প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪২
দিনে-রাতে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ চাঁদপুর শহরবাসী

শীতের মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে চাঁদপুর শহর এলাকায় যেনো পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব। মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন শহরবাসী। অসুস্থ, বয়স্ক এবং শিশুদের জন্যে দিনের বেলায়ও টাঙ্গাতে হচ্ছে মশারি। দিনের বেলাও কয়েল জ্বালিয়ে ঘরে থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদেরকে।
|আরো খবর
চাঁদপুর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতাকে মশা নিধন কার্যক্রমে স্থবিরতার জন্যে দুষছেন স্থানীয়রা। শহরের চায়ের দোকান, রাস্তাঘাট, আবাসিক এলাকায় সন্ধ্যার পর মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ লোকজন। কয়েল জ্বালিয়েও মিলছে না নিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত ওষুধ ছিটানো হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন বলেন, অনেকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় মশার উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষকে।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন জানান, মশার উপদ্রব-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে পৌরসভা। লোকবল কম থাকা সত্ত্বেও যেসব এলাকায় খাল ও নালা রয়েছে, পানি জমে থাকে, সেখানে মশার উপদ্রব বেশি। ওয়ার্ডভিত্তিক সেখানে ফগার মেশিনে মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে। আমরা এক সাইড কভার করেছি, অন্য এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে মশা নিধনে ফগার মেশিনে স্প্রে ছিটাতে কাজ চলছে। তবে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত এক মাসের বেশি সময় তারা এলাকায় মশা নিধনের কোনো কার্যক্রম দেখেননি। নালায় কোনো কীটনাশক দেয়া হয়নি। ফগার মেশিনের শব্দও কেউ পাননি। স্থানীয় একজন বলেন, জানালা খোলা যায় না। একেবারে সব মশা চলে আসে জানালা খুললেই। বাচ্চাদের স্কুল কোচিংয়ে নিয়ে গেলে ওখানেও মশা কামড়ায়।
পুরাণবাজার রিফিউজি কলোনির বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, খাল-রাস্তার বড়ো ড্রেনটি পরিষ্কার করা হয় না দীর্ঘদিন। আশপাশের সকল ময়লা-আবর্জনা সরকারি টয়লেটের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। এখানে মশার উপদ্রব খুব বেশি। দিনের বেলায় মশারি টানিয়ে বাচ্চাদের ঘুমাতে হয়। সন্ধ্যার পর ঘরে বসে থাকা যায় না। মধুসূদন স্কুল সংলগ্ন নবপল্লির দোকানদার শাহাদাত বলেন, মশার যন্ত্রণায় সন্ধ্যার পর আর থাকতে পারলাম না। হাজার হাজার মশা, সব মশা যেনো ভিড় করেছে আমার দোকান ও বাসা বাড়িতে। কতক্ষণ মশা তাড়িয়ে পারা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কামড়ে হাত ফুলিয়ে ফেলেছে।
চাঁদপুর শহরের ব্যস্ততম এলাকা রেলওয়ে কোর্টস্টেশন প্লাটফর্মে থাকা ক'জন বলেন, রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রী বসার জন্যে দু সারিতে কয়েকটা চেয়ার দিয়েছে। মাঝেমধ্যে আমরা এসে বসি। কিন্তু মশার যন্ত্রণায় এখানে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। তারা জাতীয় নির্বাচনের আগে এবং পরে পৌরসভার কাউকে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি বলে জানান। সন্ধ্যার পর সড়কের পাশের দোকানগুলোয় বসা যায় না। কোনো কোনো জায়গায় মশার ওষুধ দেয়া হচ্ছে, বরং অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে মশা উল্টো বাড়ছে। তারা এ থেকে নিস্তার চান। শহরের সচেতন মহলের মতে, মশক নিধনে চাঁদপুর পৌরসভাকে 'ক্রাশ প্রোগ্রাম' হাতে নিতে হবে। ময়লা আবর্জনা থেকে ড্রেনগুলোকে পরিষ্কার করাসহ পর্যাপ্ত ওষুধ ছিটাতে হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতির শঙ্কা বাড়বে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








