সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১

তেল, ক্রিম, না লোশন শিশুর ত্বকে কোনটি ব্যবহার করা ভালো

ডা. ফারাহ দোলা
তেল, ক্রিম, না লোশন শিশুর ত্বকে কোনটি ব্যবহার করা ভালো

তেল, লোশন বা ক্রিমের মধ্যে আসল পার্থক্যটা হলো এতে থাকা পানির পরিমাণ। তেলে জলীয় অংশ নেই বললেই চলে। ক্রিমে জলীয় অংশের পরিমাণ সামান্য। লোশনে বেশির ভাগটাই জলীয় অংশ। শিশুর ত্বক যদি খুব শুষ্ক হয়, অথবা অনেকক্ষণ ধরে ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করতে তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। লোশন খুব অল্প সময় ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে। তাই অল্প সময়ের জন্য বাইরে গেলে লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

সব তেল একভাবে তৈরি নয়; আবার সব তেল বাচ্চার গায়ে মালিশ করার উপযোগীও নয়। শুধু তেলটি প্রাকৃতিক হলেই যে তা শিশুদের উপযোগী হবে, এটাও ঠিক নয়। হালকা, নন-স্টিকি তেল, ভিটামিন ‘ই’ যুক্ত তেল এবং শিশুদের জন্য উপযোগী তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। শর্ষের তেল খুব ঘন বলে রোমকূপ বন্ধ করে দিয়ে ত্বকে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। তাই অলিভ অয়েল হতে পারে ভালো সমাধান। অবশ্য যেকোনো তেল দিলেই ত্বক আঠালো হয়ে যায়।

এতে সহজেই ধূলিকণা জমে। তাই বাইরে গেলে তেল লাগানো উচিত নয়। গোসলের পর তেল লাগানো ভালো। এ সময় ত্বকে সবচেয়ে বেশি জলীয় অংশ থাকে। আর এই জলীয় অংশকে অনেকক্ষণ ধরে রাখে তেল। সবচেয়ে ভালো প্রভাব পেতে আগে লোশন লাগিয়ে এরপর তেল লাগানো যেতে পারে। এতে ত্বক বেশিক্ষণ আর্দ্র থাকে।

নিয়মিত তেল মালিশ বা ম্যাসাজ শিশু ও মায়ের মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করে। তেল মালিশের সময় বাচ্চা তার মা অথবা অভিভাবকদের দিকে তাকায়, তাদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে ভাব আদান-প্রদান করে। এতে বাচ্চা মুখের ভাব বুঝতে শেখে, পরিবেশ ও মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে শেখে।

নিয়মিত মালিশ বাচ্চার মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র গঠনে ভূমিকা রাখে। মালিশের মাধ্যমে বাচ্চার স্ট্রেস হরমোন বা করটিসল কমে এবং সুখী হরমোন যেমন সেরোটোনিন ও ডোপামিন নিঃসরণ বাড়ে, যা কিনা বাচ্চার ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে। যেসব বাচ্চার ‘কোলিক’-এর সমস্যা থাকে, তাদের জন্য মালিশ বেশ উপকারী। মালিশের বেশ কিছু কৌশল পেটে জমে থাকা গ্যাস বের করে দিতে সাহায্য করে।

শিশুর শরীরে তেল মালিশ সব সময় আলতোভাবে আস্তে আস্তে করা উচিত। এ সময় শিশুকে শান্ত রাখার চেষ্টাও করতে হবে। শিশুদের শরীরে তেল মালিশ করার সময় খুব বেশি চাপ দেওয়া উচিত নয়। শিশুর মাথার নরম অংশে যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

তবে যে তেল, ক্রিম বা লোশনই ব্যবহার করা হোক না কেন; খেয়াল রাখতে হবেÑবাচ্চার শরীরে কোনো র‌্যাশ হচ্ছে কি না বা অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে কি না। ব্যবহৃত দ্রব্যটি যেন অ্যালকোহল, প্যারাবেন, সালফেট, কৃত্রিম রং ও কৃত্রিম সুগন্ধমুক্ত হয়, সেদিকে খেয়াল করতে হবে।

তেল মালিশের ক্ষেত্রে অনেক সময়ই নাকে তেল ঢুকে যেতে পারে। শর্ষের তেলের ঝাঁজে শিশুদের কষ্ট ও অস্বস্তি হতে পারে। এটাও খেয়াল করতে হবে। শিশুর ত্বকে কোনো অ্যালার্জি কিংবা সংক্রমণ হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সূত্র : প্রথম আলো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়