শুক্রবার, ০২ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫

বেপরোয়া মোটরসাইকেল এবং একটি অকাল মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
বেপরোয়া মোটরসাইকেল এবং একটি অকাল মৃত্যু

চঁাদপুর সংবাদপত্র হকার সমিতির সভাপতি, চঁাদপুর শহরের বড় স্টেশন এলাকার নিশি বিল্ডিং খ্রিস্টান কবরস্থান এলাকার বাসিন্দা, চঁাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নাইম খানের পিতা আবু হানিফ ইন্তেকাল করেছেন। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেল সাড়ে পঁাচটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তঁার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে গেছেন। জানা যায়, আবু হানিফ গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর ১২ টায় চঁাদপুর শহরের মরহুম আ. করিম পাটোয়ারী বাড়ির সম্মুখ দিয়ে বাইসাইকেলযোগে পত্রিকা বিলি করার সময় বেপরোয়া গতির এক মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক তঁাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চঁাদপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তঁাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তঁাকে নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি করানো হয়। এ বিভাগে ১৫দিন যাবত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বৃহস্পতিবার বাদ জোহর চঁাদপুর পৌর পার্কে মরহুম আবু হানিফের জানাজাশেষে তঁাকে দাফন করা হয়।

আবু হানিফের মৃত্যুতে চঁাদপুর শহরে তঁার পরিচিত সকল মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সংবাদপত্র জগতে এমন ক্ষতি হলো, যেটা পূরণ করা কষ্টকর। অনলাইনের দাপটে সংবাদপত্রের মুদ্রিত সংস্করণের মারাত্মক ধকল সামলানোর ক্ষেত্রে চঁাদপুর শহর ও সন্নিহিত অঞ্চলে যে ক’জন ছিলেন অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়, আবু হানিফ ছিলেন তাদের অন্যতম ও নেতৃস্থানীয়। বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল চালকের কারণে চঁাদপুরে হতাহতের উল্লেখযোগ্য অনেক ঘটনা আছে। সর্বশেষ এমন বলি আবু হানিফ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তঁার দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী চালককে পাকড়াও করা গেলো না এবং কোনো ক্ষতিপূরণ আদায় করা গেলো না ও আইনি ব্যবস্থাও নেয়া গেলো না। কিন্তু এমন মোটরসাইকেল চালনা ও চালকদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যে সকলকে উচ্চকণ্ঠ হবার অবারিত সুযোগ আছে।

আবু হানিফ পত্রিকা বিক্রিসহ কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছেন, ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছেন। সুখ ও বিলাসিতায় গা এলিয়ে দেয়ার মতো সুযোগ তিনি পাননি। বার্ধক্যের প্রাথমিক ধাপ অতিক্রমকালে তিনি দুর্ঘটনায় অকালে হারিয়ে গেলেন। এ দুর্ঘটনা তঁার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্যে তাদের বাকি জীবনে কান্না হয়েই থাকবে। যে কান্না থামানো ও শোক সংবরণ করার মতো উপযুক্ত ভাষা আমাদের কাছে নেই। আমাদের আছে আন্তরিক সমবেদনা ও গভীর সংবেদনশীলতা। আমরা দোয়া করি, আবু হানিফ অনেক কষ্ট পেয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেলেও যাতে পরকালে চিরসুখের জান্নাত লাভ করেন এবং তঁার পরিবারের শোকাহত প্রতিটি সদস্য ও স্বজন যেনো শোক সইবার তৌফিক লাভ করেন-মহান আল্লাহ সেজন্যে সদয় হয়ে তঁার রহমতের অশেষ বারিবর্ষণ করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়