প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯
ভাবতে অবাক লাগে, উপজেলার প্রধান বাজারে পাবলিক টয়লেট নেই!

একটি উপজেলার প্রধান ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র, প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার মানুষের পদচারণা, শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যস্ততা, দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়—সেই বাজারে একটি গণশৌচাগার (পাবলিক টয়লেট) নেই! বিষয়টি শুধু অবাক করার মতো নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনকও বটে। হাইমচরের আলগী বাজারের চিত্র আমাদের স্থানীয় নাগরিক সুবিধা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্রটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
প্রকৃতির স্বাভাবিক ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো মৌলিক একটি সুবিধা যেখানে মানুষের নাগরিক অধিকার ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেখানে আলগী বাজারের মানুষকে শৌচাগারের জন্য হাসপাতালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এমনকি অনেককে রোগী কিংবা রোগীর স্বজন সেজে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে—এ দৃশ্য নিঃসন্দেহে বিব্রতকর। মানবিক কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধা না দিলেও হাসপাতালের শৌচাগার তো বাজারের মানুষের জন্য নির্মিত হয়নি। অতিরিক্ত ব্যবহারে সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়া যেমন স্বাভাবিক, তেমনি এতে হাসপাতালের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, শৌচাগারের অভাবে কেউ কেউ খোলা ড্রেন কিংবা রাস্তার পাশে প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে শুধু পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না, রোগজীবাণু ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি। একটি বাজার কতোটা আধুনিক বা উন্নত, তার পরিচয় শুধু দালানকোঠা, দোকানপাট কিংবা বেচাকেনার পরিমাণে নয়; সেখানে মানুষের জন্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা কতোটা নিশ্চিত, সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
জায়গা সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা তুলে ধরেছেন। বাজারের জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং মূল্যও বেশি—এটি বাস্তব সমস্যা। সরকারি বরাদ্দের শৌচাগার বাজার থেকে কিছুটা দূরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—বাজারের কেন্দ্রস্থলে মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় একটি উপযুক্ত জায়গা বের করার উদ্যোগ কি আরও আগে নেওয়া যেতো না?
এখানে আলগী বাজারের ব্যবসায়ী কমিটির ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল বাজার কমিটি থাকলে এ ধরনের মৌলিক সমস্যা সমাধানের পথ তারা খুঁজে বের করতোই। বাজারের ব্যবসায়ীরা শুধু দোকান পরিচালনা করবেন, আর বাজারের নাগরিক সুবিধার বিষয়টি পুরোপুরি প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দেবেন—এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে, নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে কিংবা সংশ্লিষ্ট মালিকের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জায়গা ভাড়া বা কেনার ব্যবস্থা করেও গণশৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব। প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে বাজারের বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব শৌচাগার নির্মাণের আহ্বানও যথার্থ। একটি বাজারের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; ব্যবসায়ী ও নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
আমরা মনে করি, আলগী বাজারে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নারী-পুরুষের জন্য পৃথক সুবিধাসহ নিরাপদ ও আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ এখন আর বিলাসিতা নয়—এটি জরুরি প্রয়োজন। জায়গা সংকট যদি সত্যিই প্রধান বাধা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক টেবিলে বসে সমাধানের পথ বের করতে হবে। কারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের কাছে কোনো অজুহাতই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। আলগী বাজারের হাজারো মানুষের প্রশ্ন একটাই—উপজেলার প্রধান বাজারে একটি পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করতে আর কতোদিন অপেক্ষা করতে হবে?







