প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩২
সাক্ষাৎকার : প্রফেসর ড. মো. মাসুদ হোসেন
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাওয়া সম্মাননা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি

শিক্ষকতা, গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ হোসেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলেজ পর্যায়ে জাতীয় এই সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। ৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। এর আগে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও একাধিকবার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাঁর শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, গবেষণা, শিক্ষার সংকট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের শিক্ষাঙ্গন বিভাগের সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমিন হোসাইন।
আপনার শৈশব ও কৈশোর কোথায় কেটেছে? শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পথচলার গল্পটি জানতে চাই।
ড. মো. মাসুদ হোসেন: আমার জন্ম চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামে। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে সেখানেই। বাড়ির সামনেই ছিল পাইকপাড়া বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানেই আমার প্রাথমিক শিক্ষার শুরু। পরে পাইকপাড়া গোবিন্দ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ফরিদগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তি হই। সেখান থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করি। পরবর্তী সময়ে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কোর্সে ভর্তি হই। ‘অহধষুংরং ড়ভ জবমরড়হধষ উরংঢ়ধৎরঃু ড়ভ চড়াবৎঃু রহ ইধহমষধফবংয’ শীর্ষক গবেষণার জন্য ২০১৪ সালের ২২ মার্চ পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করি।
শিক্ষকতা পেশায় আসার স্বপ্ন কীভাবে তৈরি হয়েছিল? এই পেশা বেছে নেওয়ার পেছনে বিশেষ কোনো অনুপ্রেরণা ছিল কি?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: একসময় আমার শিক্ষক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ করার পর সরাসরি শিক্ষকতায় আসা হয়নি। প্রথমে বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পেও যুক্ত ছিলাম। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেছি। আমার বিষয় যেহেতু ভূগোল ও পরিবেশ, তাই পরিবেশ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ ছিল। একপর্যায়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সঙ্গে যুক্ত হই। সেখানে কর্মসূচি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করি। পরে ২২তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেওয়ার সুযোগ হয়। ২০০৩ সালের ১০ ডিসেম্বর ভোলা সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগে যোগদান করি। মূলত বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়াই আমার শিক্ষকতা পেশায় আসার পথ তৈরি করে দেয়।
শিক্ষক হিসেবে প্রথম যেদিন দায়িত্ব পালন শুরু করেছিলেন, সেদিনের অনুভূতি কেমন ছিল? সেই দিনের কোনো স্মৃতি কি এখনো মনে পড়ে?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: প্রথম কর্মস্থল ছিল ভোলা সরকারি কলেজ। ঢাকায় থাকতাম। ৯ ডিসেম্বর রাতে লঞ্চে রওনা দিয়ে ১০ ডিসেম্বর সকালে ভোলায় পৌঁছাই। সকাল সাড়ে আটটার দিকে কলেজে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করি। এরপর বিভাগে গেলে বিভাগীয় প্রধান জানান, পরদিনই আমাকে ক্লাস নিতে হবে। ১১ ডিসেম্বর অনার্সের একটি ক্লাসে প্রথম পাঠদান করি। মজার বিষয় হলো, আমার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষকও সেদিন ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন। ক্লাস শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছিলাম। তাঁদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছিল। শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হওয়ার সেই প্রথম অভিজ্ঞতা আজও মনে আছে। নতুন শিক্ষকদের আমি বলি, প্রথম ক্লাসটি যেন ভালোভাবে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ প্রথম ক্লাসের অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষকের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনার পেশাগত জীবনের উল্লেখযোগ্য দায়িত্ব, কাজ ও অর্জনগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
ড. মো. মাসুদ হোসেন: কর্মজীবনে যেখানেই কাজ করেছি, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিজের জায়গা থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। ভোলা সরকারি কলেজে ভূগোলের পাশাপাশি কম্পিউটার শিক্ষার ক্লাসও নিয়েছি। সেখানে প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালন করি। এরপর মুন্সিগঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ডক্টর ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রভাষক পদে যোগ দিই। সেখানে প্রায় দেড় বছর কাজ করেছি। ওই প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় প্রশাসনিক দায়িত্বেও ছিলাম। পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা সম্পন্ন করি। ২০১৩ সালের মার্চ মাসে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে যোগদান করি। এরপর থেকে একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কলেজের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত রয়েছি। কলেজের ডিজিটালাইজেশন ও আধুনিকায়নে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও সিটিজেন চার্টার প্রণয়ন, কলেজের ওয়েবসাইট হালনাগাদ, অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম চালু এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রকাশের উদ্যোগে যুক্ত ছিলাম। এ ছাড়া কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও স্মার্ট বোর্ড স্থাপন এবং পুরো ক্যাম্পাসকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ করেছি। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের সিইডিপি-আইডিপি প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি।
