প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫২
নীলু আর সাহসের আলো

একটি শান্ত সবুজ গ্রামে ছিল একটি বড় বটগাছ। সেই গাছেই থাকত অনেক পাখি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট পাখিটি ছিল একটি নীল রঙের চড়ুই। তার নাম ছিল নীলু। নীলু আকারে খুবই ছোট ছিল বলে অন্য পাখিরা তাকে গুরুত্ব দিত না।
প্রতিদিন সকালে সবাই খাবারের খেঁাজে উড়ে যেত। বড় পাখিরা দূরের মাঠে যেত, আর নীলুকে বলত,
“তুমি কাছেই থাকো। দূরে গেলে বিপদ হবে।”
নীলু চুপচাপ শুনত। তার মনে কষ্ট হতো, কিন্তু সে কাউকে কিছু বলত না। সে জানত, একদিন সে নিজেই প্রমাণ করবে যে সাহস শুধু শরীরের জোরে হয় না।
নীলুর সবচেয়ে ভালো বন্ধু ছিল একটি ছোট কাঠবিড়ালি, নাম টুনটুন। টুনটুন সব সময় নীলুকে বলত,
“ছোট হলেই ভয় পেতে হয় না। মন বড় হলে সব সম্ভব।”
একদিন গ্রামের আকাশ হঠাৎ কালো হয়ে গেল। বাতাস জোরে বইতে লাগল। গাছের পাতা উড়তে লাগল। সবাই বুঝতে পারল, বড় ঝড় আসছে। পাখিরা তাড়াতাড়ি নিরাপদ জায়গায় যেতে লাগল।
এমন সময় হঠাৎ একটি কান্নার শব্দ ভেসে এল। বটগাছের পাশের আমগাছের এক উঁচু ডালে একটি ছোট ছানা আটকে পড়েছে। ঝড়ে তার বাসা ভেঙে গেছে। ছানাটির মা–বাবা খাবার আনতে গিয়ে দূরে ছিল।
সব পাখি ভয়ে বলল,
“এখন ওখানে যাওয়া খুব বিপজ্জনক। ঝড় থামুক, তারপর দেখা যাবে।”
ছানাটি ভয় পেয়ে কঁাদতেই থাকল। নীলুর বুকটা কেঁপে উঠল। সে ভাবল,
“আমি যদি কিছু না করি, তাহলে ওটা পড়ে যাবে।”
নীলু নিজের ভয়কে হার মানাল। প্রবল বাতাসের মধ্যেই সে উড়ে গেল আমগাছের দিকে। বাতাস তাকে বারবার পিছনে ঠেলে দিচ্ছিল। ডানা ব্যথা করছিল, চোখে ধুলো ঢুকছিল, তবুও সে থামেনি।
কোনো রকমে ডালে পেঁৗছে নীলু ছানাটার পাশে বসল।
সে নরম গলায় বলল,
“ভয় পেয়ো না। আমি তোমার সঙ্গে আছি।”
নীলু নিজের ছোট ডানা দিয়ে ছানাটাকে জড়িয়ে ধরল। কিছুক্ষণ পর ঝড় ধীরে ধীরে থেমে গেল। তখন ছানাটার মা–বাবা ফিরে এল। তারা দেখে অবাক হয়ে গেল ,এত ছোট পাখি হয়েও নীলু কীভাবে এত বড় সাহস দেখিয়েছে!
সব পাখি তখন নীলুকে ঘিরে ধরল। একজন বলল,
“আজ তুমি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছ।”
আরেকজন বলল,
“আকারে ছোট হলেও তুমি মন থেকে সবচেয়ে বড়।”
গ্রামের সবাই তখন থেকে নীলুকে সম্মান করতে লাগল। নীলু বুঝল, সাহস মানে ভয় না থাকা নয়, ভয় থাকা সত্ত্বেও ঠিক কাজটি করা।
সেদিন থেকে বটগাছের নিচে একটা কথা লেখা হলো
“সাহসের কোনো আকার হয় না।”
গল্পের শিক্ষা:
সাহস শরীরের জোরে নয়, মনের শক্তিতে আসে।
ছোটরা কখনোই তুচ্ছ নয়, তাদের মধ্যেও বড় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা থাকে।
বিপদের সময় সাহায্য করাই মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ।








