শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২০

ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়

মায়ের কোলে শিশু নবী

প্রসঙ্গ : আবু লাহাবের খুশি ও তার শান্তির বিরতি—চাঁদের কথা বলা ও খেলা করা

অনলাইন ডেস্ক
মায়ের কোলে শিশু নবী

প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.) ভূমিষ্ট হওয়ার পর ছুয়াইবা নাম্মী এক দাসী তার মনিব আবু লাহাবকে এই সুসংবাদ জানায়। আবু লাহাব ভাতিজার জন্মসংবাদে খুশি হয়ে আপন দাসী ছোয়াইবাকে আযাদ করে দেয়। ৫৫ বৎসর পর বদরের যুদ্ধের ৭ দিন পর প্লেগ রোগে আবু লাহাবের মৃত্যু হয়। আবু লাহাবের ভাই হযরত আব্বাস (রা.) স্বপ্নে আবু লাহাবকে দেখে নবী দুশমনির পরিণতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আবু লাহাব আফসোস করে বললো, ‘নরকে আমার স্থান হয়েছে। তবে নবী করীম (দ.)-এঁর জন্মসংবাদে খুশি হয়ে দাসীকে শাহাদাত আঙ্গুলের ইশারায় আযাদ করার কারণে প্রতি সোমবার আমার কবরের আযাব কিছুটা হালকা হয় এবং শাহাদাত আঙ্গুল চুষে কিছুটা তৃষ্ণা নিবারণ করি।’ (বুখারী শরীফ : ৪৭৩০, ৫১০১ *তৌহিদ ফাউন্ডেশন ও মাওয়াহেব)।

ইবনে জজরী (র.) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আবু লাহাব নবী করীম (দ.)-এঁর একজন কট্টর দুশমন— যার বিরুদ্ধে সূরা লাহাব নাযেল হয়েছে, নবীজীর (দ.) জন্মদিনের খুশীতে যদি তার এই পুরস্কার হয়, তাহলে যে মুসলমান মীলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে খুশি উদ্যাপন করবে এবং নবীর মহব্বতে সাধ্যমত খরচ করবে, তার পুরস্কার কী হতে পারে? আমার জীবনের শপথ করে বলছি—নিশ্চয়ই আল্লাহ জাল্লা শানুহু আপন অনুগ্রহে তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন (আন্ওয়ারে মুহাম্মদীয়া)।’

উক্ত ছোয়াইবা নবী করীম (দ.)-কে কয়েক দিন দুধ পান করিয়েছিলেন। সেজন্য নবী করীম (দ.) তাঁকে মা বলে সম্মান করতেন। জন্মের পর নবী করীম (দ.) ১৬/১৭ দিন আপন মা ও ছুয়াইবার দুধ পান করেছিলেন।

চাঁদের সাথে খেলা করা

এ সময়ের একটি ঘটনা দেখে নবীজীর চাচা হযরত আব্বাস (রা.) পরবর্তীকালে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত আব্বাস (রা.) একদিন কথা প্রসঙ্গে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি যখন শিশুকালে দোলনায় ছিলেন— সেই সময়ের একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা আপনার নবুয়তের প্রমাণস্বরূপ আমি প্রত্যক্ষ করেছিলাম এবং এই ঘটনাই পরবর্তীকালে আমাকে আপনার ধর্মে দীক্ষিত হতে অনুপ্রাণিত করেছে বেশি। ঘটনাটি ছিল এই— ‘আপনি দোলনায় শুয়ে শুয়ে আকাশের চাঁদের সাথে খেলা করছিলেন। আপনি আঙ্গুলের ইশারায় চাঁদকে যে দিকে হেলে যেতে বলতেন, চাঁদ সেদিকেই হেলে যেতো। এই ঘটনা আমাকে আকৃষ্ট করেছে।’

এ কথা শুনে একটু মুচকি হাসি হেসে হুযুর (দ.) বললেন, ‘চাচাজান, শুধু তাই নয়। আমি সে সময় চাঁদের সাথে কথাও বলতাম এবং চাঁদও আমার সাথে কথা বলতো। চাঁদ ছিল আমার খেলার নূরের পুতুল।’

হযরত আব্বাস (রা.)-এর রেওয়ায়াত সূত্রে-মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া।

খাছায়েছে কুবরা ও তারিখে খামিছ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (দ.) ভূমিষ্ট হয়েই কলেমা শাহাদাত অর্থাৎ তৌহিদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন— ‘আমি চাক্ষুস সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া মাবুদ নেই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল।’ এটা ছিল হুযুরের দেখা সাক্ষ্য। তাই তিনি চাক্ষুস সাক্ষী।

প্রিয়নবী (দ.) জন্মসূত্রেই নবী। ভূমিষ্ট হয়ে তৌহিদ ও আপন রিসালাতের সাক্ষ্যই প্রমাণ করে যে, নিজের নবুয়ত সম্পর্কে তিনি শিশুকালেই অবহিত ছিলেন।

বুঝা গেলো, তিনি শিশুকাল থেকেই চাঁদের খবরও রাখতেন, হাতের খেলনাকে যেদিকে ঘোরানো হয় সেদিকেই খেলনা ঘুরে। আরো প্রমাণিত হলো, তিনি তাওহীদ ও রিসালাতের শিক্ষা নিয়েই আগমন করেছেন। তাওহীদ ও রিসালাতসম্বলিত কলেমা পরবর্তীতে উম্মতের জন্য নাযিল হয়েছিল। কোরআনের ‘তালিমপ্রাপ্ত’ হয়েই তাঁর আগমন হয়েছিল। কোরআনের ‘তানযীল’ বা নুযুল হয়েছে পরবর্তীকালে। (চলবে)

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়