বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০১

মঞ্চনাটকের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিন দশকের পথচলা নয়নের

সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
মঞ্চনাটকের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিন দশকের পথচলা নয়নের

মঞ্চনাটক শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনেরও একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। সেই বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে প্রায় তিন দশক ধরে নাট্যচর্চা করে যাচ্ছেন শাহরাস্তি উপজেলার নাট্যকর্মী মো. সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)। অভিনয়, সংগঠন পরিচালনা এবং সামাজিক সচেতনতামূলক নাট্য কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জেলার সংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে।

নাটকের প্রতি তাঁর আকর্ষণের শুরু ১৯৯৬ সালে। সে বছর টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর একটি মঞ্চনাটক দেখে তিনি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই ১৯৯৭ সালে শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী যুব ও মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন নাট্য ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

নাট্যজীবনে তার প্রথম অভিনয় ছিলো একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে মঞ্চস্থ নাট্যকার ও রোটারিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের লেখা ‘ভালোবাসলেই পাওয়া যায় না’ নাটকে। সেই প্রথম অভিনয়ের অভিজ্ঞতা আজও তাঁর কাছে স্মরণীয়।

দীর্ঘ নাট্যজীবনে তিনি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মঞ্চে অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর হয়ে তিনটি নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ন্যাশনাল নিউট্রিশন কর্মসূচিতে ইউনিসেফের অর্থায়নে কচুয়া, হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার প্রায় ৭০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পথনাটক পরিবেশন করেছেন। এসব নাটকের মূল লক্ষ্য ছিলো স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।

সিদ্দিকুর রহমান নয়নের অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে : ওরা বেঈমান, আশার আলো, প্রত্যাশা, জয়গুনের কথা এবং দীঘল ভাইদের কাশেম। বিশেষ করে জাতীয় স্যানিটেশন মাস উপলক্ষে মঞ্চস্থ নাট্যকার ও নাট্যনির্দেশক রোটারিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়ের লেখা ‘প্রত্যাশা’ নাটকে মফিজ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। নাটকের সংলাপ “সব মইরা যাইবো, কেউ বাঁচবো না, কারো বাঁচন নাই, স্বাস্থ্য সচেতন না হইলে” দর্শকদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই চরিত্রটিকেই তিনি তাঁর অভিনয় জীবনের সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

অভিনয়ে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে নাট্য সম্মাননা লাভ করেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াদুদ এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, টেলিভিশন অভিনেতা, উপস্থাপক, লেখক, সাংবাদিক ও নাট্যকার রোটারিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।

নাটককে তিনি শুধু শিল্পচর্চা হিসেবে নয়, সমাজ গঠনের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও দেখেন। তাঁর মতে, নাটকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা যায়, সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা যায় এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তিনি বিশ্বাস করেন, সুস্থ ধারার সংস্কৃতি চর্চা তরুণ সমাজকে মাদক, অপরাধ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

নতুন প্রজন্মের প্রতি তাঁর আহ্বান মোবাইল ও ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমিয়ে থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার। তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা মানুষকে মানবিক করে এবং সমাজকে আলোকিত করে।

ভবিষ্যতেও শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে থেকে নাট্যচর্চা অব্যাহত রাখতে চান সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)। তাঁর প্রত্যাশা, শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা বিস্তৃত হলে সমাজে অন্যায়, অবক্ষয় ও অপরাধ অনেকাংশেই কমে আসবে। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে মঞ্চনাটকের আলো ছড়িয়ে চলেছেন।

উল্লেখ্য, সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন) ১৯৮৯ সালের ৪ জানুয়ারি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার শংকরপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা আবুল কালাম ও মাতা নূরজাহান বেগম। কুলশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবনের সূচনা। পরে টামটা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং হাজীগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ ৮ বছর বাহরাইন এবং ২ বছর সৌদি আরবে অবস্থান করলেও নাটকের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনও ম্লান হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়