প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:২৭
কোটবাড়ির লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে সিসিএন পলিটেকনিকের প্রযুক্তি মেলা

চালকদের ঘুম ভাঙানোর অ্যালার্ম চশমা, ফেলে দেওয়া মাছের আঁশ ও মুরগির পালক থেকে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক, মানুষের হাঁটার শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কাঠের টুকরা ও ভাতের মাড় দিয়ে তৈরি আধুনিক পেভার ব্লক—এমন সব চমকপ্রদ উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছেন কুমিল্লার সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা।
|আরো খবর
কুমিল্লার কোটবাড়ির লালমাটির লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত সিসিএন ক্যাম্পাসে বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী গবেষকদের নানা উদ্ভাবন ও সৃজনশীল চিন্তার ফসল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় 'ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ, বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপন, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্মার্ট টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট, গ্রিন ইনোভেশন, স্টার্টআপ অ্যান্ড বিজনেস ইনোভেশন এবং জেনারেল ইনোভেশনসহ মোট ৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৯টি প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়।
বুধবার সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের পক্ষে মেলার উদ্বোধন করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন চন্দ্র রায়। তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এসব গবেষণা প্রকল্প নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুপুরে মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন ও নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরী, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান, সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তানজিনা ইসলাম চৌধুরী সিনথিয়া এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক সোহাগ। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সমন্বয় ও সঞ্চালনায় ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের ডেপুটি সিইও ইফতেখারুল ইসলাম চৌধুরী সিয়াম।
মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে 'অ্যান্টি স্লিপ অ্যালার্ম ফর ড্রাইভার’, দ্বিতীয় হয় ‘স্মার্ট ব্লাড ডোনেশন অ্যান্ড সার্চিং’, তৃতীয় ‘স্মার্ট ড্রেনেজ সিস্টেম’, চতুর্থ হয় ‘বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক’ এবং পঞ্চম স্থান অর্জন করে *‘ন্যাচারাল ফাইবার রিইনফোর্সড পেভার ব্লক’ প্রকল্প।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিশ্ব এখন প্রযুক্তিনির্ভর। সিসিএনের শিক্ষার্থীরা আজ প্রমাণ করেছে, তারা প্রযুক্তিতে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পগুলো আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এসব প্রকল্প বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করা গেলে কুমিল্লার সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সিসিএনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সিসিএন ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়। স্মার্ট ও আধুনিক কুমিল্লা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, এসব প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।








