প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৯
স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৩
আধুনিক মতলব উত্তর প্রতিষ্ঠায় অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে কাজ করবো
----------------অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলা নদীভাঙ্গন, কৃষি, শিক্ষা ও জনজীবনের নানামুখী চ্যালেঞ্জে গড়ে ওঠা এক সম্ভাবনাময় জনপদ। এই জনপদের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উন্নয়ন ভাবনা এবং রাজনৈতিক সচেতনতার কেন্দ্রে এখন আলোচনায় রয়েছেন সম্ভাব্য উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। চাঁদপুর জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হিসেবে সংগঠনকে সুসংগঠিত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত। আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও মানবিক নেতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। মতলব উত্তরের মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন আপনজন, যিনি সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন, সমস্যা শোনেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন। তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে অ্যাডভোকেট শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীনকে নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বাড়ছে। তাদের মতে, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তিনি একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি, যিনি পুরো চাঁদপুরে পরিচিত মুখ এবং পরিচিত নাম। মতলবের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন নিয়ে সবসময় চিন্তা-চেতনায় মানুষের সাথে আলোচনায় থাকেন। যিনি চাঁদপুরে থেকেও মতলবের মানুষের জন্যে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি, পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারগুলো জানার জন্যে এই সাক্ষাৎকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মতলব উত্তর উপজেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তার সুস্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন চাঁদপুর কণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার উজ্জ্বল হোসাইন।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোন্ পদে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে চান?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমি প্রথমে মহান আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করছি। আমি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ থেকে মানুষের সেবক হিসেবে চেয়ারম্যান পদে জনগণের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।
চাঁদপুর কণ্ঠ : প্রার্থী হবার ইচ্ছা আপনি কবে থেকে পোষণ করছেন? অতীতে কি কখনও নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমি ছোটবেলা থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। শৈশবে স্বপ্ন দেখেছি অবহেলিত মতলবকে কীভাবে উন্নয়ন করা যায়। আমি একজন আইনজীবী হিসেবে চেষ্টা করি চাঁদপুরবাসী তথা মতলবের সাধারণ মানুষের জন্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে। আধুনিক মতলব প্রতিষ্ঠায় অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষে কাজ করা আমার একান্ত ইচ্ছা।
আমি মতলবের মানুষের উন্নয়নের জন্যে তখন থেকেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছি। আমি বিগত ২০০৮ সালে মতলব উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলাম। তদানিন্তন সরকারের কেন্দ্র দখল ও ভোট ছিনতাইয়ের কারণে বিজয়ী হতে পারিনি। কিন্তু মতলব উত্তর উপজেলাবাসীর ভালোবাসা পেয়েছি, সেই ভালোবাসাই আমার অনুপ্রেরণা।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন? না নির্দলীয়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি জনগণের এবং পরোক্ষভাবে দলীয় সমর্থন বা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। আমি মনে করি দল আমাকে অতীতের কর্মকাণ্ডের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। মতলব উত্তর উপজেলাবাসী আর দলীয় সমর্থন পেলে আমি জনগণের জন্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনে নিতান্তই জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্যে বা কেবল পরিচিতি লাভের জন্যে প্রার্থী হতে চান? না বিজয়ী হবার মানসে আঁটঘাঁট বেঁধে নেমেছেন বা নামবেন?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমাকে মতলবের মানুষজন চেনে এবং জানে। মানুষের দুঃখে আমি সবসময় পাশে দাঁড়িয়েছি। আইন পেশার কারণে চাঁদপুরে বসবাস করলেও মতলবের মাটির ঘ্রাণ আমি সবসময় পাই।
আমি যাতে আরো বেশি মানুষের কাছে থেকে সেবা করতে পারি সেজন্যে নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। আর আমি প্রার্থী হয়ে মাঠে নামলে মানুষজন আপনজন হিসেবে আমাকে বেছে নেবে—এটাই প্রত্যাশা করি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচনকেন্দ্রিক আপনার পরিকল্পনা কী? সমাজসেবামূলক কাজ কতোটুকু করেছেন বা করবেন? ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়েছেন তথা গণসংযোগ শুরু করেছেন?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমার পরিকল্পনা হচ্ছে একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব স্থানীয় সরকার গড়ে তোলা। মতলব উত্তর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তার সমাধান করা হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, নদীভাঙ্গন রোধ, বেআইনি বালু উত্তোলন ও বালু সন্ত্রাস রোধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এসব বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই একটি টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।
আমি দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছি। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের আইনগত সেবা প্রদান, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সাবেক সভাপতি হিসেবে এবং ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান, চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া—এসব কাজ নিয়মিত করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চাই। ইতোমধ্যে আমি গণসংযোগ শুরু করেছি এবং উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছি। তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও মতামত শুনছি। আমি মনে করি, ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই একজন প্রার্থীর জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই গণসংযোগ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে, যাতে প্রতিটি মানুষের কাছে আমার বার্তা পৌঁছায় এবং তাদের আস্থা অর্জন করা যায়।
চাঁদপুর কণ্ঠ : নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হবে বলে আপনি আশাবাদী? নির্বাচনের সুষ্ঠুতার বিষয়ে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমি আশাবাদী যে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি, তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এটাই প্রত্যাশা।
তবে এ ক্ষেত্রে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের নিরপেক্ষ ও পেশাদার আচরণ অত্যন্ত জরুরি। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে প্রথমত নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও কার্যকরভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভীতি সৃষ্টি না হয়। প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এছাড়া ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং পর্যবেক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : এলাকার উন্নয়নে আপনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে চান?
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমি মতলব উত্তর উপজেলার সম্মানিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমার প্রতিশ্রুতি কোনো মুখের কথা নয়, বরং বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। নির্বাচিত হলে আমি সর্বপ্রথম জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করবো। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদীভাঙ্গন রোধে কার্যকর উদ্যোগ, নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বালু সন্ত্রাস বন্ধে কৃষকদের জন্যে সহায়তা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আমি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পাবে এবং তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরকার তথা রাষ্ট্রের সহায়তা করা আমার অন্যতম লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড়ো কথা, আমি ক্ষমতার জন্যে নয়, জনগণের সেবক হওয়ার জন্যে কাজ করতে চাই। আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ এবং ভালোবাসা নিয়েই একটি আধুনিক, উন্নত ও মানবিক মতলব উত্তর গড়ে তুলতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমাদের মতলব উত্তর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব।
চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোল্লিখিত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে সেটা বলতে পারেন।
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমি সকলের উদ্দেশ্যে বলবো, নির্বাচন একজন মানুষের কাজ করার বৈধতা দেয়। নির্বাচনে জয়লাভ না করেও মানুষের সেবা করা যায়—যেটা আমি আইন পেশায় থেকে করছি।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরুন।
অ্যাড. শরীফ মাহমুদ ফেরদাউস শাহীন : আমার গ্রামের বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ৭নং মোহনপুর ইউনিয়নের বাহেরচরে। আমি চাঁদপুর জজ কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত। আমার বাবা আবুল কাসেম মিয়া মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ৭নং নাছিরার কান্দি ইউনিয়ন গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
আমরা ৫ ভাই ২ বোনের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ভাই শরীফ মাহমুদ সায়েম, বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি)। আমি ৩ সন্তানের জনক। বড়ো সন্তান আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য আইন বিষয়ে স্নাতক, মেঝো সন্তান ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি বিষয়ে অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্র। ছোট সন্তান ১০ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। আমার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।








