বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:১৯

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি 'অবৈধ' ঘোষণা ও ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনঃভর্তি ফি 'অবৈধ' ঘোষণা ও ডিজিটাল পেমেন্ট বাধ্যতামূলক
​ মো. জাকির হোসেন

​দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের ওপর চেপে বসা ‘পুনঃভর্তি ফি’ বা সেশন চার্জের বোঝা চিরতরে বন্ধ হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্যে জারি করা কঠোর নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, একই বিদ্যালয়ে এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়া যাবে না। একে ‘অবৈধ’ ও ‘আইনত দণ্ডনীয়’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

​টাকা লেনদেনে ক্যাশ নিষিদ্ধ

মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি নগদে কোনো প্রকার ফি গ্রহণ করতে পারবে না। সব ধরনের লেনদেন অবশ্যই নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

​অভিভাবকদের স্বস্তি ও উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ

দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকরা অভিযোগ করে আসছিলেন যে, প্রতি বছর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা পুনঃভর্তি ফি আদায় করা হয়, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্যে বড়ো বোঝা। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে এ নিয়ে একটি রিট আবেদনও করা হয়, যেখানে এই ফি-কে ‘নীরব শোষণ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণের পর শিক্ষা প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

​নতুন নির্দেশনার প্রধান দিকসমূহ : ​পুনঃভর্তি ফি বাতিল : একই প্রতিষ্ঠানে পুরনো শিক্ষার্থীদের জন্যে কোনো ভর্তি প্রক্রিয়া বা ফি থাকবে না।

​ডিজিটাল লেনদেন : টিউশন ফি থেকে শুরু করে যাবতীয় পাওনা অনলাইন বা ব্যাংকিং চ্যানেলে নিতে হবে।

​অতিরিক্ত ফি ফেরত : নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা আদায় করলে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমতি বা স্বীকৃতি বাতিলের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

​মনিটরিং সেল : উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে, যারা ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ফি আদায়ের বিষয়টি তদারকি করবেন।

​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, "শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ফলে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ থাকবে এবং অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ বন্ধ হবে।"

​চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক নামি-দামি স্কুল এখনো সংগোপনে এই ফি আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নতুন এই নির্দেশনা জারির পর সাধারণ অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন দেখার বিষয়, মাঠ পর্যায়ে এই নির্দেশনা কতোটুকু কার্যকর হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়