প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৫৬
চাঁদপুরে শোকের ছায়া
বাবুরহাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মাইনুল ইসলাম মমিন আর নেই

চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মো. মাইনুল ইসলাম (মমিন প্রধানীয়া) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)।
|আরো খবর
বুধবার (১০ জুন, ২০২৬) ভোররাত ৩টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৪৯ বছর। তিনি দীর্ঘদিন কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র সন্তানসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চাঁদপুরের অন্যতম সেরা করদাতা মনিরুল ইসলামের বড়ো ভাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের নামাজে জানাজা আজ বুধবার বাদ জোহর মঠখোলা ওয়াপদা গেটস্থ তাঁর নিজ বাড়ির মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
আলহাজ্ব মাইনুল ইসলাম মমিন প্রধানীয়া বাবুরহাট অঞ্চলের অত্যন্ত সজ্জন, আন্তরিক, বিনয়ী ও দানশীল ব্যক্তিত্ব ছিলেন। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যবসার পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও মানবাধিকারমূলক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত রেখেছিলেন। তিনি বাবুরহাট বাজারস্থ বিখ্যাত পাইকারী মুদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স স্মৃতি ট্রেডার্স (সিটি)’-এর প্রোপ্রাইটর ও সফল ব্যবসায়ী ছিলেন।
ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরেও তিনি চাঁদপুরের বহু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন এমটিএস গ্রুপ লি.-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং বৈশাখী নিউজ টিভি ও ইলশেবাড়ি ডটকম নিউজ পোর্টাল-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
সমাজসেবায় নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটি ‘সার্বিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা’ চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি এবং ‘বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার সোসাইটি’ চাঁদপুর জেলার সহ-সভাপতি হিসেবে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। এছাড়াও তিনি মেঘনা থিয়েটার চাঁদপুরের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ কোরআন শিক্ষা বোর্ডের আজীবন সদস্য এবং বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির আজীবন সদস্য ছিলেন।
তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে বাবুরহাট অঞ্চলসহ সমগ্র চাঁদপুর জেলা জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর অবদান ছিলো অনস্বীকার্য। তাঁর এই চলে যাওয়া বাবুরহাট অঞ্চল তথা চাঁদপুরের সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের জন্যে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ






