প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৪
রায়পুর-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কে শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ঘটনায় আহত ৪

|আরো খবর
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে (১২ জানুয়ারি ২০২৬) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও এলএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এভাবেই সড়ক পারাপার হতে দেখা যায়। স্পীড ব্রেকারের জন্যে ১২শ' শিক্ষার্থী গণস্বাক্ষর দিয়ে ইউএনও-এর কাছে আবেদন করেছেন।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও শিশুদের অভিভাবকেরা বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে তারা গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের সামনে গতিরোধক নির্মাণ করা সম্ভব না হলে তারা অন্তত বিদ্যালয় চলার সময় সেখানে ট্রাফিক পুলিশ থাকার দাবি করেন।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দুটি বিদ্যালয়, একটি মাদরাসা, ফায়ার স্টেশন অবস্থিত। সড়কটি লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর, নোয়াখালি ও ভোলার সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ। এ ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে রয়েছে পৌরসভার কার্যালয়, রায়পুর সরকারি কলেজ ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ কারণে ওই সড়কে সব সময় যানবাহনের ব্যস্ততা বেশি।
সোমবার দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক সড়কে কোনো গতিরোধক নেই। নেই কোনো সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড ও চিহ্ন। সড়ক দিয়ে বেপরোয়াভাবে চলছে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, থ্রি-হুইলার, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বিদ্যালয়ের শুরুতে ও ছুটির সময় শিশু ও অভিভাবকেরা চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে হাত উঁচিয়ে, গাড়ি থামিয়ে সড়ক পার হচ্ছেন। সম্প্রতি সড়ক পারাপার হতে গিয়ে তিন শিশু মারাত্মক আহত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা মো. শরীফ হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন বাচ্চা নিয়ে এই রাস্তা পার হতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। এখানে বেপরোয়া যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের উচিত ছিলো এখানে ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে শিশুদের পারাপারে উদ্যোগ নেওয়া।’
বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার ও মেহের বলে, ‘স্কুলের সামনের সড়ক দিয়ে অনেক জোরে গাড়ি চলে। মহাসড়কে গাড়ির সামনে দিয়েই আমাদের স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হয়। এ কারণে রাস্তা পার হতে সব সময় ভয় লাগে।’
অভিভাবক সালমা বেগম ও জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, প্রাথমিক শ্রেণির শিশুরা চঞ্চল-প্রকৃতির। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা দরকার। বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষ যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়, তাহলে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জীবন ঝুঁকিমুক্ত হবে।
এলএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ কান্তি মজুমদার ও এলএম পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২০০ জন শিক্ষার্থী এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২'শ শিক্ষার্থী রয়েছে। ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে দুটি বিদ্যালয় ও দুটি মাদরাসা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে সড়ক পারাপারের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। শিক্ষার্থীরা যেন নিশ্চিন্তে সড়ক পারাপার হতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও ও জেলা প্রশাসক স্যারকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
সওজ'র লক্ষ্মীপুর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক-মহাসড়কে গতিরোধক নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবুও শিশুদের পথ নিরাপদ করতে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না, দেখব।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথ ঝুঁকিমুক্ত করতেই হবে। পাঠদান শুরু ও ছুটির সময় বিদ্যালয়ের সামনে যানবাহন যাতে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।’
ডিসিকে/এমজেডএইচ






