বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৮

ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানি-স্বল্পতা প্রসঙ্গে

অনলাইন ডেস্ক
ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানি-স্বল্পতা প্রসঙ্গে

ফরিদগঞ্জে সেচখালে পানির স্বল্পতার কারণে এবং পানির পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করতে না পারার কারণে কৃষকরা জমিতে আবাদকৃত ফসল রক্ষা করতে পারছেন না। এমন অবস্থা চলছে পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নে দক্ষিণ কড়ৈতলী এলাকায়। জানা যায়, পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কড়ৈতলী এলাকার সেচ এলাকাগুলোতে চলতি আমন মৌসুমের ধান রোপণ করেন কৃষকরা। রোপণকালে ওই এলাকার সেচখালে পানি থাকায় যোগীকান্দি সেচ পাম্প দিয়ে পানি সরবরাহ করেন পাম্প ম্যানেজার। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে সেচখালে পানি-স্বল্পতার কারণে সেচ পাম্প দিয়ে পানি যাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা বেকায়দায় পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, ধান রোপণের প্রথম পর্যায়ে একাধিক প্রচেষ্টায় পানির ব্যবস্থা করতে পারলেও দ্বিতীয় ধাপে পানি ব্যবস্থা করতে পারছেন না পাম্প ম্যানেজার মিজানুর রহমান। যথাসময়ে ধানের চারায় পানি না দিলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে করে কৃষকদের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। কৃষক আলমগীর দর্জি, তাফাজ্জল পাটওয়ারী, তসলিম গাজী, ওমর ফারুকসহ অনেকেই জানান, আমরা যে পরিমাণ পানি পাওয়ার কথা, সে পরিমাণ পানি পাচ্ছি না। ধানের চারা রোপণের সময় টেনেটুনে পানি দিয়ে রোপণ করেছি, কিন্তু বর্তমানে ক্ষেতে কোনো পানি দিতে পারছি না। আমাদের কয়েক একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমি ফেটে গেছে, পানি না থাকায় কিছু কিছু জমিতে ধানের চারা জ্বলে গেছে। এ অবস্থায় আমাদের ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছে। এ সময় পানি না পেলে আমরা বড়ো ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। যোগীকান্দি পাম্প ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, খালে পানি না আসলে আমি কীভাবে ক্ষেতে পানির ব্যবস্থা করবো। এদিকে খাল ভরাট হয়ে আছে, খাল খনন না করলে পানি আসবে কীভাবে? যে যার মতো করে খাল দখল করে আছে। পানি পেতে হলে খালগুলো দ্রুত খনন করতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, পাইকপাড়া দক্ষিণ, গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের কিছু এলাকায় সেচের পানির সমস্যা হওয়ার কথা জেনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে, কয়েকদিন মেঘনা নদীতে পানি কম ছিলো। আশা করছি নদীতে পানি বাড়লে এ সমস্যা কেটে যাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড মেঘনায় পানি বাড়ার প্রসঙ্গ এনেছে পরিস্থিতি সাময়িক সামাল দিতে। কিন্তু তারা খাল খননের আবশ্যকতা কি অস্বীকার করতে পারবে? শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খননের কর্মসূচি ব্যাপকভাবে বাস্তবায়ন করে দেশে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়ে অসামান্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তাঁর গড়া দল বিএনপি ২০ বছর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলো। আমাদের অনুরোধ থাকবে, স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচিতে যেন তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিক্ত হলেও সত্য এই যে, খাল খননের নামে আমাদের দেশে গৃহীত প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় সর্বত্র পুকুর চুরি হয়। এ চুরিরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচির অনিবার্যতা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীসহ দেশের সর্বশ্রেণীর নাগরিকের দেশগড়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়