বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ২০:৩৭

ঈদযাত্রায় ২৭ রুটে পাঁচ কোটি ৬১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

অনলাইন ডেস্ক
ঈদযাত্রায় ২৭ রুটে পাঁচ কোটি ৬১ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

আসন্ন ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় ২৭টি রুটে প্রায় পাঁচ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে। সারা দেশে প্রায় ৮০০টি বাস রুটের মধ্যে ২৭টি রুটে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটি’র এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা, যাত্রাবাড়ী-বরিশাল, যাত্রাবাড়ী-পটুয়াখালী, যাত্রাবাড়ী-শরিয়তপুর, চট্টগ্রাম-বরগুনা, যাত্রাবাড়ী-মাদারীপুর, যাত্রাবাড়ী-গোপালগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী-ফরিদপুর, যাত্রাবাড়ী-যশোর, যাত্রাবাড়ী-শিবচর, সায়েদাবাদ-ঝালকাঠি, সায়েদাবাদ-ঝিনাইদহ, সায়েদাবাদ-মাগুরা, সায়েদাবাদ-কুষ্টিয়া, ঢাকা টু দিনাজপুর, চট্টগ্রাম-বগুড়া, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা, ঢাকা-চট্টগ্রাম, সায়েদাবাদ-চুয়াডাঙ্গা, যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা, সায়েদাবাদ-নড়াইল, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, সায়েদাবাদ-টেকেরহাট এবং সায়েদাবাদ-পিরোজপুর রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় ৯৮ লাখ ট্রিপ যাত্রীর মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর হিসাবে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত ভাড়ার তথ্য মিলেছে। এতে দেখা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তারও বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে প্রাপ্ত যাত্রীদের সরাসরি অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে এক হাজার ১০০ টাকার নিয়মিত ভাড়া এক লাফে বেড়ে দুই হাজার ২০০ টাকায় ঠেকেছে, যা মূল ভাড়ার দ্বিগুণ। ঢাকা-খুলনা রুটে নিয়মিত ভাড়া ৫৪১ টাকা হলেও ঈদ উপলক্ষে আদায় করা হচ্ছে এক হাজার টাকা।

একইভাবে ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১০০০ টাকার নিয়মিত ভাড়ার স্থলে ১৮০০ টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ৫৫২ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদেরও গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। যাত্রাবাড়ী-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং যাত্রাবাড়ী-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা।

দূরপাল্লার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কাছের গন্তব্যগুলোতেও চলছে একই নৈরাজ্য। যাত্রাবাড়ী-ভাঙ্গা রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা, যাত্রাবাড়ী-শিবচর রুটে ২০০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা এবং সায়েদাবাদ-টেকেরহাট রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি দেশের সামগ্রিক পরিবহন খাতের একটি ক্ষুদ্র চিত্র মাত্র। সারা দেশের ৮০০ রুটের সবগুলোর হিসাব করা হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের এই পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পরিবহন খাতের একটি অসাধু চক্র প্রতি ঈদেই এভাবে পকেট কাটছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা যে হিসাব করেছি তার মাত্র ২৭টি রুটের। দেশের সকল রুটের হিসাব করলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হিসাব কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। পরিবহন মালিকরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবেন না। কিন্তু তারা ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’

এর আগে গত ঈদুল ফিতরের সময় ঈদযাত্রায় প্রায় ১৪৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে ওই হিসাব ছিল শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের চিত্র।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়