সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫  |   ২৭ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০২:১৫

শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কেউ প্রভাব খাটিয়ে, কেউ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, কেউ বাড়ি ঘরের কাজের কথা বলে প্রতিনিয়তই বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। এতে সরকারের রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতিসহ ছড়ার পাড় ভাঙ্গন, বালু পরিবহনে রাস্তা ভাঙ্গনসহ নানাভাবে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয়দের।

শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল শহরের শান্তিবাগ এলাকায় ভুড়ভুরিয়া ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠে শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমদ ও রাশেদ মাস্টারের বিরুদ্ধে। এ রকম একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামীম আহমদ জানান, তিনি বালুর ব্যবসার সাথে কোনোদিন জড়িত ছিলেন না এবং ভবিষ্যতেও হবেন না। তবে ভিডিও ভাইরাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বাসা ছড়ার পাড়ে অবস্থিত। পাহাড়ী ঢলে বাসা ও রাস্তা ঝুঁকিতে পড়ায় তিনি শ্রমিক লাগিয়ে কিছু বালু তুলে বস্তায় ভরে ছড়ার পাড় ও রাস্তা রক্ষার কাজে দিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ইজারাবিহীন ঘাট থেকে কারোরই বালু তোলার সুযোগ নেই। প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে এবং যারা এ কাজে জড়িত হবেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিগত এক বছরে ১৬টি নিয়মিত মামলা ও ৭টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে প্রচুর বালু ও যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত বালু ইতোমধ্যে তিনবার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৭১ হাজার ২৮৫ ফুট

ইউএনও আরো জানান, শনিবার শান্তিবাগ এলাকায় অভিযানে গিয়ে দেখা যায় শামীম আহমদ তার বাড়ির পাশে ছড়ার পাড় রক্ষার জন্য বালু তুলে বস্তায় ভরছিলেন। তবে এটিও অনুমোদিত নয় বলে তিনি স্থানীয়দের সতর্ক করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো: মহিবুল্লাহ আকন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে কিছু লোকের অবাণিজ্যিক বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি স্থানীয়দের সতর্ক করে দেন যে, ইজারাবিহীন কোন ঘাট থেকে বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তিনি জানান, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২৬টি বালু মহাল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬টি ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাকৃত ছড়াগুলো হচ্ছে—জৈনকাছড়া জাগছড়া (পশ্চিম অংশ), সুমইছড়া, নারায়নছড়া, বৌলাছড়া ও বড়ছড়া। বাকিগুলো এখনো ইজারাহীন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন ছড়া ও জমির মাটি কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সড়ক ও জনপদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, সবগুলো ছড়াকে বৈধ ইজারার আওতায় আনলে অবৈধ উত্তোলন অনেকটাই কমে আসবে

ইউএনও মো. ইসলাম উদ্দিন আরও জানান, প্রতিটি ছড়ার দৈর্ঘ্য ৮-১০ কিলোমিটার, কোনো কোনোটি তারও বেশি। এই ছড়াগুলোতে সিলিকা বালু উৎপন্ন হয়। এত বড় এলাকা নজরদারিতে রাখা কঠিন হলেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “জনগণের সচেতনতা ছাড়া এই সমস্যা সমাধান কঠিন, তবে আইন ভঙ্গকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

ডিসিকে/এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়