প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৮
উপহার চাই দেবে আমায়

বিকেলের শেষ আলো জানালার কাচ ভেদ করে ঘরের মেঝেতে এসে পড়েছে। বারান্দায় বসে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল হাকিম সাহেব। তাঁর সামনে চায়ের কাপ, পাশে কয়েকটি পুরোনো বই। অথচ সেদিন কোনো কিছুতেই তাঁর মন বসছিল না।
হঠাৎ পাশের বাড়ি থেকে ভেসে এল এক মায়ের কান্নার শব্দ। সঙ্গে একটি শিশুর চিৎকার, দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ আর উত্তেজিত কণ্ঠের কিছু কথা।
হাকিম সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
নিজের অজান্তেই বললেন, “আমরা সন্তানদের হাতে কত কিছু তুলে দিচ্ছি, অথচ তাদের হৃদয়ে মানুষ হওয়ার বীজটুকু বুনতে পারছি তো?”
কথাটা বলেই তিনি স্মৃতির গভীরে হারিয়ে গেলেন।
তাঁর ছাত্রজীবনের কথা মনে পড়ল। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক বলতেন, ‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।’ তখন কথাটির গভীরতা খুব একটা বুঝতেন না। আজ দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল কিংবা সার্টিফিকেট অর্জনের নাম নয়। প্রকৃত শিক্ষা মানুষের বিবেক জাগিয়ে তোলে, অন্যের দুঃখ বুঝতে শেখায়, সত্যের পথে চলার সাহস দেয়।
অথচ আজকাল অনেকেই সন্তানের হাতে দামি মোবাইল তুলে দিয়ে, নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে এবং ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করেই নিজেদের দায়িত্ব শেষ মনে করেন। সন্তানের মনোজগতে কী ঘটছে, সে কী শিখছে, কীভাবে বড় হচ্ছে-সেসব খোঁজ নেওয়ার সময় যেন কারও নেই।
হাকিম সাহেবের বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। তাঁর নিজের ছেলের কথাও মনে পড়ল।
শহরের অন্য প্রান্তে রাশেদ ও নাসিমার ছোট্ট সংসার। তাঁদের একমাত্র ছেলে রায়ান। বয়স পনেরো। ছেলেটি একসময় পড়াশোনায় ভালো ছিল, বড়দের সম্মান করত, ছোটদের সঙ্গে খেলাধুলা করত। তার চোখে ছিল অনেক স্বপ্ন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রায়ানের জীবন বদলে যেতে লাগল। হাতে স্মার্টফোন আসার পর বইয়ের প্রতি আগ্রহ কমে গেল। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার চেয়ে অনলাইনে সময় কাটানোই তার কাছে বেশি আনন্দের হয়ে উঠল। রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার, পড়াশোনায় অমনোযোগ, মায়ের কথায় বিরক্তি—সব মিলিয়ে বাড়ির পরিবেশ বদলে গেল।
নাসিমা প্রথমে বিষয়টিকে বয়ঃসন্ধিকালের স্বাভাবিক পরিবর্তন ভেবেছিলেন। তিনি নিজেকে সান্ত্বনা দিতেন, “বয়স হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”
কিন্তু সবকিছু কি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়?
একদিন স্কুল থেকে ফোন এল। রায়ান বেশ কয়েক দিন ধরে নিয়মিত পড়াশোনা করছে না। পরীক্ষার ফলও খারাপ হয়েছে। স্কুলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজও সে জমা দেয়নি।
সেদিন রাতে নাসিমা ছেলেকে কাছে ডাকলেন।
—বাবা, তোর কী হয়েছে? আগের মতো পড়াশোনা করিস না কেন?
রায়ান মোবাইলের পর্দা থেকে চোখ না তুলেই বলল, “কিছু হয়নি। তুমি শুধু শুধু বিরক্ত করো!”
—তোর ভালো-মন্দ দেখাও কি এখন আমার বিরক্ত করা?
—আমার জীবন, আমি বুঝব!
কথাটা শুনে নাসিমা চুপ করে গেলেন। চোখের কোণে পানি জমলেও তিনি ছেলেকে কিছু বললেন না। শুধু মনে মনে ভাবলেন, যে সন্তানকে বুকে আগলে মানুষ করেছেন, আজ সে কেন তাঁর মনের কথাটুকুও বুঝতে চাইছে না?
