রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫  |   ২৭ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৬

এতো হাঁকডাক, কাজ মাত্র ২৫ ভাগ!

অনলাইন ডেস্ক
এতো হাঁকডাক, কাজ মাত্র ২৫ ভাগ!

প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়েও বন্ধ চাঁদপুর আধুনিক নৌ বন্দরের নির্মাণ কাজ। এটি গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত প্রধান সংবাদের শিরোনাম। সংবাদটিতে লেখা হয়েছে, প্রকল্প ব্যয় ২৬ কোটি টাকা বাড়িয়েও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চাঁদপুরের আধুনিক নৌ বন্দরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২৫ ভাগ। বন্দরের অবকাঠামো না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবারও নতুন ঠিকাদার নিয়োগ হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দু বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের কাজ দু মাস ধরে বন্ধ। ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায় ‘চাঁদপুর আধুনিক নৌ-টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প’। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৬৭ কোটি টাকা। পরবর্তীতে এটির ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাংক ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে পাইলিং-এর কাজ শুরু করা হয়। তবে পাইলিং কাজ শেষ হলেও অর্থাভাবে নির্দিষ্ট সময়ে হয়ে উঠছে না বন্দরের নির্মাণ কাজ। ফলে গত জুন মাস থেকে নৌ-বন্দর নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

ঢাকা-চাঁদপুরসহ বিভিন্ন রুটে প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক লঞ্চ যাতায়াত করে। দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ নৌরুট হলেও কাজ চলমান থাকায় নেই যাত্রী ছাউনি, বসার ব্যবস্থা ও টয়লেট। যাত্রী সেবায় দ্রুত এই নৌ বন্দরের কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও লঞ্চ মালিকপক্ষ। ঢাকাগামী লঞ্চ যাত্রী আবু রায়হান ও রিয়াদ হোসেন জানান, চাঁদপুর লঞ্চঘাট দিয়ে সব সময় যাতায়াত করি। গত কয়েক বছর ধরে দেখছি লঞ্চঘাটের কাজ চলমান। কবে এই কাজ শেষ হবে? নতুন বন্দরের জন্যে এখানে কিছুই হচ্ছে না। বিশেষ করে যাত্রী ছাউনি, বসার স্থান, টয়লেট নেই। সবচেয়ে বড়ো সমস্যা হচ্ছে, চলমান বৃষ্টি মৌসুমে যাত্রীদের ভিজতে হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত নির্মাণ কাজ করা প্রয়োজন। ঘাটের লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি আজগর সরকার জানান, দেশের দ্বিতীয় নদী বন্দর চাঁদপুর, কিন্তু সেই ভাবে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে লঞ্চঘাটের কাজ চলমান। পাইলিংয়ের কাজ শেষ হতে না হতেই এখন আবার পুরোপুরি কাজ বন্ধ। আমরা জানতে পেরেছি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এখানে বরাদ্দকৃত অর্থ না পাওয়ার কারণে কাজ করতে পারছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দর নির্মাণ কাজ করার জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তমা কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মোশারফ হোসেন বলেন, আমি চাঁদপুর আধুনিক নৌ টার্মিনালের কাজ ও মালামাল দেখাশোনা করি। এখানে এক মাসের বেশি সময় ধরে এসেছি, তখন থেকে দেখে আসছি কাজ বন্ধ। কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে আমার জানা নেই। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চাঁদপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক (বন্দর) বসির আলী খান বলেন, আগে যেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করেছে, তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করবে মন্ত্রণালয়। নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এলে আবার হয়তো বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী বন্দর চাঁদপুরকে আধুনিকায়নের পরিকল্পনা এক দশকের বেশি সময় আগে নেয়া হয়েছে। সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নদী বন্দরের আধুনিকায়নের কাজের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। কিন্তু এর কাজ শুরু হয় পরবর্তী নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (২০১৯-২০২৪)-এর কর্মকালের শেষদিকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে এ নৌবন্দরের আধুনিকায়নের কাজ বন্ধ হয় নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন উপদেষ্টা হিসেবে ব্রি. জে. এম সাখাওয়াত হোসেন ৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে চাঁদপুর আসেন এই বন্দরের চলমান কাজ দেখতে। সবাই আশাবাদী হয় এ কারণে যে, দেশের পট পরিবর্তনে অনেক উন্নয়ন বন্ধ হয়ে গেলেও আধুনিক চাঁদপুর নৌবন্দরের কাজ বন্ধ না হয়ে চলমান রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হলো না। গত ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছর শেষ হলো তো, গত জুন মাসের পর থেকে এ নদী বন্দরের চলমান কাজও বন্ধ হয়ে গেলো। অথচ কতো হাঁকডাক হলো এ বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে। তিন সরকারের আমলে কাজ হলো মাত্র ২৫ ভাগ। এটা চরম দুঃখজনক। উন্নয়নের নামে বছরের পর যাত্রীদের যে কষ্ট দেয়া হচ্ছে, সেটা অবর্ণনীয়। আশা করি সরকার এ বন্দরের বন্ধ হওয়া কাজকে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেবে এবং খুব দ্রুত শতভাগ কাজ সম্পন্ন করে নৌযাত্রীদের আধুনিক নৌ বন্দর উপহার দেবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়