শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২৭

অদৃশ্য জোনাকি

আবু তাহের মিয়াজী
অদৃশ্য জোনাকি

রাত ১১টা। মালয়েশিয়ার কনস্ট্রাকশন সাইটের পাশে টিনের চালের খুপরি ঘরে যখন সবাই ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, রাসেলের চোখে তখনো দুস্তর মরুভূমির মতো তৃষ্ণা। শরীরের হাড়ভাঙা খাটুনি আর সিমেন্টের ধুলোমাখা ক্লান্তি যেন রাতের নির্জনতায় আরও বেশি জেঁকে বসে।

রাসেল জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকারের দিকে তাকাল। দূরে ঝোপের আড়ালে কয়েকটা জোনাকি জ্বলছে আর নিভছে। রাসেলের মনে পড়ে গেল তার গ্রামের বাড়ির কথা। ঠিক এমন এক বর্ষার রাতে উঠোনের কোণে হিজল গাছে জোনাকির মেলা বসত। ছোট বোনটা খিলখিল করে হেসে জোনাকি ধরতে ছুটত।

রাসেল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনের স্ক্রিনটা জ্বালাল। ডিপি-তে হাসিমুখে থাকা স্ত্রী আর ছোট বাচ্চাটার ছবি। ওপাশ থেকে আসা মেসেজÑ “এতো দেরি করে ঘুমালে শরীর খারাপ করবে তো? ঠিকমতো খেয়েছ?” রাসেল দ্রুত টাইপ করলÑ “হ্যাঁ, খেয়েছি। অনেক ভালো আছি। কোনো চিন্তা করো না।” রাসেল জানে, এটা ডাহা মিথ্যে। আজ রাতে শুধু এক কাপ চা আর দুটো বিস্কুট জুটেছে কপালে। কিন্তু এই মিথ্যেটুকু না বললে ওপাশে কান্নার সুর শুরু হবে। রাসেলের বুকের ভেতরটা তখন তীব্র এক দহনে জ্বলতে শুরু করে। ঠিক ওই জোনাকিগুলোর মতো।

তফাৎ শুধু এটুকুইÑ বাইরের জোনাকির আলো দেখে সবাই মুগ্ধ হয়, বাহবা দেয়। কিন্তু রাসেলের মতো হাজারো প্রবাসীর বুকের ভেতরের এই যে “হোম-সিকনেস” আর একাকীত্বের দহন, তা দেখার মতো আলো বা চোখ কারো নেই। সেই দহন একান্তই ব্যক্তিগত, যা কেবল অন্ধকার রাতেই জ্বলে আর রাতের শেষেই মিলিয়ে যায়।

রাসেল ফোনটা বালিশের নিচে রেখে চোখ বুজল। কাল ভোরে আবার তাকে হাসিমুখে ‘মেশিন’ হতে হবে। প্রবাসীদের কান্নার অধিকার নেই, শুধু জ্বলে যাওয়ার অধিকার আছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়