প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩
সুন্দরবন সংগঠনের বার্ষিক পিকনিক

সুন্দরবন সংগঠন ওয়াশিংটন ডি সি আয়োজন করলো বার্ষিক পিকনিক। এই সংগঠনটি প্রতি বছর বাসে করে দূরে চলে যায়। যেমন আমরা স্কুলের পিকনিকে যেতাম। প্রতি বছরের মতো এবারও আড়াই ঘণ্টা ড্রাইভ করে চলে গেলো রকি গ্যাপ স্টেট পার্ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যালেগেনি কাউন্টিতে অবস্থিত এই পার্ক। সকাল ৭টায় সবাই স্প্রিংফিল্ড এসে পাউরুটি, ভাজি, মাংস, ডিম ভাজি,কলা ও চা দিয়ে নাস্তা খেয়ে পিকনিকের শুরু। সকাল ৮ টায় বাস ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথে শুরু হয় গান, নাচ ও কৌতুক। আজ সত্যি মনে হচ্ছে, আমরা কলেজের কোনো পিকনিকে যাচ্ছি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে বাস থামে একটি পাহাড়ের উপর। এখানে সবাই ছবি তুলে আবার রওয়ানা। সকাল ১১ টায় রকি গ্যাপ স্টেট পার্কে বাস থামে।
রকি গ্যাপ পার্কটি মূলত পাহাড়ি উপত্যকা ও অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। এই পার্কে লেক হাবিব নামে একটি লেক আছে যার পানি নীল ও স্বচ্ছ। লেক হাবিবের পরিষ্কার পানিতে সাঁতার কাটার জন্য দুটি পাবলিক বালুকাময় সৈকত রয়েছে। এখানে বিনা ইঞ্জিন বা বৈদ্যুতিক মোটরের নৌকা, কায়াক ও প্যাডেলবোট চালানোর ব্যবস্থা আছে। লেকের সাথেই পাহাড়ি জমি এবং এভিটস মাউন্টেন। এখানে হাইকিং ট্রেইল অর্থাৎ হাঁটার জন্য ট্রেইল রয়েছে। এই পার্কে প্রায় ২৭৮টি ক্যাম্পসাইট, মিনি কেবিন এবং ইউর্ট ও শ্যালেতে রাত কাটানোর সুবিধা আছে। শুধু তাই নয়, এই পার্কের ঠিক পাশেই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ক্যাসিনো ও রিসোর্ট এবং একটি গল্ফ কোর্স রয়েছে, যা একে অন্যান্য সাধারণ পার্ক থেকে আলাদা করেছে। এই পার্কে যে কেউ প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে আসতে পারবেন। এখানে কোনো টাকা দিতে হয় না।
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে এক দিনের জন্যে প্রকৃতির কাছাকাছি মেতে ওঠার লক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো বার্ষিক পিকনিক। পিকনিক স্পটে পৌঁছানোর পর চারপাশের সবুজ গাছপালা, পাখির কলকাকলি এবং শান্ত পরিবেশ মুহূর্তের মধ্যেই সবার মন জয় করে নেয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এমন একটি প্রাকৃতিক পরিবেশ যেন সবার ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর করে দেয়।
বুট মুড়ি, পেঁয়াজু দিয়েই শুরু হয় পিকনিকের দ্বিতীয় পর্ব। তারপর শুরু হয় ছবি তোলার প্রতিযোগিতা। সবাই অনেক মজা করে ছবি তুলেছেন। এই ছবি তুলতে যেয়ে অনেক মজা হয়েছে। লেকের পাড়ে প্রায় ৮/৯ জন একসাথে একটি শুকনো গাছের উপরে বসে ছবি তোলার সময় গাছটি ভেঙ্গে যায় এবং সবাই মাটিতে পড়ে যায়। কী যে হাসাহাসি হয়েছে সেই সময়। এদিকে দুপুরের খাবার রেডি হয়ে গেছে। সবাই সুটিং শেষ করে খাবারের জন্য চলে আসলেন। দুপুরের খাবারে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ও মুখরোচক নানা পদ। বিকেলে শুরু হয় গানের আসর। সবাই মিলে মিশে গান পরিবেশনা । গানের পাশেই চলতে থাকে পেঁয়াজু ভাজা।
মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সুন্দরবন সংগঠনের পিকনিকটি আয়োজন করার জন্য সংগঠনের প্রেসিডেন্ট করিম সালাউদ্দিন সহ সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।
সন্ধ্যায় একরাশ স্মৃতি ও এক বুক আনন্দ নিয়ে সবাই আবার ফিরে আসলাম নিজ নিজ গন্তব্যে।অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো এই দিনটি তাদের মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। আগামী পিকনিকে আরও মনমুগ্ধকর স্পষ্ট পাবো। সেই প্রত্যাশায়।
--ড. আব্দুস সাত্তার।






