সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৬

দরিদ্রতম শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ সহায়তা দরকার

অনলাইন ডেস্ক
দরিদ্রতম শিক্ষার্থীদের জন্যে বিশেষ সহায়তা দরকার

মতলব দক্ষিণ উপজেলার দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে মজুমদার ফাউন্ডেশনের বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৫) দুপুরে উপজেলার ঘিলাতলী সামাদিয়া কামিল মাদ্রাসার হলরুমে মজুমদার ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং মেধাবীদের হাতে সার্টিফিকেট ও বৃত্তির নগদ অর্থ তুলে দেন

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদা আক্তার। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমেরিকা থেকে মুঠোফোনে বক্তব্য রাখেন মজুমদার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নরসিংদী ইংলিশ ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা এনামুল কবির সরকার। বরাবরের মতো এবারও স্থানীয় এলাকার সন্তান ও আমেরিকা প্রবাসীদের সংগঠন মজুমদার ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংগঠন মতলবের মজুমদার ফাউন্ডেশন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ১৫১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ৫ লক্ষাধিক টাকার শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে।

এ বৃত্তি প্রকল্পের সভাপতি ফয়েজুর রহমান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনেকেই বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, মতলবের এই মজুমদার ফাউন্ডেশন উপজেলার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে ব্যাপক পরিসরে যে আর্থিক সহযোগিতা করলো তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি এই মজুমদার ফাউন্ডেশনের মতো সমাজের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবে সহযোগিতা করতো, তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি অসংখ্য দরিদ্র পরিবারের উপকার হতো। মজুমদার ফাউন্ডেশনের সামাজিক অন্যান্য কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর যে পদক্ষেপ তা তারা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা আশা রাখছি।

আমরাও মতলবের মজুমদার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে পাঁচ শতাধিক দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর বৃত্তি প্রদানের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করছি। কিন্তু এ ফাউন্ডেশনের কেউ কি হলফ করে বলতে পারবে, পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীই প্রকৃত দরিদ্র? তারা বৃত্তি প্রদানের পূর্বে এমন কী পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যাতে সুষ্ঠুভাবে উদ্দিষ্ট শিক্ষার্থী নির্বাচন সম্ভব হয়েছে? নিশ্চয়ই বিজ্ঞানসম্মত ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অবলম্বন করে নি। তিক্ত হলেও সত্য এই যে, আমাদের দেশে শিক্ষাটা উচ্চমূল্যের পণ্যের মতো। যে সকল অভিভাবকের কম-বেশি সামর্থ্য আছে, তারাই সন্তান বা পোষ্যের স্বার্থে সেটা কিনতে পারে। এমন অভিভাবকদের শিক্ষার্থীরাই সাধারণত নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে, ব্যতিক্রম ছাড়া অন্যরা ক’জন সেটি পারে? মতলবে কি পাঁচ শতাধিকই সেটা পেরেছে? বৃত্তির আয়োজকরা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী নির্বাচনে কী গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেটা জনসমক্ষে প্রকাশ করার আগ পর্যন্ত সেটা বিশ্বাসযোগ্য বলতে আমরা রাজি নই। দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের যেভাবে গড়পরতা সংবর্ধনা দেয়, মতলবের মজুমদার ফাউন্ডেশন পরীক্ষার ফলাফলভিত্তিক গড়পরতা দরিদ্র ও মেধাবী নির্বাচন করে কার্যত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে বৃত্তির নামে আর্থিক সাহায্য দিয়েছে। এটাই এখন সাধারণভাবে হচ্ছে। কিন্তু একেবারে অসহায় ও হতদরিদ্র বা দরিদ্রতম নির্বাচন করে তাদের সন্তান/পোষ্যদের বৃত্তি কিংবা এককালীন অর্থ সাহায্য, শিক্ষা উপকরণ, খাদ্য, পোশাক ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কতোজন ধনী তথা বিত্তবান ব্যক্তি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠন বিশেষ সহায়তা করছে--তার কি কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছে আছে ? বস্তুত এ সহায়তাটা নেই বললেই চলে। সেজন্যে দরিদ্রতম অভিভাবকদের সন্তান/পোষ্যরা মেধাবী হবার সুযোগ আর পায় না এবং বৃত্তিও পায় না। বঞ্চনার পর বঞ্চনার শিকার তারা হতেই থাকে। মজুমদার ফাউন্ডেশন সহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/ সংগঠন এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা গড়পরতা মেধাবী ও দরিদ্র -মেধাবীদের বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি দরিদ্রতমদের সন্তান/পোষ্যদেরকে মেধাবী না হলেও বিশেষ সহায়তা করা দরকার, যাতে শিক্ষার মতো উচ্চমূল্যের পণ্যটাকে তারা কিছুটা হলেও কমে কিনতে পারে এবং কম-বেশি মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। এ কাজটা সত্যিই কষ্টকর। এটি করার মতো কে আছে সেটাই ভবিষ্যতে দেখার বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়