প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪
আনোয়ার হোসেন মাঝি শরীয়তপুরের গণমানুষের রাজনৈতিক কিংবদন্তি ও অবিসংবাদিত নেতা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ জন্ম নেন, যাদের জীবন সাধারণের গণ্ডি পেরিয়ে রূপ নেয় কিংবদন্তিতে। ক্ষমতা, বিত্ত বা ব্যক্তিগত অর্জনের মোহ তাদের কোনোদিন স্পর্শ করতে পারে না। তারা আসেন ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণে, মানুষের ভালোবাসা কুড়ান এবং নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে বিদায় নেন। শরীয়তপুর তথা বৃহত্তর চরাঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই এক অনবদ্য, ভাস্বর ও অমর নাম আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি—যিনি চরাঞ্চলের মানুষের কাছে পরম শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় "কালো মানিক" খ্যাত চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
|আরো খবর
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর এক কঠিন ও পরিবর্তনের সময়ে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। যিনি জীবদ্দশায় তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পাঁচবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েও নিজের থাকার সামান্য এক টুকরো জমিও রেখে যেতে পারেননি। কারণ, তার কাছে আসা প্রতিটি টাকা এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উৎসর্গ করা হয়েছিল সাধারণ মানুষের কল্যাণে।
আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির সঠিক জন্মসাল বা জন্মতারিখ নিপুণভাবে নথিবদ্ধ না থাকলেও ইতিহাস ও পারিবারিক সূত্র মতে, তিনি ১৯৩০ থেকে ১৯৩৫ সালের মাঝামাঝি কোনো এক বসন্তে জন্মগ্রহণ করেন। তার আদি পৈতৃক ভিটা ছিল বর্তমান চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বলাশিয়া নামক গ্রামে। এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা নুরুল হক মাঝির ঔরসে জন্ম নেওয়া এই সন্তান ভাইবোনদের মধ্যে ছিলেন সবার বড়। বড় ভাই হিসেবে পরিবার ও ছোট ভাই-বোনদের প্রতি যেমন দায়িত্ববোধ ছিল, তেমনি বড় হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তার ভেতরে জাগ্রত হয়েছিল এক গভীর সমাজসচেতনতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি। তার গায়ের শ্যামলা ও উজ্জ্বল রূপের কারণে এবং পরবর্তীতে জনকল্যাণে তার দীপ্ত উপস্থিতির জন্য অনুরাগীরা তাকে ভালোবেসে "কালো মানিক" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
যেকোনো সফল নেতার পেছনেই থাকে এক সুদীর্ঘ জীবনসংগ্রাম ও অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। আনোয়ার হোসেন মাঝি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ শিক্ষা সমাপ্ত করার পর কর্মজীবন শুরু করেন পেশাদার হিসেবে। তৎকালীন সময়ে ঢাকা ও চাঁদপুরের মধ্যে চলাচলকারী জনপ্রিয় জলযান "বেঙ্গল ওয়াটার" নামক লঞ্চে তিনি ম্যানেজার পদে কিছুদিন চাকরি করেন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে লঞ্চের ম্যানেজার হিসেবে চাকরি করার সুবাদে তিনি খুব কাছ থেকে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, কৃষক, মাঝি-মাল্লা ও বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ পান। এই পেশাগত জীবন তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তিনি চরাঞ্চলের মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে শেখেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশা নিজের চোখে অবলোকন করেন।
১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ। এই স্বাধীনতার পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বিশাল পরিবর্তন আসে। তৎকালীন সময়ে চরাঞ্চলের মুসলিম লীগের ঝাণ্ডাধারী জাঁদরেল ও প্রভাবশালী নেতারা হঠাৎ করেই কোনঠাসা হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিভাবকহীনতায় চরাঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী একধরনের গভীর হতাশা ও চরম রাজনৈতিক শূন্যতায় নিমজ্জিত হয়। সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে তাদের কাঙ্ক্ষিত নেতৃত্বকে খুঁজতে শুরু করে।
তীব্র রাজনৈতিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন ও তুখেড় মেধাবী আনোয়ার হোসেন মাঝি বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এই মুহূর্তে চরাঞ্চলের মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য একজন সাহসী ও জনদরদী নেতার প্রয়োজন। আর দ্বিতীয় মুহূর্তের জন্যও বিলম্ব না করে, তিনি ১৯৭২ সালে বেঙ্গল ওয়াটারের লোভনীয় চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দেন এবং সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর পরই তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব ও চরাঞ্চলের মানুষের প্রতি তার দরদ সবার নজরে আসে। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে তিনি বীরদর্পে অংশগ্রহণ করেন এবং বিপুল ভোটে ঐতিহাসিক বিজয় লাভ করেন।
