প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৮
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে ফরিদগঞ্জে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট
টাইব্রেকারের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে যুবদলের জয়

মাঠজুড়ে দর্শকের উচ্ছ্বাস, খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত নৈপুণ্য আর মুহুর্মুহু করতালিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছিল ফরিদগঞ্জের শোল্লা আশেক আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টটি যেন কেবল একটি খেলার আয়োজন ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছিল তারুণ্যের প্রাণশক্তি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার সম্মিলিত প্রত্যয়ের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
|আরো খবর
‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আসুন, বিজয়ের আনন্দে খেলাধুলার মাধ্যমে গড়ে তুলি ঐক্যবদ্ধ, সুস্থ ও সুন্দর সমাজ’— এই সময়োপযোগী স্লোগানকে সামনে রেখে আব্দুল্লাহ হান্নানের উদ্যোগে বুধবার বিকেলে টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলের কোমল রোদ ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের চারপাশে বাড়তে থাকে দর্শকের উপস্থিতি। স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, তরুণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খেলা উপভোগ করতে মাঠে সমবেত হন। দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো মাঠ ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় আনন্দঘন মিলনমেলায়।
প্রীতি ম্যাচে একদিকে মাঠে নামে ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ একাদশ, অন্যদিকে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অংশ নেয় ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদল। ম্যাচের শুরু থেকেই দু ইদলের খেলোয়াড়েরা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেন।
প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই বলের দখল ও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে খেলা। কখনো যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের খেলোয়াড়েরা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করেন, আবার কখনো দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করে ছাত্রদল। উভয় দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় রক্ষণ, চমৎকার বোঝাপড়া এবং গোলরক্ষকদের অসাধারণ দক্ষতায় নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি।
মাঠে তখন টানটান উত্তেজনা। দর্শকদের চোখ স্থির হয়ে থাকে খেলোয়াড়দের প্রতিটি পদক্ষেপে। নির্ধারিত সময়ের খেলা অমীমাংসিত থাকায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারের প্রতিটি শটের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের উত্তেজনাও যেন কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উপজেলা ছাত্রদলকে ১–০ গোলে পরাজিত করে বিজয়ের হাসি হাসে ফরিদগঞ্জ উপজেলা যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ একাদশ। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলোয়াড়, সমর্থক ও দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।
খেলা শেষে মাঠ প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খসরু মোল্লা, ইমাম হোসেন, আরিফ, সালাউদ্দিন, আলমগীর পাটোয়ারী ও পারভেজসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়দেরও শুভেচ্ছা ও সম্মাননা জানান। এ সময় তাঁরা খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আয়োজকেরা বলেন, "খেলাধুলা শুধু শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে না; এটি মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, বন্ধুত্ব ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করে।" তরুণদের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।
সব মিলিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট জয়-পরাজয়ের হিসাব ছাড়িয়ে হয়ে ওঠে সম্প্রীতি, ঐক্য, তারুণ্য এবং সুস্থ সমাজ নির্মাণের প্রত্যয়ে এক আনন্দমুখর ক্রীড়ানুষ্ঠান।
ছবি ক্যাপশন : ফরিদগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছেন বিজয়ী দলের খেলোয়াড়রা।








