প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১১:৪৮
এমন উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি

স্থবির হয়ে পড়া চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘সৃজনশীল চাঁদপুর গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, আগামী ১২ জুন থেকে চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়ে উঠবে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে নানা ধরনের অনুষ্ঠানসহ তিন দিনব্যাপী নজরুল উৎসবের আয়োজন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে চলমান রাখতে শিল্পকলা একাডেমিভিত্তিক সংস্কৃতি চর্চা বাড়ানো, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নিয়মিত সংস্কৃতি চর্চা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বক্তারা। এর আগে ‘সৃজনশীল চাঁদপুর গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্কৃতি সংগঠক লিটন ভুঁইয়া। এ বিষয়ে আলোচনা করেন সংস্কৃতি সংগঠক রফিক আহমেদ মিন্টু। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় বিদগ্ধজন।
চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে গতিশীল করার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সংস্কৃতির জন্যে উর্বর চাঁদপুরের মাটিতে এমন উদ্যোগ সাফল্য খুঁজে পাবেই। ২০২০ সালে বৈশ্বিক মহামারী করোনার ধাক্কায় চাঁদপুরের গতিশীল সংস্কৃতি অঙ্গন থমকে দাঁড়ায়। করোনার রেশ প্রায় তিন বছর ছিলো। তারপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের সবচে’ বেশি পরিণতি ভোগ করতে হয় চাঁদপুরের শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনকে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জেলা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় বেশ কিছুদিন পর জোড়াতালি দিয়ে চালু করা হয় এই মিলনায়তন, যেখানে কোনো অনুষ্ঠান করা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। এ ব্যয় বহন করা অধিকাংশ সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্যে কষ্টকর। চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে বর্তমানে বিরাজিত স্থবিরতার এটিও অন্যতম কারণ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর চাঁদপুরে জেলাব্যাপী চাঁদপুর কণ্ঠের যুগোত্তীর্ণ বিতর্ক প্রতিযোগিতা, চতুরঙ্গের যুগোত্তীর্ণ ইলিশ উৎসব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন বাঁশি স্মৃতি সংসদের যুগোত্তীর্ণ চিত্রাঙ্কন বিষয়ক উৎসব ‘চিরঞ্জীব ‘৭১’, তিন দশকোত্তীর্ণ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, বর্ণচোরা ও অনন্যা নাট্য গোষ্ঠীসহ অন্যান্য নাট্য সংগঠনের নাট্যোৎসব এবং আরো অনেক বড়ো আয়োজনই বন্ধ হয়ে আছে। এগুলো চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনে বর্তমানে বিরাজিত স্থবিরতার উল্লেখযোগ্য অনেক বড়ো কারণ। এ কারণগুলোর সমাধান না হলে সংস্কৃতি অঙ্গনের স্থবিরতা প্রত্যাশিতভাবে কিংবা পুরোপুরি কাটবে না। তারপরও সংস্কৃতিপ্রেমী জেলা প্রশাসক চাঁদপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনকে গতিশীল করার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেটি কিন্তু আশাব্যঞ্জক। আমরা এ উদ্যোগের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।






