প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪
আজব দুনিয়া

আজব দুনিয়া, আজব দুনিয়া,
আয়নায় কেউ নিজেকে দেখে না আজ,
শুধু অন্যের জীবনের ফ্রেমে চোখ রাখে।বিবাহিত কাঁধে সংসারের ভার,
রাত জেগে গোনে তালাকের অঙ্ক।
অবিবাহিত জানালায় বসে,
স্বপ্ন বোনে বিয়ের কার্ড আর সানাইয়ের রঙ।
একজন মুক্তি চায়, আরেকজন বাঁধন—
দুজনেই ভাবে ওপারের ঘাস বুঝি সবুজ।বাচ্চারা ক্যালেন্ডারের পাতা ছিঁড়ে,
তাড়াতাড়ি বড় হতে চায়।
পিঠে ব্যাগ, চোখে স্ক্রিন, ঠোঁটে তাড়া।
আর বুড়োরা অ্যালবাম খুলে,
ধূলোমাখা শৈশবকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে—
ফিরিয়ে দে আমার সেই মাটির গন্ধ, সেই ছুটির দুপুর।চাকরিজীবী ঘড়ির কাঁটার কাছে বন্দী,
বসের চাপে, টার্গেটের ফাঁসে নিঃশ্বাস নেয়।
বেকারের জায়নামাজ ভিজে যায়,
হে রব একটা চাকরি দাও—এই দোয়ায়।
একজন সময় বেচে দেয়, আরেকজন সময় কিনতে চায়।গরিবের চোখে আকাশছোঁয়া বাড়ি,
ব্যাংক ব্যালেন্সের স্বপ্নে ঘুম ওড়ে।
বড়লোক ছুটে বেড়ায় শান্তির খোঁজে,
হিমালয়ের কোণে, নির্জন সমুদ্রে।
টাকা আছে, তবু ঘুম নেই।
শান্তি আছে, তবু পকেট ফাঁকা।জনপ্রিয় মুখ আড়াল খোঁজে,
একটা নিরিবিলি রাস্তা, একটা বেনামি জীবন।
আর সাধারণ মানুষ লাইক-ফলোয়ারের আগুনে,
নিজেকে পুড়িয়ে বিখ্যাত হতে চায়।
যার আছে সে লুকায়, যার নেই সে চায়—
এই-ই কি সভ্যতার নতুন নিয়ম?কে জানে খুশির ফর্মুলা?
কে জানে শান্তির ঠিকানা?
সবাই দৌড়াচ্ছে, অথচ গন্তব্য নেই।
ইচ্ছা নামের গাড়িটার ব্রেক বলে কিছু নেই,
একবার স্টার্ট দিলে সে থামে না।শোনো হে পথভোলা প্রজন্ম,
সৃষ্টিকর্তা তোমার হাতে যা দিয়েছেন,
সেই নেয়ামতের ধুলো ঝেড়ে দেখো একবার।
যে চাল আছে, যে ছাদ আছে,
যে মা ডাকে, যে বন্ধু হাসে—
তার কদর করো,তার কদর করো।
সেখান থেকেই আনন্দ নাও, সেখান থেকেই মজা নাও।কারণ যে পায়নি তার পেছনে ছুটতে ছুটতে,
যা পেয়েছো তা একদিন হাতের বালির মতো ঝরে যাবে।
আর তখন বুঝবে,
শান্তি কোনো দোকানে বিক্রি হয় না,
খুশি কোনো অ্যাপে ডাউনলোড হয় না।
শান্তি থাকে কৃতজ্ঞতার এক ফোঁটা জলে।আজব দুনিয়া, আজব দুনিয়া,
কদর করো, কদর করো।
যা আছে তা নিয়েই বুক ফুলিয়ে দাঁড়াও।
নইলে এই ভুল আকুতির সিদ্ধান্ত
একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে লেখা থাকবে—
তারা সব পেতে চেয়েছিল, তাই কিছুই পায়নি।উঠো! উঠো! উঠো!
আগে নিজের ভেতরের দাসত্ব ভাঙো,
তারপর দুনিয়া ভাঙবে।








