প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:১৬
ছয় বছরেও শেষ হয়নি বিষারা সেতুর কাজ
জমি অধিগ্রহণ ছাড়াই শুরু, অ্যাপ্রোচ সড়কে এলাকাবাসীর বাধা

শাহরাস্তি উপজেলার ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন বিষারা-নবাবপুর সেতুর কাজ ছয় বছর পার হলেও শেষ হয়নি। মূল সেতুর কাজ প্রায় শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ না করায় আটকে আছে অ্যাপ্রোচ (সংযোগ) সড়কের নির্মাণকাজ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ না করেই মূল সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছিল। সম্প্রতি অ্যাপ্রোচ সড়কের বরাদ্দ দেওয়া হলেও ক্ষতিপূরণের দাবিতে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় জনগণ।
|আরো খবর
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ জুলাই ৮১ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সুরমা এন্টারপ্রাইজ’। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। মূল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ কোটি টাকা। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাতে গতি কমিয়ে দেয়।
বর্তমানে মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও বিপত্তি বেঁধেছে সংযোগ সড়ক নিয়ে। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বরাদ্দে অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজ পায় ‘সুন্দরবন এন্টারপ্রাইজ’। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নদীর পশ্চিম অংশে কাজ শুরু করতে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের বাধায় তা বন্ধ হয়ে যায়।
বিষারা পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদের সভাপতি আলী আজম জানান, "বিগত সরকারের আমলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলোচনা না করেই জমি অধিগ্রহণ ছাড়া মূল সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।" ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ইতোমধ্যে ১৩টি খতিয়ানের বিবরণসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, "বাবার সূত্রে পাওয়া মাত্র দুই শতক জমিতে ঘর তুলে সন্তানদের নিয়ে বাস করছি। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে এই জমি হারালে আমাদের পথে বসতে হবে।"
এ বিষয়ে শাহরাস্তি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মইনুল ইসলাম জানান, "অ্যাপ্রোচ সড়কের দরপত্র সম্পন্ন হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়টি প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেই দরপত্র আহ্বান করা উচিত ছিল।"
শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন বলেন, "বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এ নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের সাথে কথা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ডিসিকে /এমজেডএইচ








