প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০১:৩২
চাঁদপুরের ‘বিশ্ব খাল’: জিয়ার অসমাপ্ত বিপ্লব, তারেক রহমানের হাতে বাস্তবায়নের শেষ লড়াই!

একটি খাল, একটি ইতিহাস—এবং একটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
|আরো খবর
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড—খাল, বিল আর জলাধার। অথচ বছরের পর বছর ধরে এই জীবনরেখাগুলো দখল, অব্যবস্থাপনা আর পরিকল্পিত অবহেলায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
সত্তরের দশকের শেষভাগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন ‘খাল কাটা বিপ্লব’ শুরু করেছিলেন, তখন তিনি শুধু মাটি কাটেননি—তিনি একটি অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা এঁকেছিলেন। সেই বিপ্লব ছিল কৃষকের পক্ষে, উৎপাদনের পক্ষে, স্বনির্ভরতার পক্ষে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—সেই স্বপ্ন এতদিন বাস্তবায়িত হলো না কেন?
চার দশক ধরে খাল ভরাট হয়েছে, দখলদারদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে, আর কৃষক হারিয়েছে তার প্রাকৃতিক শক্তি। এখন, সেই ব্যর্থতার দায় মুছতে এবং ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনতেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে খাল পুনর্জাগরণ শুরু হয়েছে।
চাঁদপুরের শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ‘বিশ্ব খাল’ এখন সেই সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু।
মাঠে নেমেছেন মানিক: প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের বার্তা
আগামী ১৬ মে’কে সামনে রেখে চাঁদপুরে এখন কেবল প্রস্তুতি নয়—এক ধরনের রাজনৈতিক জাগরণ তৈরি হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, ১ মে সকালে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সরাসরি মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখেছেন। এটি ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতা; এটি ছিল একটি বার্তা—“এবার আর কথার রাজনীতি নয়, কাজের বাস্তবতা।”
খালের পাড় ধরে হেঁটে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা এবং প্রত্যাশার কথা শুনেছেন।
ক্যাপশন : সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—
দখলদারদের জন্য আর কোনো ছাড় নেই
অবৈধ দখল উচ্ছেদ হবেই
খাল ফিরে পাবে তার নাব্যতা, তার শক্তি
এটি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নয়—এটি একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব পরীক্ষা।
খাল পুনঃখনন: কৃষি অর্থনীতির ‘গেম চেঞ্জার’
এই প্রকল্পের গুরুত্ব কেবল অবকাঠামোগত নয়—এটি সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সঙ্গে যুক্ত।
১. সেচে বিপ্লব, কৃষকের মুক্তি
খাল সচল হলে কৃষক আর ডিজেলনির্ভর থাকবে না। উৎপাদন খরচ কমবে, লাভ বাড়বে—যা সরাসরি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
২. মৎস্য খাতের পুনর্জাগরণ
দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক উৎস ধ্বংস হয়ে গেছে দখল ও দূষণে। এই খাল পুনরুদ্ধার মানে মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ফিরিয়ে আনা—যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কর্মসংস্থানের বাস্তব প্ল্যাটফর্ম
খালকেন্দ্রিক কৃষি, মৎস্য ও হাঁস পালন—এগুলো কোনো তাত্ত্বিক ধারণা নয়; এগুলো সরাসরি কর্মসংস্থানের বাস্তব ক্ষেত্র।
১৬ মে: প্রতীকী নয়, রাজনৈতিক বার্তার দিন
এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রতীকী শক্তি।
একসময় এই খালেই দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান কোদাল হাতে উন্নয়নের সূচনা করেছিলেন। এবার সেই একই জায়গায় তারেক রহমান কোদাল চালিয়ে পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন।
এটি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়—
এটি একটি রাজনৈতিক ঘোষণা:
উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ফিরছে
অবহেলার রাজনীতি শেষ হচ্ছে
বাস্তব কাজের রাজনীতি শুরু হচ্ছে
শেষ কথা: এবার ব্যর্থতার সুযোগ নেই
চাঁদপুরের ‘বিশ্ব খাল’ এখন একটি পরীক্ষার নাম—সরকারের জন্য, নেতৃত্বের জন্য, এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির জন্য।
সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই প্রকল্প ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই।
১৬ মে শুধু একটি তারিখ নয়—এটি একটি চ্যালেঞ্জ, একটি অঙ্গীকার, এবং একটি রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের সূচনা।
চাঁদপুর অপেক্ষা করছে—কথার নয়, কাজের ফল দেখার জন্য।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ
প্রতিবেদক: অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন
বিশেষ প্রতিনিধি,সিনিয়র সাব-এডিটর, ও কলামিস্ট, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ।
তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।










