প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১২
একটি প্রসিদ্ধ বাজার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের উদাসীনতা কেন?

একটি বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; এটি একটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। ফরিদগঞ্জের চান্দ্রা বাজার তারই উজ্জ্বল উদাহরণ। কয়েক শত বছরের পুরোনো এই বাজারে তিন হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। প্রতিদিন এখানে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্য হয় এবং বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর প্রায় অর্ধকোটি টাকা ইজারা রাজস্ব পায়। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যকেন্দ্র দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কার্যত অভিভাবকহীন—বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো, এতো দীর্ঘ সময়ে বাজারটির কোনো নির্বাচিত ব্যবসায়ী কমিটি নেই। নেই নৈশপ্রহরী, নেই সিসি ক্যামেরা। ফলে ব্যবসায়ীরা যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, তেমনি বাজারের সার্বিক ব্যবস্থাপনাও দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার পণ্য রাতভর অরক্ষিত অবস্থায় রেখে বাড়ি ফিরতে হয় ব্যবসায়ীদের—এমন পরিস্থিতি কোনো আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শুধু নিরাপত্তাই নয়, চান্দ্রা বাজারের অব্যবস্থাপনার চিত্র আরও বিস্তৃত। গণশৌচাগারের অভাব, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা, রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ দোকান এবং এর ফলে সৃষ্ট যানজট—সব মিলিয়ে একটি সম্ভাবনাময় বাজার ক্রমেই অস্বাস্থ্যকর ও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠছে। বাজারে ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। ফলে এর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কেবল ব্যবসায়ীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও ভোগান্তিতে ফেলছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, ১৭ বছর ধরে এই অবস্থা চলল কীভাবে? একটি বাজার থেকে নিয়মিত রাজস্ব আদায় করা হলে তার নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। ইজারাদারকে দায়িত্ব দেওয়ার পর প্রশাসনের নজরদারি শেষ হয়ে যেতে পারে না। বরং ইজারা ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারের অবকাঠামো ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন।
নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি অবগত হওয়ার পর দ্রুত বাজার পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি আশাব্যঞ্জক। তবে শুধু আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান ও সময়বদ্ধ পদক্ষেপ। ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠন, রাতের নিরাপত্তায় নৈশপ্রহরী ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান ও গণশৌচাগার নির্মাণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের জন্য সুনির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ—এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
চান্দ্রা বাজারের ব্যবসায়ীরা কর ও ইজারা দেন, আর সাধারণ মানুষ এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তাই বাজারটির শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্থবিরতার অবসান ঘটিয়ে চান্দ্রা বাজারকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। প্রশ্নটি তাই থেকেই যায়—একটি প্রসিদ্ধ বাজার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই দীর্ঘ উদাসীনতা আর কতোদিন?