সেদিন রাতে ছেলের ঘুমিয়ে পড়ার পর নাসিমা তার বিছানার পাশে বসে অনেকক্ষণ কেঁদেছিলেন।
তিনি কি কোথাও ভুল করেছেন?
সন্তানের সব আবদার পূরণ করতে গিয়ে কি তার প্রকৃত প্রয়োজনগুলো বুঝতে ভুলে গেছেন?
একটি ছোট্ট মিথ্যা
পরদিন সকালে নাসিমা রান্নাঘরে নাশতা তৈরি করছিলেন। রায়ান তখনও বিছানায় শুয়ে মোবাইল দেখছিল।
তিনি কাছে গিয়ে বললেন, “বাবা, তোর জন্য একটা সুন্দর জিনিস এনেছি। আগে নাশতা খেয়ে আয়।”
রায়ান সঙ্গে সঙ্গে উঠে বসল।
—কী এনেছ, মা?
নাসিমা থমকে গেলেন। ছেলের মুখে এত দিন পর এমন আগ্রহ দেখে তাঁর বুকটা ভরে উঠেছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি কিছুই আনেননি। ছেলেকে বিছানা থেকে ওঠানোর জন্য কথাটি বলে ফেলেছেন।
রায়ান ঘরে এসে জিজ্ঞেস করল, “কই মা, আমার উপহার?”
নাসিমা বিব্রত হয়ে বললেন, “আসলে বাবা, তোকে নাশতা খাওয়ানোর জন্য কথাটা বলেছিলাম।”
রায়ানের মুখ মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল।
—তুমি আমার সঙ্গে মিথ্যা বললে, মা?
কথাটি শুনে নাসিমা যেন নিজের কাছেই ছোট হয়ে গেলেন। যে সন্তানকে সত্যবাদী হতে শেখাতে চান, তার সঙ্গেই তিনি অসতর্কভাবে মিথ্যা বলে ফেলেছেন!
তিনি ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে বললেন, “বাবা, তুই ঠিক বলেছিস। তোকে এভাবে বলা আমার উচিত হয়নি। মানুষ ভুল করে, কিন্তু ভুল বুঝতে পারলে তা স্বীকার করতে হয়। আমাকে ক্ষমা করে দিস।”
রায়ান মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। সে হয়তো প্রথমবার বুঝতে পারল, বড়রাও ভুল করতে পারেন, আর ভুল স্বীকার করাও একধরনের শিক্ষা।
সেদিন নাসিমা নিজের মনেই একটি সিদ্ধান্ত নিলেন—ছেলেকে শুধু উপদেশ দেবেন না, নিজের আচরণ দিয়েও শিক্ষা দেবেন।
রায়ানের বাবা রাশেদ কাজের সূত্রে বিদেশে থাকেন। পরিবারের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার আশায় তিনি বছরের পর বছর প্রবাসে কাটাচ্ছেন। রোদে পুড়ে, ঘাম ঝরিয়ে, অসংখ্য কষ্ট সহ্য করে তিনি টাকা পাঠান। তাঁর স্বপ্ন, ছেলে ভালো পড়াশোনা করবে, প্রতিষ্ঠিত হবে, একদিন পরিবারের দুঃখ ঘুচিয়ে দেবে।
কিন্তু দূরদেশে বসে তিনি বুঝতে পারেননি, অর্থের জোগান দিতে গিয়ে সন্তানের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো থেকে তিনি কতটা দূরে সরে গেছেন।
একদিন নাসিমা তাঁকে ফোন করে রায়ানের সব কথা খুলে বললেন। রাশেদ দীর্ঘক্ষণ নীরব থেকে বললেন, “আমি তো ভেবেছিলাম, ছেলেকে সব সুযোগ-সুবিধা দিতে পারলেই আমার দায়িত্ব শেষ হবে। বুঝতে পারিনি, ওর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল আমার সময়।”
কয়েক দিন পর রাশেদ ছেলের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখলেন।
চিঠিতে লিখলেন—
“বাবা রায়ান,
তোর জন্য বিদেশের মাটিতে কত স্বপ্ন বুনেছি, তা হয়তো কখনো তোকে বুঝিয়ে বলতে পারব না। ভেবেছি, তোকে ভালো স্কুলে পড়াব, সুন্দর ঘর দেব, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করব। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, এসবের চেয়েও বড় কিছু তোকে দেওয়া আমার বাকি রয়ে গেছে।
আমি চাই, তুই শুধু বড় চাকরি করিস না; বড় মনের মানুষ হ। শুধু নিজের ভবিষ্যৎ গড়িস না; অন্যের বিপদেও পাশে দাঁড়াস। শুধু নিজের অধিকার বুঝিস না; অন্যের অধিকার রক্ষা করতেও শিখিস।