আপনার দৃষ্টিতে বর্তমানে চাঁদপুরের শিক্ষা খাতের প্রধান সংকট ও চ্যালেঞ্জগুলো কী? এসব উত্তরণে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: চাঁদপুরসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এখন একটি বড় সমস্যা হলো শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানবিমুখতা। বিশেষ করে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি কম। আমরা ফোন করে, বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কলেজে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায় না। এ সংকট কাটাতে প্রথমে পরিবারকে এগিয়ে আসতে হবে। অভিভাবকদের সন্তান কলেজে যাচ্ছে কি না, কেন যাচ্ছে না, নিয়মিত ক্লাস করছে কি না, সেদিকে নজর দিতে হবে। আরেকটি সমস্যা হলো অনলাইন কার্যক্রম ও কোচিংনির্ভরতা। অনেক শিক্ষার্থী কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে অনলাইন কার্যক্রম, প্রাইভেট বা কোচিংয়ে সময় দেয়। কলেজের ক্লাস চলাকালে এসব কার্যক্রম থেকে শিক্ষার্থীদের বিরত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। যে শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাস করে, তার সঙ্গে অনিয়মিত শিক্ষার্থীর জ্ঞানের পার্থক্য তৈরি হয়। ক্লাসে শিক্ষক সরাসরি বিষয় বুঝিয়ে দেন, শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন করার সুযোগ পায়। ফলে তাদের শেখার গভীরতা বাড়ে। ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ক্লাস করা শিক্ষার্থীরা অনেক সময় এগিয়ে থাকে। তাই শিক্ষার্থীদের আবারও শ্রেণিকক্ষমুখী করা জরুরি।
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি কেমন? এই অর্জনের পেছনে আপনার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের কোন অবদানগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে অবদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পাওয়া এ সম্মাননা আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। এজন্যে প্রথমেই মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই। তিনি আমাকে এই সম্মান অর্জনের সুযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আমার পরিবার, প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী এবং দীর্ঘ পথচলায় যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড রয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি সেগুলো পূরণ করতে। এর মধ্যে গবেষণা, বই ও প্রকাশনা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্য। ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলাম। এরপর ২০১৯, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৬ সালে চাঁদপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের স্বীকৃতি পেয়েছি। প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এপিএ পুরস্কার ও শুদ্ধাচার পুরস্কারও পেয়েছি। এবার জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়াটা আমার জন্য বিশেষ আনন্দের। দীর্ঘদিনের কাজের একটি জাতীয় স্বীকৃতি পেলাম। এ অর্জন আমাকে ভবিষ্যতেও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় গবেষণার পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী? গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: গবেষণার সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায়ে এক রকম নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সরকারি কলেজ পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ অনেক সীমিত। এখানে পর্যাপ্ত বাজেট থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রকল্প থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। ফলে কলেজ পর্যায়ের অনেক শিক্ষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে গবেষণা করেন। আমার মনে হয়, কলেজ পর্যায়ে গবেষণা বাড়াতে সরকারকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার জন্য আলাদা অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এতে কলেজ পর্যায়ে গবেষণার পরিধি বাড়বে। গবেষণার ফলাফল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: নতুন প্রজন্মের শিক্ষকদের কাছে আমার পরামর্শ, তাঁদের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে যেন শিক্ষার্থী থাকে। ক্লাসকে আকর্ষণীয় ও আনন্দমুখর করতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্লাসে আগ্রহ নিয়ে আসে এবং আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, সে চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা প্রয়োজন। বিশেষ করে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। নতুন নতুন শিক্ষণপদ্ধতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষকদের পরিচিত হতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠদান আরও কার্যকর ও উপযোগী হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: শিক্ষার্থীদের অবশ্যই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। শেখার সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো শ্রেণিকক্ষ। ক্লাসে কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে পরে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে হবে। শিক্ষককে বলতে হবে, কোন বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে। একজন শিক্ষক সব সময় শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকেন। ক্লাসে হয়তো কোনো শিক্ষার্থী পুরো বিষয়টি বুঝতে পারে না। পরে সে শিক্ষকের কাছে গেলে শিক্ষক আবার বুঝিয়ে দিতে পারেন। এভাবে শিক্ষার্থীর জ্ঞানের গভীরতা বাড়ে। তার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। নতুন কিছু জানার আগ্রহও তৈরি হয়। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করা এবং শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে অবসর সময় কীভাবে কাটান?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: অবসর সময়ে মূলত লেখালেখি করার চেষ্টা করি। অনলাইনে বিভিন্ন বইপত্র পড়ি। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা জার্নাল পড়ি। পড়াশোনা ও লেখালেখির মধ্য দিয়েই সময় কাটাতে ভালো লাগে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কোনো বিশেষ স্বপ্ন আছে কি?
ড. মো. মাসুদ হোসেন: আমার পরিবেশ নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আমাদের মূল উদ্বেগ হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। আমরা যদি পরিবেশ রক্ষা করতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় বিপদের মুখে পড়বে। বিশ্বজুড়েই এখন পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আমার ইচ্ছা, কর্মজীবনের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবেশ নিয়ে কাজ করব। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রেও নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখতে চাই।






