বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮

চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে

মোখলেছুর রহমান ভূঁইয়া
চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে

‘সুস্থ দেহ, সুস্থ মন। হাঁটিতে হাঁটিতে দেখিব সাহিত্যের গগন’। চৌদ্দ আগস্ট, দুই হাজার ছাব্বিশ। বিজ্ঞান সূত্রে ৫টা ৩৩ মিনিটে সূর্য উদিত হলেও পূর্ব দিগন্তে সোনালি রোদ পুরোপুরি ফোটে না। স্নিগ্ধ ভোরের নীরবতায় চাঁদপুর সেতুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে ঝিরঝির বাতাসে মন ও শরীর শীতল হয়।

সুনসান আবহে একঝাঁক পাখিও প্রাতর্ভ্রমণে। নদীর ওপর পাখা মেলে উড়ছে তারা। পাখিদের দলবেঁধে ডানা মেলে বিচরণ। সাদা-নীল মেঘে আকাশের আলপনা। অপরূপ চিত্রকর্মের সাজে ভোরের সৌন্দর্য।

প্রাতর্ভ্রমণে আমরাও সমবেত হয়ে কদমে কদমে চলছি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা। প্রত্যুষে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর ছাতার আবদার নিয়ে খুনসুটি। সেই খুনসুটিতে ‘চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে’ প্রাতর্ভ্রমণ।

হাঁটি আর কথা বলি। কথায় কথায় চলে আসে গল্প-কবিতার কলি। আমাদের হাঁটা সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি ভোরের প্রকৃতির রূপের মহরত দেখা। ক্ষণে ক্ষণে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করি।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাঁটা একান্ত প্রয়োজন। সুস্থ দেহ, সুস্থ মনের অধিকারী। সুস্থতায় লেখকের কালিতে ফুটে ওঠে আনন্দ, সম্ভাবনা ও সমাধান।

হাঁটার মাঝেই সাহিত্য সম্ভাবনার কথা। চলমান ঘটনাবলির কথা, পেছনের কথা। হাসি-ঠাট্টায় চলতে থাকে কথার কথা।

শহরের সড়কে যানবাহনের টুংটাং শব্দ। ফু ফু ভেঁপুর কানঝালাপোড়া শব্দ থেকে রেহাই পেতে নীরব পথে আমরা হাঁটি।

দীঘির কোল ঘেঁষে ঝিরিঝিরি বাতাস। হিমেল হাওয়ায় এক অপরিচিত পথে চলা। জনবসতির মাঝপথে হাঁটার ছন্দপতনে সবাই খুনসুটিতে মেতে ওঠেন।

হাঁটার শব্দ আর শব্দের সরবতায় ভোরের কপাট খুলে দেখছেন গৃহিণীরা। দলবেঁধে পরিপাটি হয়ে হাঁটার দৃশ্য স্থানীয়রা উৎসুক হয়ে দেখছেন।

সরু খালের পানির স্রোত। রাতে বিছানো জালে আটকানো মাছ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা। পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও হাঁটছেন, যদিও তাঁদের সংখ্যা গুটিকয়েক। মসজিদে আরবি পড়া ও পড়তে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। এ সংখ্যাও একেবারেই অল্প।

ভোরের জনপদের রুটিন উপভোগ্য। ডাকাতিয়া নদীতে তেলাপিয়া মাছ চাষের খাঁচা। সারি করে বাঁধা নৌকা। ভোরের নদী মমতায় ভরা।

প্রকৃতির মনছোঁয়া দৃশ্য ক্যামেরায় জড়িয়ে রাখি। নদীর পাশে গাছের ডালে, প্রকৃতির চাদরে বসে হালকা জলখাবার খেয়ে নিই। নির্মল বাতাসে কিছুক্ষণ খোশগল্পে মেতে উঠি আমরা।

হাঁটার মাঝে মধ্যবিরতি। জলখাবারে পুনরায় এনার্জি নিয়ে হাঁটছি আর হাঁটছি।

সময়ের উজানে সূর্য মামাও সানন্দে আমাদের দলে একীভূত হন। সোনালি আবরণের গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানান। সারি সারি গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোদের অপূর্ব আলপনায় হাঁটার অনুভূতি অন্য রকম আনন্দবিলাস।

হাঁটার পথে সাঁকোতে জলরৌদ্রে সবুজের প্রান্তরে ছবি ক্লিক। পল্লির উঁচু-নিচু রাস্তায় হাঁটা। পল্লির জীবন, পুরোনো গল্প, হাসি-মশকরা সময়ের দোরগোড়ায়।

আমাদের প্রাতর্ভ্রমণে ছিল না তাড়াহুড়া। প্রকৃতি ধাপে ধাপে রূপের সাজে সাজে। মনে দোলা দেয় লেখকদের মননে।

হাঁটার বিভোরে মনোযোগ থাকায় অজান্তেই নির্দিষ্ট পথ ভুলে যাই। নতুন পথ, নতুন কথামালা শুরু হয়। হাঁটতে হাঁটতে আনন্দ-উদ্দীপনায় পৌঁছে যাই প্রধান সড়কে।

আহ্, কী আনন্দ! গ্রুপ ছবিতে হাঁটার সমাপ্তি হয়। দীর্ঘ পথ হাঁটায় দুধমাঠা পানে তৃপ্তি ও সতেজতায় চাঙা হই।

নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যান্ত্রিক যানে উঠি। এক মিনিটের মধ্যেই মোবাইল হারানোর সংবাদ পাই। যে মোবাইলে চাঁদপুরের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সাহিত্যের ভাণ্ডার।

পুনরায় গাড়ি ব্যাক করে কিছুটা হতাহত হয়ে ফিরে যাই। কাঙ্ক্ষিত মোবাইলটি ভুলে রেখে আসা গাছের ডালেই পাওয়া যায়।

ভ্রমণে কিছু বেদনার গল্প থাকে। সেই গল্পের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সমবেদনার চরিত্র ফুটে ওঠে।

শেষ গন্তব্যের জিরো পয়েন্টে পৌঁছাই। মনপুত ব্রেকফাস্টের চায়ের কাপে উঠে আসে ‘চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে’র আদ্যোপান্ত।

‘চলেন হাঁটি সাহিত্যের পথে’। শাব্দিক অর্থে হাঁটার সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, সৃষ্টিশীলতা, নির্মল মন ও মননশীলতায় জীবনের পথে হাঁটি হাঁটি করে সামনে এগিয়ে যাওয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়