প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৫
ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের বড় স্টেশনে একদিন

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্যের দেশ আমাদের বাংলাদেশ। এখানে রয়েছে হাজারো প্রাকৃতিক নিদর্শন। যার মাঝে অন্যতম চাঁদপুরের তিন নদীর মোহনার মনোরম দৃশ্য। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলটি মোলহেড নামেও পরিচিতি লাভ করেছে। মোলহেড সংলগ্ন পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার মিলনস্থল রূপালী ইলিশের উৎকৃষ্টতম প্রজনন কেন্দ্র। সাগর থেকে উঠে আসা মা-ইলিশ এ মোলহেড সংলগ্ন ত্রি-মোহনায় ডিম ছাড়ে এবং জাটকা থেকে কিশোর ইলিশ (টেম্পু ইলিশ) পর্যন্ত বৃদ্ধি এ মোলহেড সংলগ্ন ত্রি-মোহনায় ঘটে। তাই দেশের ইলিশ উৎপাদনে এ ত্রি-মোহনার গুরুত্ব অসীম। মোলহেড শুধুমাত্র রূপালী ইলিশের ডিম ত্যাগ এবং বেড়ে ওঠার স্থান হিসেবেই খ্যাত নয়, এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অতুলনীয়। এমন মনোরম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য ভোর বেলা থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীরা ঘুরতে আসেন। তবে সকালের চেয়ে বিকেলের সময়টায় ভিড় থাকে বেশি। এর মধ্যে স্থানীয় দর্শনার্থীদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে দূর দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা ঘুরতে চলে আসেন চাঁদপুর বড় স্টেশন।
|আরো খবর
নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে বসার জায়গা। সেখানে বসে দেখা যায় পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনমেলা। আর উপভোগ করা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সেই সাথে দেখা যায় জেলেদের মাছ ধরার মনোরম দৃশ্য আর নৌযান চলাচলের দৃশ্য। এছাড়া চাঁদপুর ত্রিনদী মোহনা বড়স্টেশন মোলহেড থেকে ট্রলারে দিয়ে মিনি কক্সবাজার যাওয়া যায় এবং ছোট ছোট নৌকার ভেসে ঘুরে বেড়ানো যায়।
বড় স্টেশনের পাশেই রয়েছে রূপালী ইলিশের বিশাল আড়ৎ। চাইলে সেই আড়তটিও ঘুরে দেখতে পারেন। আর যাওয়ার সময় নিয়ে যেতে পারেন চাঁদপুরের তাজা রূপালী ইলিশ মাছ। আমি দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। অনেকগুলো কিনেছি। এখন অনেক সুবিধা আড়তদারের লোকজন আবার সুন্দর করে বরফ দিয়ে বক্স করে দেন যাতে দুই তিন দিনে মাছ তাজা থাকে।
চাঁদপুর শহরে প্রবেশের মুখেই রয়েছে রূপালী ইলিশের ভাস্কর্য। যেহেতু চাঁদপুর জেলা রূপালী ইলিশের জন্য প্রসিদ্ধ, তাই চাঁদপুর জেলাকে বলা হয় ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’। তাই শহরের আইকন হিসেবে স্থাপন করা হয় ‘ইলিশের ভাস্কর্য’। যাতে এক দেখায় বলা যায় ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর জেলা। বড় স্টেশনে আছে রক্তধারা ভাস্কর্য। যেখানে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার কর্তৃক পরিচালিত টর্চার সেলে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে উক্ত ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।
৩৪ বছর পূর্বে এসেছিলাম বড় স্টেশনে সেই সময় বড় স্টেশনের পশ্চিম পাশে নদীর কাছে যাওয়া যেত না। আবর্জনায় ভরা ছিল পুরো এলাকা। বখাটেদের আড্ডা ছিল এখানে। সেই সময় স্টেশনের এক পাশে ছিল স্টিমারঘাট, অন্য পাশে লঞ্চঘাট আর মাঝখানে ছিল রেলস্টেশন। পানির ভয়াবহ স্রোতের কারণে লঞ্চঘাটের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে পুরো বড় স্টেশন পর্যটক উপযোগী করা হয়েছে। এখানে খাওয়া-দাওয়ার জন্য অনেক দোকান আছে এবং সম্পূর্ণ পরিবেশটা অনেক সুন্দরভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেছে। আমি সত্যি আনন্দিত ও উদ্ভাসিত এখানে আসতে পেরে। আপনারা ও সময় পেলে একবার ঘুরে আসুন আমাদের চাঁদপুরে, ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের বড় স্টেশনে।
ড. আব্দুস সাত্তার : লেখক ও সাংবাদিক। ওয়াশিংটন ডি সি।








