বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১১:১৮

পল্লী বিদ্যুৎ কি তার সুনামের জায়গায় আছে?

অনলাইন ডেস্ক
পল্লী বিদ্যুৎ কি তার সুনামের জায়গায় আছে?

ফরিদগঞ্জে হুকিং করে দু হাজার ইটে কয়েক ঘণ্টা পানি দিয়েছেন এক ব্যক্তি। বিষয়টি টের পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ তাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দঁাড় করায়। ওই ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বিপরীতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তি ও তার প্রতিবন্ধী চাচার বিদ্যুৎ মিটার খুলে নিয়ে আসে এবং জরিমানা স্বরূপ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করে। বিগত মাহে রমজানের সময়ের ওই ঘটনার পর ফরিদ মিজি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার জরিমানা সর্বশেষ ৩০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনেন। সেই অনুযায়ী তিনি গত সোমবার (১১ মে ২০২৬) দিনভর প্রচেষ্টা চালিয়ে ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকা সায়েম নামে এক ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে নগদ জমা দেন। রসিদ নিয়ে তিনি বাড়ি এসে দেখেন, তাকে ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকার পরিবর্তে ২০ হাজার ৮৪৬ টাকার রসিদ দিয়েছে চঁাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এভাবে পল্লী বিদ্যুতের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চির্কা গ্রামের সাধারণ ব্যবসায়ী ফরিদ মিজি বলেন, “বিদ্যুৎ লাইনে হুকিং করে আমি ভুল করেছি। আমি নিজে তা স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছি। আমাকে ক্ষমা না করে চঁাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ আমার এবং আমার প্রতিবন্ধী চাচা শাহআলম মিজির বিদ্যুৎ মিটার খুলে নিয়ে যায় এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে জমা দিতে বলে।” মাহে রমজানের সময়ের এই ঘটনায় তিনি বারবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে অনুরোধ করে জরিমানা ১ লক্ষ ২০ হাজার থেকে ধাপে ধাপে ৬২ হাজার, ৫২ হাজার, ৪৬ হাজার এবং সর্বশেষ ৩০ হাজার ৪৭৬ টাকায় নামিয়ে আনেন। ১১ মে তিনি পুরো জরিমানার টাকা জমা দেন। পরে বাড়ি গিয়ে দেখেন, তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ১২ মে দুপুর পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি। তাই তিনি বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলন করছেন। এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্যে ফরিদ মিজি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তাকে আরও ৮ হাজার টাকার একটি পরিশোধিত বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে চঁাদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম সাইফুল আলম বলেন, আমি কাগজপত্র না দেখে কিছু বলতে পারবো না।

খুব কৌশলে কথা বলে ফরিদগঞ্জে কর্মরত পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম গণমাধ্যমকে এড়িয়ে গেছেন। এভাবেই তারা গ্রাহকদেরকেও এড়িয়ে চলেন। তাদের কাছে গ্রাহকদের সমস্যার চেয়ে দালালদের সাথে সখ্যতা ও যোগসাজশ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গত ১০ মে চঁাদপুর কণ্ঠের অনলাইনে রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের যেসব অনিয়ম সম্পর্কে জানা গেলো, সে অনিয়মের সঞ্চার যে পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতে ঘটেছে, সেটা আন্দাজ করতে অসুবিধা হয় না। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করেন, যেটির কার্যক্রম শুরু হয় পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে। ৩৬ বছর পর ২০১৩ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে অধ্যাদেশটি রহিত করা হয় এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন জারি করা হয়। দুর্নীতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো)-এর পাশাপাশি সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রারম্ভিককালে যে সুনাম অর্জন করেছিলো, বর্তমানে সে জায়গায় আর নেই। ঘুষ দিলে ‘হাইকোর্ট দেখানো’ পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে যে কতো অনিয়মকে জায়েজ করা যায়, সেটার জন্যে রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। অনুসন্ধান করলে নিশ্চিত বেরিয়ে আসবে-ফরিদগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস তারচে’ কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। ফরিদ গাজী নামে একজন গ্রাহককে তার লঘুপাপের জন্যে গুরুদণ্ড দিতে গিয়ে এ অফিসটি যা হয়রানি করলো, তার চিত্র ফুটে উঠেছে ১২ মে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে, যেটির সংবাদ গতকালকের চঁাদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে এবং উপরে যার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতের প্রতিষ্ঠা যে জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে, আজ তঁারই সুযোগ্য পুত্র তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অতীতের শাসকদের চেয়ে বেশি সোচ্চার। বাস্তবে সেটার প্রতিফলন তঁার পঁাচ বছরের শাসনামলশেষে বোঝা যাবে। আমরা চাই, পিতার হাতে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আগের সুনাম পুনরুদ্ধারে জনাব তারেক রহমান আন্তরিক ভূমিকা রাখবেন। স্মর্তব্য, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এখন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। কাজেই এ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা অতীব জরুরি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়