রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৪

আশ্বিনের পানি আর চিকিৎসক-সংকটে ছাগল খামারিদের দুর্ভোগ

কৃষিকণ্ঠ প্রতিবেদক
আশ্বিনের পানি আর চিকিৎসক-সংকটে ছাগল খামারিদের দুর্ভোগ

এখন আশ্বিন মাস। বর্ষার পানি পুরোপুরি না নামায় চাঁদপুরের বিভিন্ন খাল-বিল, নিচু জমি ও রাস্তার পাশে এখনো পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও পানি ও কাদা মিলে পথঘাট একাকার। এমন পরিস্থিতিতে গবাদিপশুর খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

বিশেষ করে ছাগলের জন্য কচি ঘাস, লতাপাতা ও গাছের পাতা জোগাড় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। পানিবন্দী ও কাদাময় জমিতে নেমে খাদ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট পোহাচ্ছেন সুমি আক্তারের মতো প্রান্তিক কৃষাণীরা। অনেক সময় দূরদূরান্তের শুকনো এলাকা থেকে খাদ্য সংগ্রহ করে বাড়ি আনতে হয়। সাত বছর আগে স্বামীকে হারানো সুমি আক্তার আত্মীয়দের দেওয়া দুটি ছাগল দিয়ে পালন শুরু করেছিলেন। এখন একাধিক ছাগলের মালিক তিনি। প্রতিবছর দু-তিনটি ছাগল বিক্রি করে সংসার চালানো এবং দু সন্তানের পড়াশোনার খরচ জোগান তিনি। তবে খাদ্য সংগ্রহের কষ্টের চেয়েও তার বড় ভয় ছাগলের অসুখ-বিসুখ। তিনি জানান, ছাগল অসুস্থ হলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সময়মতো সরকারি ডাক্তার পাওয়া যায় না, যা তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

একই ধরনের কষ্টের কথা জানান কুলসুমা বেগম। তিনি বলেন, ছাগল পালনে নিয়মিত খাবারের জোগান বজায় রাখা জরুরি, কিন্তু আশ্বিনের কাদা-পানির কারণে তা হয়ে উঠেছে চরম শ্রমসাধ্য। আবার জমি থেকে পানি নামার এই সময়ে গরু-ছাগলের নানা ধরনের রোগবালাই দেখা দেয়। শহরে থেকে বা সরকারি প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করেও সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ছাগলের পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা হলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে পশু মারা যায়।

আরেক প্রান্তিক খামারি চান মিয়া জানান, তাদের মতো দরিদ্র মানুষের পক্ষে চড়া ফি দিয়ে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। ছাগল অসুস্থ হলে প্রতিবারই চিকিৎসকের পেছনে এক-দু হাজার টাকা খরচ করতে হয়। তার ওপর শুক্র-শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ভেটেরিনারি হাসপাতালে কাউকেই পাওয়া যায় না। ছুটির দিনগুলোতেও পশুপাখির জন্য জরুরি চিকিৎসা সেবা চালু রাখার দাবি জানান তিনি।

কৃষক ও খামারিদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে অফিসে গিয়ে এবং মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়