প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৬
সাগরিকায় হয় না, মেঘনায় বারবার ইঞ্জিন-ত্রুটি হয় কেন?

চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে করে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনে বহু যাত্রী দীর্ঘ সময় আটকা পড়েন এবং ভোগান্তিতে পড়েন।
চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোর ৫টায় মেঘনা এক্সপ্রেসের চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রার আগেই ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ট্রেনটি প্লাটফর্মেই দাঁড়িয়ে থাকে। পরে চট্টগ্রাম থেকে আরেকটি ইঞ্জিন এলে ক্রুটিপূর্ণ ইঞ্জিনসহ শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১ টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়। এ বিষয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জানান, ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে ট্রেনটি সময়মতো ছেড়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে চট্টগ্রাম থেকে বিকল্প ইঞ্জিন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে ইঞ্জিন এসে বগিগুলো সংযুক্ত করার পর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ট্রেনটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এদিকে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সমস্যা সমাধান ও নিয়মিত ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শনিবার মেঘনা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন-ত্রুটির ঘটনা ঘটলো। অথচ পূর্বদিন শুক্রবার রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম-এর জিএম মো. সুবক্তগীন চাঁদপুর সফরে এসেছেন। পরদিন চাঁদপুর-চট্টগ্রামের মধ্যে প্রায় চল্লিশ বছর ধরে চলাচলকারী অভিজাত ট্রেন মেঘনা আন্তঃনগর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন-ত্রুটির কারণে সকাল ৫টায় যাত্রা শুরু করাই সম্ভব হয় নি এবং ৬ ঘণ্টা পর যাত্রা শুরু করতে হলো বিকল্প ইঞ্জিন এনে--এটা ভাবতেই অবাক হতে হয়। জিএম সাহেব যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে পূর্বদিন স্বপ্ন দেখিয়ে গেলেন, আর পরদিন যাত্রীরা হলো চরম ভোগান্তির শিকার--এটা প্রশ্নবোধক। বলা দরকার, মেঘনার ইঞ্জিন-ত্রুটি সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ক’দিন পরপরই চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে পথিমধ্যে মেঘনার ইঞ্জিন-ত্রুটির ঘটনা ঘটছে এবং যাত্রীদের উপর্যুপরি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অথচ চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের মধ্যে চলাচলকারী সাগরিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে ইঞ্জিন-ত্রুটির ঘটনা নেই বললেই চলে। গুঞ্জন আছে, রেল কর্তৃপক্ষ বেসরকারি খাতে ইজারা দেয়া সাগরিকায় ভালো ইঞ্জিন বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতন ও আন্তরিক। তার বিপরীতে মেঘনায় ত্রুটিহীন ইঞ্জিন দেয়ার ব্যাপারে উদাসীন। এর কারণ উদঘাটনে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে এবং ঊর্ধ্বতন রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালানো জরুরি হয়ে পড়েছে।




