শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১৬

চাঁদপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ

সর্বোচ্চ ৩২টি মামলা বিএনপির এহছানুল হক মিলনের

দ্বিতীয় ১৫টি জামায়াতের বিল্লাল মিয়াজীর

প্রবীর চক্রবর্তী
সর্বোচ্চ ৩২টি মামলা বিএনপির এহছানুল হক মিলনের

চাঁদপুরের ৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াত জোটের প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিএনপি প্রার্থীরাই মূলত বেশি মামলার শিকার হয়েছেন। জেলার ৫টি আসনের বিএনপির সকল প্রার্থীই মামলার আসামী হয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৪টি এবং তাদের জোটের একটি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ২ প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো মামলাই নেই। সবচেয়ে বেশি মামলার শিকার হয়েছেন চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী মোট ৩২টি মামলা হয়েছে তাঁর নামে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে জামায়াত প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। তাঁর বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হয়েছে।

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে মোট ৩২টি মামলা দায়ের করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার। যার মধ্যে ১৩টি মামলা এখনো বিচারাধীন এবং বাকি ১৯টি মামলা থেকে তিনি খালাস বা তদন্তে অব্যাহতি পেয়েছেন। চাঁদপুর-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবু নছর মোহাম্মদ মকবুল আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-মতলব দক্ষিণ) আসনের বিএনপি প্রার্থী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা ছিলো। ৩টি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত পিটিশন মামলাটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী নেই। এই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই

চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর-হাইমচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বিরুদ্ধে মোট ৭টি মামলা দায়ের হয়েছিলো। এর মধ্যে সব মামলাতেই তিনি খালাসপ্রাপ্ত ও অব্যাহতিপ্রাপ্ত। চাঁদপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মো. শাহজাহান মিয়ার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা দায়ের হয়েছিলো। এর সবক'টি থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন।

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ব্যাংকিং ও রাজস্ব বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মো. হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে মোট ৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২টি মামলায় খালাস পেয়েছেন। বাকি দুটির মধ্যে একটি হাইকোর্ট বিভাগে স্থগিত রয়েছে এবং অপরটি সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার দিন ধার্য হয়েছে। চাঁদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চাঁদপুর জেলা বিএনপির ১নং সদস্য ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এমএ হান্নানের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। আরেকটির চূড়ান্ত রিপোর্ট শুনানির জন্যে রয়েছে।

চাঁদপুর-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী ও চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্য মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি মামলা সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৯টি মামলায় তিনি খালাসপ্রাপ্ত হয়েছেন।

চাঁদপুর-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো. মমিনুল হকের বিরুদ্ধে মোট ৪টি মামলা হয়েছিলো। এর মধ্যে দুটি মামলা প্রত্যাহার ও দুটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন। চাঁদপুর-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবুল হোসাইনের বিরুদ্ধে মোট ১৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি মামলায় তিনি খালাস, অব্যাহতি ও মুক্তি পেয়েছেন। রেলওয়ে আইনে দায়েরকৃত মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়