বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৮

রমজানেও কি থাকবে গ্যাস সমস্যা? চিন্তিত মানুষ

আশা করি সেহরি ও ইফতারের সময় গ্যাসের সমস্যা হবে না, রাত দুটার পর গ্যাস পাবেন :

বাখরাবাদ ব্যবস্থাপক

মো. মিজানুর রহমান।।
আশা করি সেহরি ও ইফতারের সময় গ্যাসের সমস্যা হবে না, রাত দুটার পর গ্যাস পাবেন :

মাহে রমজানকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলা শহর ও এর আশপাশে তীব্র গ্যাস সংকট জনজীবনে চরম দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাত এগারোটার পর থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা এবার শীত মৌসুমে অনেকটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ আজ হতে শুরু রোজা। ইফতার ও সেহরির সময় রান্নায় বাধা সৃষ্টি হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত মানুষ। রাতের বেলায় গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে, যা নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের সাথে নতুন দুশ্চিন্তা যোগ করেছে।

রমজানের প্রস্তুতিতে গ্যাস সঙ্কটে ইফতার ও সেহরি তৈরি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন রোজাদাররা। বিকল্প হিসেবে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় মানুষ এলপিজি সিলিন্ডার বা ইলেকট্রিক চুলা ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, যা খরচ বাড়াচ্ছে।

বাবুরহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা সবুজ মালের স্ত্রী গৃহিণী ফারজানা আক্তার জানান, মঙ্গলবার রাতে আমি আমার ছেলের জন্যে সকালের খাবার তৈরি করছিলাম। মাছ ও সবজি রান্নার পর চুলায় গ্যাস পাইনি। রাত এগারোটার পর থেকে গ্যাস নেই। সেই গ্যাস পরের দিন সকালে এসেছে। তখন রান্না বন্ধ করে বিপাকে পড়তে হয়। যদি রমজানেও এই অবস্থা থাকে, খুবই উদ্বিগ্ন হবো।

পুরাণবাজার মেরকাটিজ রোডের বাসিন্দা কলেজ পড়ুয়া শিহাব বেপারী একই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে জানান, বানানো চা মামার জন্যে গরম করতে গিয়ে দেখি চুলায় গ্যাস নেই। তখন আর মামাকে চা দিতে পারেনি। রাতের বেলায় গ্যাস থাকে না। তিনি নিশ্চিত নন রমজান শুরু হওয়ার আগে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না। এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্যে জনমনে দাবি জোরালো হচ্ছে।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) চাঁদপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার মীর ফজলে রাব্বি জানান, মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে আমাদের মিটিং হয়েছে। মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, রমজান মাসে আমাদের মেইন প্রায়োরিটি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে আমাদের গ্যাস লাগবে। সেহরি ও ইফতারির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। রাত ২টার পর থেকে গ্যাস পাবেন। রাত এগারোটা হতে রাত দেড়টা পর্যন্ত গ্যাসের সর্বোচ্চ সংকট না হলে গ্যাস বন্ধ থাকতে পারে।

তিনি বলেন, দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। মোট চাহিদার পাঁচ ভাগের তিনভাগ আমরা সরবরাহ করতে পারছি, দু ভাগ পাচ্ছি না। এটা আমাদের ম্যানেজ করতে হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গ্যাস দিতে হয়। সেচের জন্যে বিদ্যুৎ লাগে। সরকার গ্যাস ডাইভার্ট করে দিচ্ছে বিদ্যুৎ চালানোর জন্যে। আমরা শুধু মেকানিজম করি। সেন্ট্রাল থেকে যেদিন সংকট হবে, ওই সময় গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত হতে পারে। আশা করি এবার সেহরি ও ইফতারের সময় গ্যাসের সমস্যা হবে না ইনশাল্লাহ। আজকে থেকে রাত ২টা থেকে গ্যাস পাবেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়