মনে রাখিস, সনদ মানুষকে শিক্ষিত পরিচয় দিতে পারে, কিন্তু চরিত্রই তাকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
আমি হয়তো সব সময় তোর পাশে থাকতে পারিনি। তবে তোর জীবনের সঠিক পথচলায় পাশে থাকতে চাই। তুই যদি কখনো ভুল করিস, আমার সঙ্গে কথা বলিস। আমি তোকে শুধু শাসন করতে চাই না, তোকে বুঝতেও চাই।
তোর বাবা।”
চিঠিটি পড়তে পড়তে রায়ানের চোখ ভিজে উঠল। এত দিন সে ভেবেছিল, বাবা শুধু টাকা পাঠান, পড়াশোনার খোঁজ নেন আর ভালো ফলাফলের চাপ দেন। সেদিন সে বুঝতে পারল, সেই টাকার প্রতিটি কণার সঙ্গে মিশে আছে বাবার ঘাম, ক্লান্তি আর অগণিত ত্যাগ।
প্রথমবারের মতো তার মনে হলো, বাবার স্বপ্ন পূরণ করা মানে শুধু ভালো ফল করা নয়; বাবার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখাও।
একটি পরিবারের নতুন শুরু
চিঠি পড়ার পর রায়ান মায়ের কাছে এসে বসল।
—মা, আমি কি সত্যিই অনেক বদলে গেছি?
নাসিমা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “মানুষ বদলায়, বাবা। কখনো ভুল পথে যায়, আবার সঠিক পথেও ফিরে আসে। ভুল করেছিস বলে তুই খারাপ মানুষ হয়ে যাসনি। কিন্তু ভুল বুঝেও যদি নিজেকে না বদলাস, তখনই বিপদ।”
রায়ান মায়ের হাত ধরে বলল, “আমি চেষ্টা করব, মা।”
সেই দিন থেকেই তাদের বাড়িতে কিছু নতুন নিয়ম চালু হলো। পড়াশোনার নির্দিষ্ট সময়, মোবাইল ব্যবহারের সীমা, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খাওয়া এবং প্রতিদিন কিছুটা সময় বই পড়া। তবে এসব নিয়ম শুধু রায়ানের জন্য ছিল না; মা-বাবাও নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনলেন।
নাসিমা ছেলের সঙ্গে গল্প করতেন, তার বন্ধুদের কথা শুনতেন, পড়াশোনার সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করতেন। রাশেদও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ছেলের সঙ্গে কথা বলতেন। শুধু পরীক্ষার ফল নয়, সেদিন সে কী শিখল, কাকে সাহায্য করল, কোনো বিষয়ে মন খারাপ হলো কি না—এসবও জানতে চাইতেন।
ধীরে ধীরে রায়ানের মধ্যে পরিবর্তন দেখা গেল। সে আবার বই পড়তে শুরু করল। মায়ের কাজে সাহায্য করত, দাদির ওষুধ এনে দিত, ছোটদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত।
একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে সে দেখল, এক বৃদ্ধ মানুষ রাস্তা পার হতে পারছেন না। রায়ান এগিয়ে গিয়ে তাঁকে রাস্তা পার হতে সাহায্য করল। ঘটনাটি খুব ছোট ছিল, কিন্তু বাড়ি ফিরে সে মাকে যখন বলল, নাসিমার চোখ আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
তিনি বুঝলেন, সন্তানের মধ্যে পরিবর্তনের বীজ অঙ্কুরিত হচ্ছে।
কয়েক মাস পর রায়ানের স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। শ্রেণিশিক্ষক তার পড়াশোনার উন্নতির পাশাপাশি আচরণগত পরিবর্তনের কথাও বললেন।
তিনি নাসিমাকে বললেন, “আপনার ছেলে আগের চেয়ে অনেক দায়িত্বশীল হয়েছে। পড়াশোনায় মনোযোগী হচ্ছে, অন্যদের সহযোগিতা করছে। এই পরিবর্তন ধরে রাখতে ওকে উৎসাহ দিন।”
বাড়ি ফিরে নাসিমা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
—বাবা, তোর জন্য আজ আমার খুব গর্ব হচ্ছে।
রায়ান মৃদু হেসে বলল, “মা, আমি তো শুধু চেষ্টা করছি।”
নাসিমা বললেন, “এই চেষ্টাটাই সবচেয়ে বড় কথা। মানুষ এক দিনে আদর্শ হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো কাজই একদিন তাকে ভালো মানুষ করে তোলে।”
