বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ২২:০৪

ওয়ারুকে মোতাওয়াল্লীর বিরুদ্ধে মসজিদের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি ভোগ করার অভিযোগ।। মুসল্লিদের বিক্ষোভ

সংবাদদাতা।।
ওয়ারুকে মোতাওয়াল্লীর বিরুদ্ধে মসজিদের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি ভোগ করার অভিযোগ।। মুসল্লিদের বিক্ষোভ

শাহরাস্তির ওয়ারুক মুরাদ বাড়ি জামে মসজিদের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তছরুপ করার অভিযোগ এনে মোতাওয়াল্লী মো. নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বিকেলে উপজেলার ওয়ারুক বাজারে এ মানববন্ধন করা হয়।

এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, ১৯৫৮ সালে মসজিদের নামে প্রায় ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি নিবন্ধিত হয়। দলিলের শর্ত অনুযায়ী ওই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় মসজিদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হওয়ার কথা। আয় বৃদ্ধি পেলে শর্ত মোতাবেক একটি অংশ দাতার ওয়ারিশদের এবং বাকি অংশ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করার বিধান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব দেয়া হয়নি। এতে মসজিদের আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনের সম্মানী, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয় মিলে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হলেও আয় হচ্ছে প্রায় ১৪ হাজার ২০০ টাকা। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ টাকার ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিগত বছরগুলোতে একাধিকবার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং থানায় অভিযোগ দেয়া হয়। পরে তদন্ত সাপেক্ষে মোতাওয়াল্লী অঙ্গীকার করেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মসজিদ কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করার পাশাপাশি মসজিদের স্থায়ী অস্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করবেন। কিন্তু তিনি কোনো হিসাব না দিয়ে দোকানের ভাড়া তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। সামান্য পরিমাণ অর্থ মসজিদে দান করেন। এতে করে মসজিদের ব্যয় নির্বাহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। আমরা এই অনিয়মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ওয়াক্‌ফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হওয়ায় মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে সম্পত্তি রক্ষা, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগের শিকার মোতাওয়াল্লী মো. নুরুন্নবী বলেন, নিয়ম মেনেই ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।

'মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় ভাড়া দেয়া দোকানদারদের থেকে রসিদ ছাড়া কেনো ভাড়া তোলা হয়' এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ৪টি দোকান থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া তুলে নিজের একাউন্টে জমা রাখেন। সেখান থেকে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা করে মসজিদ কমিটিকে প্রদান করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়