প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১৬:১২
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে কচুয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি

কচুয়া উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের খিলমেহের গ্রামের শিকারি বাড়িতে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী একদল ডাকাত গভীর রাতে জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
|আরো খবর
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ১টার দিকে অজ্ঞাত ১৫-১৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে খিলমেহের গ্রামের বাসিন্দা মো. হারুন শিকারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে জিম্মি করে রাখে।
ডাকাতরা ঘরে থাকা আলমারি ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতদের হামলায় আহত হন গৃহকর্তা হারুন শিকারী, স্ত্রী মোরশিদা বেগম এবং পুত্রবধূ তুলী। এছাড়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যকেও বেঁধে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন পুত্রবধূ তুলী আক্তার, মুন্নী আক্তার এবং নাতনি হামিদা আক্তার। ডাকাতরা তাদের মারধর করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী হারুন শিকারী ও তার স্ত্রী মোরশিদা বেগম জানান, ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে সবাইকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। তারা জানান, পরিবারের এক সদস্য প্রবাস থেকে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন, যা ঘরে রাখা ছিলো। সেই টাকাসহ স্বর্ণালঙ্কারও ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রোববার সকালে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।