সেদিন রাতে রাশেদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে বলতে রায়ান বলল, “বাবা, আমি বড় হয়ে শুধু অনেক টাকা উপার্জন করতে চাই না। আমি এমন মানুষ হতে চাই, যার জন্য মানুষ দোয়া করবে।”
রাশেদের চোখ ভিজে উঠল। বহু দূরের প্রবাসী ঘরে বসে তিনি যেন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান উপহারটি পেয়ে গেলেন।
তিনি মনে মনে বললেন, ‘আমার এত দিনের পরিশ্রম যদি ছেলেকে একজন সৎ মানুষ হতে সাহায্য করে, তবে তার চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!’
সেই রাতে রাশেদ স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলতে বললেন, “আমরা এত দিন ছেলেকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে হয়তো বর্তমানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ভুলে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, ভালো স্কুল, ভালো পোশাক, ভালো খাবার আর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দিতে পারলেই সন্তান ভালো মানুষ হয়ে উঠবে। অথচ ওর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল আমাদের সময়, ভালোবাসা, সঠিক দিকনির্দেশনা আর আদর্শ।”
নাসিমা মৃদু হেসে বললেন, “সন্তান তো আমাদের কাছে আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাকে শুধু বড় করলেই হবে না, তার চরিত্রটাকেও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে।”
কথাটি রাশেদের হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কাটল।
তিনি বুঝতে পারলেন, সন্তানের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জমি, বাড়ি কিংবা ব্যাংকের টাকা নয়। সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সুন্দর চরিত্র।
যে সন্তান মা-বাবাকে সম্মান করে, মানুষের অধিকার রক্ষা করে, অন্যায় থেকে দূরে থাকে এবং বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ায়-সেই সন্তানই পরিবারের প্রকৃত গৌরব।
আমাদের প্রত্যেকেরই সন্তানকে নিয়ে স্বপ্ন আছে। আমরা চাই, তারা জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক, সুখে থাকুক, আমাদের মুখ উজ্জ্বল করুক। কিন্তু সেই স্বপ্নের ভিড়ে যেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা হারিয়ে না যায়-তারা যেন সত্যিকারের মানুষ হয়ে ওঠে।
কারণ অর্থসম্পদ উত্তরাধিকার হিসেবে দেওয়া যায়, কিন্তু চরিত্র গড়ে তুলতে হয় ভালোবাসা, শিক্ষা, অনুশাসন ও আদর্শের মাধ্যমে। শিশুর হৃদয়ে যে মূল্যবোধ আজ বুনে দেওয়া হবে, আগামী দিনের সমাজে তারই প্রতিফলন ঘটবে।
আমি এমন সন্তান চাই, যে শুধু আমার পরিচয়ে পরিচিত হবে না; বরং তার সততা, মানবিকতা ও আদর্শ দিয়ে আমার পরিচয়কে গৌরবান্বিত করবে। যে হবে পরিবারের শান্তি, সমাজের সম্পদ এবং দেশের কল্যাণের অংশীদার।
উপহার চাই, দেবে আমায়-এমন এক সন্তান, যার হাতে থাকবে জ্ঞানের আলো, হৃদয়ে থাকবে মনুষ্যত্ব, চরিত্রে থাকবে সততা আর জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে থাকবে নৈতিকতার দীপ্তি।
এমন সন্তানই হোক প্রতিটি মা-বাবার স্বপ্ন, প্রতিটি পরিবারের অমূল্য সম্পদ এবং একটি সুন্দর জাতি গঠনের শ্রেষ্ঠ উপহার।
আবু তাহের মিয়াজী : লেখক কাতার প্রবাসী।