পূর্ব শরীয়তপুরের জনমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত ও নন্দিত এই জননেতার রাজনৈতিক পথচলা সেদিন থেকেই এক অপ্রতিরোধ্য গতি পায়। নির্বাচনে জয়ের পর থেকেই তিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে জনকল্যাণে নিয়োজিত করেন।
স্বাধীনতার ঠিক পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নদীমাতৃক ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় শরীয়তপুর অঞ্চলে সর্বহারা পার্টি এবং বিভিন্ন দুর্ধর্ষ ডাকাত দল ও অপরাধী চক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। প্রায় প্রতিদিনই চরাঞ্চলের কোনো না কোনো প্রান্তে খুন, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হতো।
সেই কঠিন সময়ে অপরাধ দমনে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্পেশাল ব্রাঞ্চের হয়ে বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয় এই "কালো মানিক" খ্যাত চেয়ারম্যানের ওপর। দুর্গম নদীবন্দর ও চরাঞ্চলের আনাচে-কানাচে ডাকাত ও অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করেন। তার এই বিশেষ কার্যক্রমে অপরাধ দমন শতভাগ সফল হয়। চরাঞ্চলের ত্রাস সৃষ্টিকারী অপরাধীরা তার নাম শুনলেই কম্পমান থাকত। এর ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং তার জনপ্রিয়তা গগণচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছায়। জনগন তাকে তাদের মাথার মুকুট হিসেবে গ্রহণ করে।
রাজনীতির পথ কখনোই ফুল বিছানো থাকে না; বরং সেখানে থাকে চড়াই-উতরাই, ষড়যন্ত্র আর নানামুখী চ্যালেঞ্জ। আনোয়ার হোসেন মাঝি তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে অনেক রাঘব বোয়াল ও প্রভাবশালী নেতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাদের রাজনৈতিক কৌশলে টেক্কা দিয়ে নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছেন। তবে তিনি কখনোই সংকীর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। তিনি বলতেন, প্রতিপক্ষকে ছোট করে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করতে হবে।
সময়টি ১৯৮৬ সাল। তৎকালীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ফুটবল মার্কা প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য (এমপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে তার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে তার বিজয় ছিল প্রায় নিশ্চিত। আপাদমস্তক এই জননেতা বিপুল জনসমর্থনে সম্পূর্ণভাবে সিক্ত হয়েছিলেন।
কিন্তু তৎকালীন রাষ্ট্রপ্রধান ও সামরিক শাসক জেনারেল এইচ. এম. এরশাদের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং নানা চাপের মুখে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। ইতিহাসবিদ ও স্থানীয় প্রবীণদের মতে, যদি সেদিন সেই ষড়যন্ত্র না হতো এবং আনোয়ার মাঝি নির্বাচনে বহাল থাকতেন, তবে আমরা হয়তো ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদে শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আনোয়ার মাঝিকে দেখতে পেতাম। জনগণের এই প্রিয় নেতাকে সেদিন জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছিল, যা চরাঞ্চলের রাজনীতির ইতিহাসে এক বড় আক্ষেপ হয়ে রয়েছে।
রাজনীতিতে মানুষ নানা কারণে ভুল করে, তবে জনদরদী নেতাদের ভুলগুলো সাধারণত আসে অতি-উদারতা ও সরলতা থেকে। আনোয়ার হোসেন মাঝির বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনেও এমন একটি মুহূর্ত এসেছিল।
জীবনের কোনো এক পর্যায়ে অতিরিক্ত উদারতা দেখাতে গিয়ে অপরিপক্ক কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে তাকে নিজ চারণভূমিতে সাময়িক হোঁচট খেতে হয়েছিল। যদিও সেই ধাক্কা দীর্ঘস্থায়ী ছিল না, তবুও ভোটার ও সাধারণ মানুষ হিসেবে আমরা যারা তাকে ভালোবেসেছিলাম, তারা সেই পরিস্থিতি সহজে মেনে নিতে পারিনি। কিন্তু এই ছোটখাটো ঘটনাও তার মহানুভবতা ও জনপ্রিয়তার বিন্দু পরিমাণও কমাতে পারেনি।
বর্তমান সময়ে রাজনীতি মানেই রাতারাতি ভাগ্য বদল, সম্পদের পাহাড় গড়া এবং শত কোটি টাকার মালিক হওয়া। কিন্তু আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির জীবন ছিল এর সম্পূর্ণ বিপরীত—এক পবিত্র ত্যাগের মহিমা।
