বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৯:৩৩

তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যগাথা

আঙ্গুর চাষে ‘টক ফল’ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে গড়ে তুলেছেন ১২০ জাতের বাণিজ্যিক বাগান

আব্দুল্লাহ আল মামুন
আঙ্গুর চাষে ‘টক ফল’ ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে গড়ে তুলেছেন ১২০ জাতের বাণিজ্যিক বাগান

চাঁদপুরের তরুণ উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান প্রধানিয়া প্রমাণ করেছেন—’আঙ্গুর ফল সাধারণত টক’ এই প্রচলিত ধারণা শুধুই একটি প্রবাদ, বাস্তবে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করলে আঙ্গুর হতে পারে অত্যন্ত রসালো, মিষ্টি ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক একটি ফল।

সরকারি চাকরি ছেড়ে ২০২৪ সালে তিনি সম্পূর্ণভাবে উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশ করেন এবং গড়ে তোলেন তার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান ‘প্রধানিয়া এগ্রো’। বর্তমানে তার অধীনে চারটি পৃথক কৃষি প্রজেক্ট পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে একটি ছাদ কৃষি প্রকল্পও রয়েছে।

চাঁদপুরে প্রথম বাণিজ্যিক আঙ্গুর বাগান সদর উপজেলার বাবুরহাট এলাকার কালিভাংতি ও মতলব-পেন্নাই সড়কের পাশে তিনি গড়ে তুলেছেন, যার নাম ‘প্রধানিয়া এগ্রো প্রজেক্ট-৪’, যা জেলার প্রথম বৃহৎ আঙ্গুর বাগান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ বাগান থেকেই আঙ্গুর সংগ্রহ, উন্নত জাতের চারা উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে এখানে প্রায় ১২০ ধরনের আঙ্গুরের জাত চাষ করা হচ্ছে, যা বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতও করা হচ্ছে।

বিদেশি জাত থেকে উন্নত উৎপাদন

উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান জানান, তার বাগানে চাষকৃত আঙ্গুরের অধিকাংশই রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে আনা উন্নত জাত থেকে উৎপাদিত। এখানে কালো, লাল ও বাদামি রঙের আঙ্গুর সারাবছর ধরেই উৎপাদিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসে। অনেকেই এখানে ঘুরে দেখে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পরামর্শ নেন।

স্বাদে রসালো ও মিষ্টি আঙ্গুর

বাগান পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিটি আঙ্গুর গাছে ঝুলে আছে অসংখ্য ফল, যা দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। স্বাদ পরীক্ষায় দেখা যায়, আঙ্গুরগুলো অত্যন্ত রসালো ও মিষ্টি, যা প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে দেয়।

আগত দর্শনার্থীদের আঙ্গুর খাওয়ানোর মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন যে, সঠিক চাষ পদ্ধতিতে আঙ্গুর টক নয়, বরং অত্যন্ত সুস্বাদু ফল হিসেবে উৎপাদন সম্ভব।

কৃষি উন্নয়নে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষির মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ নয়, দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী করা সম্ভব। তাই সুযোগ থাকলে সবাইকে কৃষিকাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষি বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাইনি। কিছু সময় পরিদর্শন করা হলেও বাস্তব সহায়তা খুবই সীমিত।

একটি সম্ভাবনাময় কৃষি মডেল

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানিয়া এগ্রো প্রজেক্ট-৪ চাঁদপুরসহ পুরো দেশের জন্যে একটি সম্ভাবনাময় কৃষি মডেল হতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখানে আঙ্গুর চাষ সফলভাবে প্রমাণ করছে যে, বাংলাদেশেও উচ্চমূল্যের ফল উৎপাদন সম্ভব।

কামরুজ্জামান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কৃষিতে ধৈর্য, শ্রম ও মেধা থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা নেই, বরং এটি লাভজনক ও টেকসই অর্থনৈতিক খাত হয়ে উঠতে পারে। চাঁদপুরের এই তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্য এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্যে অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়