প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০৮
এনসিপি নেত্রীর বাবা-মা আহত, সংসদ সদস্যকে খোলা চিঠি

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) নির্বাচনী এলাকার আঞ্চলিক সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল ও ফিটনেসবিহীন বাসের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে 'জৈনপুর এক্সপ্রেস' নামক বাসটির বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত বেপরোয়া গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলছেন পথচারীরা। সর্বশেষ এই বাসের ধাক্কায় অল্পের জন্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন চাঁদপুর জেলা এনসিপির মতলব অঞ্চলের নেত্রী ইসরাত জাহান বিন্দুর বাবা ও মা। দুর্ঘটনায় তারা উভই আহত হয়েছেন।
|আরো খবর
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী স্ট্যাটাসে এ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেন ইসরাত জাহান বিন্দু। একই সঙ্গে এলাকার জানমালের নিরাপত্তা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে মতলবের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ড. জালাল উদ্দিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে ইসরাত জাহান বিন্দু উল্লেখ করেন, দ্রুতগামী 'জৈনপুর এক্সপ্রেস' বাসটি ধাক্কা দিলে তার মা-বাবাকে বহনকারী গাড়িটি সড়কের কিনারে ছিটকে পড়ে। এতে তার মা-বাবা আঘাত পান। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ড. জালাল উদ্দিনের কাছে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “আপনি এই এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। আজ আমার বাবা-মা বেঁচে ফিরেছেন, কিন্তু প্রশ্ন হলো আর কত পরিবার এমন দুর্ঘটনার শিকার হলে আমাদের সড়কগুলো নিরাপদ হবে? কত মানুষের প্রাণহানি ঘটলে এসব বেপরোয়া বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে?”
নেত্রী ইসরাত জাহান বিন্দু মতলবের সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, চালকদের বেপরোয়া গতি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ ও জবাবদিহি নিশ্চিতের জোর দাবি জানান তিনি, যাতে অন্য কোনো পরিবারকে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মতলবের সড়কগুলোতে জৈনপুর এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার ও স্থানীয় বাসের বেপরোয়া গতি সত্ত্বেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। নিয়মিত ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান না চালালে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।








