প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:৩২
স্বামীর সাথে অভিমানে স্ত্রীর আত্মহত্যা

বিয়ে হয়েছে ৮ মাস হয়েছে। এর মধ্যে ৫ মাস বাবার বাড়িতেই থাকতে হয়েছে। তার ওপর স্বামীও স্ত্রীর কোনো খোঁজখবর নেয়নি। এই দুঃখ, ক্ষোভ ও কষ্টে আত্মহত্যা করেছে স্ত্রী।
|আরো খবর
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও যৌতুকের চাপে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) চাঁদপুর সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের দফাদার বাড়িতে। এদিন এই বাড়ির গৃহবধূ ফারজানা আক্তার (১৮) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি ওই এলাকার আব্দুর রহমানের বড়ো মেয়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আট মাস আগে পারিবারিকভাবে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের শাহজাহান কবিরাজ বাড়ির মমিন গাজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর স্বামী তাকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে খোঁজখবর নিতেন না। পাশাপাশি শাশুড়ি ও স্বামী যৌতুকের জন্যে চাপ দিতেন। ঘটনার কিছুক্ষণ আগে স্বামীর সঙ্গে তার ফোনে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর নিজ ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারজানা।
নিহতের বাবা আব্দুর রহমান জানান, বিয়ের আট মাসের মধ্যে প্রায় পাঁচ মাস মেয়েকে বাবার বাড়িতে রেখে দেয়া হয় এবং এ সময় স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেয়নি।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্বামী ও শাশুড়ি যৌতুকের জন্যে চাপ সৃষ্টি করতেন এবং মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেন। ঘটনার কয়েক মিনিট আগেও মেয়ের সঙ্গে তার স্বামীর ফোনে কথা হয়েছিলো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খবর পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই মোখলেসুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠান।
এসআই মোখলেসুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে ফারজানা। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা কারও সংশ্লিষ্টতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মো. ফয়েজ আহমেদ বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়।








