প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৪
পদ্মায় ২ কোটি টাকার চালসহ ট্রলারডুবি
দিশেহারা পুরান বাজারের ৮ ব্যবসায়ী

নৌপথে চাঁদপুরে চাল পৌঁছানোর আগেই পদ্মা নদীতে ঘটে গেলো এক মর্মান্তিক ট্রলারডুবির ঘটনা। পাবনা, দিনাজপুর ও রাজবাড়ি অঞ্চল থেকে আনা চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারের ৮জন চাল ব্যবসায়ীর প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিপুল পরিমাণ চাল পদ্মার গ্রাসে তলিয়ে গেছে পানির নিচে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
|আরো খবর
পাবনা নগরবাড়ির উত্তরা ট্রান্সপোর্টের প্রতিনিধি ফরহাদ হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে চাঁদপুরের ৮জন ব্যবসায়ীর খরিদকৃত মোট ৫ হাজার ৪৬০ বস্তা বিভিন্ন প্রকারের চাল নিয়ে ‘হৃদয় পরিবহন’ নামের একটি ট্রলার চাঁদপুর নদীবন্দর পুরান বাজার ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে ট্রলারটি মাওয়া ঘাটের ভাটিতে নড়িয়ার পদ্মা নদীর ‘পালের চর’ নামক এলাকায় পৌঁছালে আকস্মিক তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের কবলে পড়ে। এ সময় ট্রলারের মাঝি নিয়ন্ত্রণ হারালে চালের বস্তাসহ পুরো ট্রলারটি নদীতে নিমজ্জিত হয়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের মাঝিসহ মোট ৫জন আরোহী ছিলেন। ট্রলারটি ডুবতে দেখে তাদের আর্তচিৎকারে নদী তীরে ও আশপাশে থাকা স্থানীয় জেলেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং তাদের অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে মালামালসহ ট্রলারটি সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ডুবে যাওয়া ট্রলার ও চালের বস্তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চাঁদপুর পুরান বাজারের অন্যতম বিশিষ্ট চাল ব্যবসায়ী হাজী সিরাজ খান, রফরফ ট্রেডার্সের আনিস বেপারী, জোসনা আটা মিলের বিপ্লব গোপ এবং টুকু হাজীসহ মোট ৮জন ব্যবসায়ী মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডুবে যাওয়া চালের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি। রাতারাতি এ ধরনের বিশাল অঙ্কের মূলধন হারিয়ে এখন দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। এদিকে চাঁদপুরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরানবাজারের ব্যবসায়ীদের এই অপূরণীয় ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার অনুরোধ জানান।








