যদি আজ এখানে না আসতাম, তাহলে হয়তো জানতেই পারতাম না আমার বন্ধু আমার জন্য এতটা ভাবেন। এই বয়সে এসে এমন বন্ধুত্ব সত্যিই বড় আশীর্বাদ।”
তিনি ‘ফ্রেন্ডস ’৮০’-এর সদস্যদের মধ্যকার বন্ধনকে অত্যন্ত দৃঢ় ও আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানিকের কঠোর অবস্থান তাঁদের সকলের জন্য গর্বের বিষয়। তাঁর মতে, রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখা এখন সময়ের বড় দাবি।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করার যে মানসিকতা মানিকের মধ্যে দেখা যায়, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয়।
ধর্মীয় পরিবেশে সমাপ্তি
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন অধ্যাপক মো. গোলাম সারওয়ার (কচি)
পরবর্তীতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জি এম মিজানুর রহমান।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জনাব মুকুল আনোয়ার-এর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে এবং সঞ্চালনা করেন মো. মোস্তফা কামাল অপু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মো. আলতাফ হোসেন।
বন্ধুত্বের মিলনমেলা
ইফতারের আগে সবাই একত্রে দোয়া করেন এবং দীর্ঘদিন পর একসাথে বসে স্মৃতিচারণ করেন। রাজনীতি, দায়িত্ব কিংবা ব্যস্ততার গণ্ডি ছাপিয়ে এই আয়োজন যেন প্রমাণ করে—পুরনো বন্ধুত্বের বন্ধন এখনো অটুট।
অনেকের মতে, এটি ছিল শুধু একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান নয়; বরং বন্ধুত্ব, মানবিকতা ও জনসেবার অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করার এক আবেগঘন মুহূর্ত।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







