সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:২০

জাতীয় বাজেট নিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর সাথে এপিইউবি'র পর্যালোচনামূলক সভা

গবেষণা কার্যক্রমে আরো এগিয়ে আসুন

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

প্রেস বিজ্ঞপ্তি।।
গবেষণা কার্যক্রমে আরো এগিয়ে আসুন
এপিইউবি'র বাজেট পর্যালোচনামূলক সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং ইউজিসি'র চেয়ারম্যানকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হচ্ছে।

বাজেট ২০২৬–২০২৭ বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়াতে এ খাতের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার, গবেষণায় সরকারি সহায়তা, নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণে ঋণসুবিধা এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম অনুমোদনের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা-প্রতিষ্ঠাতাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশ (এপিইউবি)। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব দাবি বিবেচনার জন্য সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার আশ্বাস দেন।

রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এপিইউবি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। জাতীয় বাজেট নিয়ে আয়োজিত এ পর্যালোচনামূলক সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নানা অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা কঠিন ছিলো। তারপরও বাজেটে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আপনারা এই সুযোগ কাজে লাগান।‘ তিনি গবেষণা কার্যক্রমে আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এর আগে সভায় এপিইউবির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়কর ৫ শতাংশে নামিয়ে আনায় তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ৫ শতাংশ আয়করও প্রত্যাহার করা হবে বলে আমরা আশা করি। আমরা নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্যে জমি ক্রয় করি এবং বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করি; কিন্তু কোনো ধরনের ব্যাংকঋণ পাই না।‘

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন,“এবারের বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে। আমরা সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আলাদা করে দেখি না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান যতো বাড়বে, শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা ততো কমবে।”

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হবে দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জ্ঞান অর্থনীতি। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার অংশীদার হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।

সভায় এপিইউবির পক্ষ থেকে একটি নীতিগত অবস্থানপত্রও উপস্থাপন করা হয়। এতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা, স্নাতকদের কর্মসংস্থানকে বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হিসেবে গ্রহণ, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ, ইন্টার্নশিপ ও ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার শক্তিশালীকরণ এবং পিএইচডি কোর্স চালুর অনুমোদনের দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করা এবং সরকার, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগ করে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রাখার ক্ষেত্রেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন এপিইউবির সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। এ সময় এপিইউবির নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান, উপাচার্য এবং শিক্ষাবিদেরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়