বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০৯:২৮

কিছু ক্ষেত্রে যখন মায়েদের ব্যর্থতা-

অনলাইন ডেস্ক
কিছু ক্ষেত্রে যখন মায়েদের ব্যর্থতা-

ঘরের সকলে যখন বাইরে, তখন নির্জন ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো খাদিজা আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরী। মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত খাদিজা আক্তার ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। মৃতের পরিবারের বরাত দিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহআলম বলেন, দুপুরে খাদিজাকে বাড়িতে রেখে তার মা ব্যক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যা ৬টার সময় তিনি বাড়িতে এসে দেখেন, তার মেয়ে নিজেদের বসতঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। এ সময় তার ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশকে খবর দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে খাদিজা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শাহরাস্তি উপজেলায় কিশোরী মেয়েকে রাতে একা ঘরে রেখে এক মা বারবার গিয়েছে বাবার বাড়ি। এ সুযোগে লম্পট বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণ করার সুযোগ নিয়েছে। যার ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। আর এতে সৃষ্টি হয় তোলপাড়। দানা বাঁধে ক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ মানুষ বাড়িঘরে হামলা চালাবার প্রস্তুতি নেয়। মেয়েটিসহ পালিয়ে যায় পরিবারের সকলে। মেয়েটির মা গোপনে থানায় এসে ধর্ষক বাবার বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ এই বাবাকে আটকও করে। এ ঘটনা পাঠকের মন থেকে এখনও মুছে যায় নি। এরই মধ্যে একাকী ঘরে শিশু এবং যুব ও কিশোর বয়সী মেয়েকে রেখে মায়েদের অন্যত্র গমনের কারণে আত্মহত্যা ও ধর্ষণ কিংবা অন্য কিছু ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গেছে চাঁদপুর জেলায় কিংবা দেশের অন্য কোথাও। সর্বশেষ ফরিদগঞ্জে কিশোরী খাদিজার আত্মহননের খবরটি পাওয়া গেলো। মেয়েটিকে প্রতিবেশী কোনো মেয়ে/নারীর জিম্মায় না রেখে, নির্জন ঘরে রেখে তার মা এমন কী জরুরি ব্যক্তিগত কাজে ঘরের বের হলেন, সেটা নিয়ে কথা বলার ফুরসত আছে, প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে। হয়তো শোকাহত মাকে সে কথা ও প্রশ্নবাণে কেউ জর্জরিত করবে না। শিশু, কিশোরী ও যুব বয়সী মেয়েদেরকে দিনে ও রাতে কক্ষণোই ঘরে একা রেখে যাওয়া ঠিক নয়, কারণ একাকিত্বে তারা বহুমাত্রিক বিপথগামিতায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কিংবা বিপদের সম্মুখীন হবার ঝুঁকি থাকে। এটা প্রতিটি মায়ের জানা দরকার, উপলব্ধিতে থাকা দরকার। এক্ষেত্রে উদাসীনতা সন্তানের বিপদ ডেকে আনেই। সর্বশেষ যার প্রমাণ কিশোরী খাদিজা।

সন্তানদের প্রতি মায়েদের অপরিসীম অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতা বা সচেতনতার অভাব সন্তানদের জন্যে বিপদ ডেকে আনে কিংবা তাদেরকে বিপথগামিতায় আক্রান্ত করে। ফরিদগঞ্জের কিশোরী খাদিজা কোনো হতাশা কিংবা মায়ের কোনো কাজে বা আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে আত্মহত্যা করলো, না নির্জন ঘরে তাকে কেউ ধর্ষণ করে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজালো সেটা নিয়ে তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা তার পরিবার, পুলিশ কিংবা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের অনুভবের আওতায় আনবে না। তবে এমন আরো সব ঘটনা, যা অতীতে ঘটেছে ও ভবিষ্যতে ঘটবে, সেটা নিয়ে সুধী পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের ভাববার যথেষ্ট অবকাশ আছে। সেমতে সমাজকে সতর্ক করার দায়িত্ব তাদের কাঁধে পড়েই। সেটা কি তারা করবেন?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়