প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬, ০২:০৩
শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনের সড়ক সংস্কার কাজ থমকে আছে
৩.৪ কিলোমিটার সড়কে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গোবিন্দপুর সড়কের সংস্কার কাজ বন্ধ, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
|আরো খবর
কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিণ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বাড়ির সামনের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কের সংস্কার কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। ৩.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ রহিমানগর-কৈতবা-আমুজান সড়কের সংস্কার কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, সড়কটির সংস্কার কাজে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের ১১ মে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দু পাশে ইটের এজিং করা হলেও মূল সংস্কার কাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ইট ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে। গোবিন্দপুর থেকে রহিমানগর পর্যন্ত সড়কের একাধিক অংশে বড়ো বড়ো গর্ত ও জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা সদরে যাতায়াতের প্রধান এই সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের বিকল্প পথে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে।
গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু রায়হান ও মিসবাহ উদ্দিন বলেন, কয়েক মাস আগে সড়কের পাশে এজিংয়ের কাজ করা হলেও এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন বলেন, গোবিন্দপুর ও আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে কেশরকোট হয়ে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মাছুম বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অর্থ সংকটের কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে তিনি কাজটি সম্পন্ন করবেন বলে দাবি করেন। কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলমগীর লিটন বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকেও কাজ দ্রুত শেষ করার চাপ রয়েছে। তিনি জানান, দ্রুত কাজ শুরু না হলে বিধি অনুযায়ী চুক্তি বাতিল করে বিকল্প ঠিকাদারের মাধ্যমে সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আগেই দ্রুত সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে জনগণের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে হবে।
ত
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








