বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:০৪

রামগঞ্জের শাহমিরান মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থীর ১জনও পাস করেনি

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
রামগঞ্জের শাহমিরান মাদ্রাসার ১২ শিক্ষার্থীর ১জনও পাস করেনি

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার হযরত শাহ মীরান আলিম মাদ্রাসা থেকে এবারের আলিম পরীক্ষায় ১ জন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রাজনৈতিক প্রভাব, অভিভাবকদের অসচেতনতায় দ্বীনি এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে এমন করুণ অবস্থায় নিয়ে গেছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন।

এমতাবস্থায় আলোর পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তকরণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ১৪ টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এই ১৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হযরত শাহ মিরান আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু এই ১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১ জন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। ২০২৫ সনে এই মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষায় পাস করেছিল মাত্র ১ জন।সরজমিনে পরিদর্শন কালে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে আলিম বিভাগে যারা পাঠ দিচ্ছেন তারা একেবারেই অপরিপক্ক, আর তাছাড়া শিক্ষকগণ বেশিরভাগ সময়ই ক্লাস না নিয়ে বাইরে আড্ডায় মেতে থাকেন। স্থানীয় লোকজন জানান, রাজনৈতিক দলাদলি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে আজ এই অবস্থায় পৌঁছেছে মাদ্রাসাটি।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল গাফফার ভূঁইয়া জানান,১৯৯৬ সনে আলিমে উত্তীর্ণ হওয়া মাদ্রাসাটি ঐতিহ্য হারিয়েছে। কোন্দল এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ বারেরও বেশি সালিশ বৈঠক হয়েছে। এরপরও কোন মীমাংসা হয়নি। তিনি জানান মাদ্রাসাটিতে নিয়মিত কমিটি নেই।

অসচেতন অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় অমনোযোগী সহ বিভিন্ন কারণে আজ মাদ্রাসাটির এ দশা।

অভিভাবক সদস্য মোঃ জাকির হোসেন মাসুদ জানান, আলিম বিভাগে ৮ জন শিক্ষক প্রভাষক স্কেলে বেতন উত্তোলন করেন অথচ বছর শেষে তারা একজন শিক্ষার্থীকেও পাস করাতে পারেন না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

রামগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার শরিফ উল্লা আস শামস মাদ্রাসাটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা স্বীকার করে বলেন, এ বছর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে মাদ্রাসাটি হতে একজন শিক্ষার্থী ও পাস করতে পারেনি, এই শোচনীয় ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হবে বলে তিনি জানান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়