খুব কম মানুষই জানেন যে, স্বাধীনতা অর্জনের বহু আগেই আনোয়ার হোসেন মাঝি ছিলেন বাংলাদেশের পাইনিয়র শিপিং ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন। নদীমাতৃক বাংলাদেশে তার একাধিক কার্গো জাহাজ ও লঞ্চ চলাচল করত। শুধু তাই নয়, চাঁদপুর শহরের সবচেয়ে প্রাইম লোকেশনে তার নিজের বিশাল বিল্ডিং ও পাকা বাড়ি ছিল। সংক্ষেপে বলতে গেলে, স্বাধীনতা-পূর্ব কালেই তিনি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্বচ্ছল ও প্রতিষ্ঠিত একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
কিন্তু যখন তিনি সাধারণ মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন, তখন তার ব্যবসায়ী মন আর নিজের স্বার্থের কথা ভাবতে পারেনি। এলাকার মানুষের কষ্ট দেখলে তিনি নিজের ব্যবসার সমস্ত পুঁজি, কার্গো জাহাজ এবং চাঁদপুর শহরের সেই মূল্যবান বাড়ি ও জমি একে একে বিক্রি করে দিতে শুরু করেন। বিক্রয়লব্ধ সমস্ত অর্থ তিনি খরচ করেছিলেন চরাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে, রাস্তাঘাট নির্মাণে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেছনে।
মৃত্যুর সময় তিনি যখন ভেদরগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন ছিলেন, তখনও তার নিজের চিকিৎসার জন্য ন্যূনতম খরচটুকু মেটানোর সামর্থ্য ছিল না! তার এই চরম আত্মত্যাগের মূল কারণ ছিল—যখনই কোনো অর্থ তার হাতে আসত, তিনি সাথে সাথেই তা মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিতেন।
"বড় পরিতাপের বিষয়, আজকের দিনের রাজনীতিতে মানুষ সামান্য একজন মেম্বার বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পেলেও রাতারাতি টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। অথচ তিনবার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পাঁচবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকার পরও এই মহান নেতা নিজের থাকার জন্য এক ইঞ্চি জমিও রেখে যেতে পারেননি!"
আজকের শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ ও সংলগ্ন চরাঞ্চল তথা পূর্ব শরীয়তপুরের যেটুকু ভৌত ও প্রাতিষ্ঠানিক ফাউন্ডিং উন্নয়ন দৃশ্যমান, তার সিংহভাগই অর্জিত হয়েছে এই জনবান্ধব নেতার দূরদর্শী হাত ধরে।
তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার হলো শিক্ষা। তাই তিনি গ্রেটার তারাবুনিয়া সহ পুরো ভেদরগঞ্জ উপজেলার আনাচে-কানাচে অজস্র প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নিজ হাতে গড়া সেই সব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী আজ উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও লিডিং পজিশনে (উচ্চপদে) চাকরি করে দেশ ও জাতির কল্যাণে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। অথচ তিনি নিজে ও তার পরিবার রেখে গেছেন কেবল মানুষের অগাধ ভালোবাসা, আর নিজেদের জন্য শূন্য কোল।
বিখ্যাত কবি কুসুম কুমারী দাসের অমর পংক্তিগুলো যেন একমাত্র আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝির জীবনের জন্যই রচিত হয়েছিল:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন—
'মানুষ হইতে হবে'—এই যার পণ...!"
হ্যাঁ, চেয়ারম্যান সাহেব! আপনি আপনার জীবদ্দশায় সত্যি এই পণ ধরেছিলেন। আপনার সমস্ত ভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কেবল সাধারণ মানুষ—মানুষের বাইরে আপনার কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা স্বার্থপর চিন্তা ছিল না। আপনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই পণ রক্ষা করে গেছেন। আর চরাঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষও তাদের সাধ্যমতো ভালোবাসায় আপনাকে শিক্ত করেছে।
জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে শারীরিক নানা অসুস্থতা আর চরম অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার মধ্য দিয়ে তাকে দিন কাটাতে হয়েছিল। কিন্তু তার মনের জোর ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ছিল অটুট।
পরিশেষে অত্যন্ত ভারী হৃদয়ে বলতে হয়— আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন মাঝি নামের সেই জাদরেল নেতার শারীরিক মৃত্যু ঘটেছে বটে, কিন্তু তিনি মরেননি। তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল—এই চরাঞ্চলের মেটো পথ ধরে, নদীর ঢেউয়ের তালে, তার নিজ হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাঙ্গণে এবং মেহনতী মানুষের হৃদয়ের মণিকোটায়। তাঁর স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে এক অনন্য সততা, নির্মোহতা ও ত্যাগের দীপ্ত শিখা হয়ে।
হে মহান দাতা ও জননেতা,
আল্লাহ তাআলা আপনার সকল সৎকর্ম কবুল করুন এবং আপনাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।
আমিন।






