প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩
জরাজীর্ণ টিনশেডেই চলছে পাঠদান

কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাগদৈল ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় চরম শ্রেণিকক্ষ বা একাডেমিক ভবন সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কারণে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
|আরো খবর
সংকট নিরসনে দ্রুত একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ইবতেদায়ী থেকে আলিম শ্রেণি পর্যন্ত ৬ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ক্যাম্পাসে একটি তিনতলা ও একটি একতলা পাকা ভবন থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। বাধ্য হয়ে ইবতেদায়ী শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীদের বসানো হচ্ছে পুরানো ও জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড ঘরগুলোর দরজা-জানালার বেশিরভাগ অংশই ভাঙা ও নরবড়ে। গ্রীষ্মের প্রখর তাপে ঘরের ভেতরের পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠে, আবার বর্ষায় ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশে ক্লাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভবন সংকটের কারণে মাদ্রাসায় প্রয়োজনীয় ছাত্রাবাস, সমৃদ্ধ পাঠাগার ও সাইন্স ল্যাব (বিজ্ঞানাগার) চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান শিক্ষকরা। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও ভালো অবদান রাখতে পারতো।
ভৌত অবকাঠামোর এ দৈন্যদশা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও পাসের হার প্রশংসনীয়। প্রতি বছর দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করছে। ২০২৫ সালে এ মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানোন্নয়নে নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে অতিরিক্ত ক্লাস এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে আধুনিক পাঠদান নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আরিফ বিল্লাহ বলেন, "শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার কারণে ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। তবে অবকাঠামোগত বা শ্রেণিকক্ষ সংকটই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় অন্তরায়।"
অভিভাবক আনোয়ার হোসেন জানান, "মাদ্রাসার পড়াশোনার মান খুবই ভালো। কিন্তু টিনশেড ঘরে সন্তানদের কষ্ট দেখে খারাপ লাগে। একটি নতুন ভবন তৈরি হলে পড়ালেখার পরিবেশ আরও চমৎকার হতো।"
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী নতুন একটি একাডেমিক ভবন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপে খুব দ্রুতই এ দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








