প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭
হৃদয়বতী

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
ষোলো.
মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইস। এটি একটি সমুদ্রবন্দর। প্রায় নয় মিলিয়ন বছর আগে ভারত মহাসাগরের নিচে আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে মরিশাসের অনেক দ্বীপ তৈরি হয়েছিলো। মরিশাসের উপকূলের প্রায় পুরোটাই ঘিরে আছে প্রবাল প্রাচীর। এই দ্বীপে ছোট ছোট প্রায় ১৫টি নদী বয়ে গেছে। এদের মধ্যে গ্রেট রিভার্স সাউথ সবচেয়ে বড়ো। আর ব্ল্যাক রিভার গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম নদী। এই ব্ল্যাক রিভারের কাছেই জামশেদের অট্টালিকা।
জামশেদের পুরো বাহিনীকে একে একে শেষ করে দিয়েছে ইমতিয়াজ। একটা লোকও আর বেঁচে নেই। ধীরে ধীরে জামশেদের কুটিরে প্রবেশ করলো সে। জামশেদ তার বিরাট সিংহাসনে বসে বসে হুইস্কি পান করে যাচ্ছে। এ সময় ইমতিয়াজকে দেখে প্রশ্ন করলো, ‘ইরফান বাহিনী কি এসেছে?’
‘হ্যাঁ। ওরা এই মাত্র বোট থেকে নামলো সৈকতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে। আমি একজনকে পাঠিয়েছি তাদেরকে রিসিভ করার জন্যে।’
‘গুড। তাহলে ওরা আমাদের ফাঁদে পা দেবে নিশ্চয়ই, সেটাও ভেবে রেখেছো?’
‘অবশ্যই।’
এ সময়ই ওরা এলো। ইরফান, নাদের, তুষার ও চেঙ্গিসকে দেখেই বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠলো জামশেদ। তারপর ওদেরকে বসার ইঙ্গিত করলো।
সবার সামনে ফল-ফলাদি উপস্থিত হলো। ইরফান একটা আঙ্গুর মুখে দিয়ে জামশেদকে প্রশ্ন করলো, ‘অনন্যা কোথায়?’
জামশেদ ঈষৎ হাসলো। তারপর বললো, ‘মেয়েটা অক্ষত আছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা এখানে একটা বিরাট ডিল করতে যাচ্ছি। আগে শুনে নাও তারপর সিদ্ধান্ত নিবে।’
‘তোমার সাথে একমাত্র ডিলই হচ্ছে অনন্যাকে ফেরত পাওয়া। এছাড়া আর কোনো কথা নেই।’ চেঙ্গিস তার স্বভাবসুলভ উত্তর দিলো।
‘আরে ব্যস্ত হচ্ছো কেনো চেঙ্গিস। জানি তুমি খুবই একরোখা। তাইতো তোমাদেরকে এমন স্বর্গীয় স্থানে দাওয়াত করে এনেছি। এখানে শুধু আমার আদেশই চলবে। তোমার রাজ্যে তুমি রাজা, আর আমার রাজ্যে আমি বাদশাহ। বুঝতে পারছো?’
‘রাজা-বাদশাহদের যুগ চলে গেছে, তুমি অনন্যাকে ফেরত দাও, আমি চলে যাই।’ ইরফান যোগ করলো।
‘ব্যস্ততা নেই। সবই পাবে। তবে, আমার কথা শুনতে হবে, তা না হলে রাজা তো যাবেই উজির নাজির সবই যাবে।’
হাসলো নাদের সাহেব। তারপর বললো, ‘শোনো জামশেদ কাজের কথায় আসো। আমার এক মেয়ে হারালে আরও দুই মেয়ে আছে, আর তুমি তোমার প্রাণটা হারালো সেটা আর ফেরত পাবে না। সুতরাং ডিল করতে হলে বুঝে শুনে করবে।’
হাসলো জামশেদ। তারপর বললো, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত আমার কথা না শুনে কোনো সিদ্ধান্ত নেয় না। বাংলাদেশের সব মন্ত্রী এমপি আমার নির্দেশেই কাজ করে যায়। সুতরাং তোমার মতো নাদের গুণ্ডা, যাকে কিনা পাক বাহিনী মেরে তক্তা বানিয়ে বুড়িগঙ্গাতে ফেলে দিয়েছিলো, ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলো আর সেই নাদের গুণ্ডাই আমার সামনে এসে যা বলছো তাতে আমার মনে হচ্ছে এক্ষুণি তোমাদেরকে একটা একটা করে বুলেট উপহার দিয়ে ওই সাগরের জলে ভাসিয়ে দেই। যাই হোক, ডিল করার জন্যে বসেছি, মাথা গরম করবো না। আসল কথা বলি, বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিগত ১৬ বছর ধরে বিনা বাধায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গদীতে আছেন, এখন তিনি ভারতের দিকে ঝুঁকে গেছেন। চীন চায় না এটা দীর্ঘস্থায়ী হোক। চীনের প্রধানমন্ত্রী তাদের গোয়েন্দা সংস্থা এমএসএস প্রধানের মাধ্যমে আমাকে জানিয়েছেন এই শাসনের অবসান ঘটাতে হবে। দেশের জনগণ গণতন্ত্র ফিরে পাবে। যোগ্য লোককে ক্ষমতায় বসাতে হবে। সুতরাং আমরা তোমাদেরকে কয়েক কোটি টাকা দিবো, ছাত্র ও জনগণকে পাশে নিয়ে দেশে একটা বিপ্লব ঘটানোর পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। এরপর এখানকার দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপিদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। ওই দলটাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। নতুন দলকে ক্ষমতায় বসাতে হবে, যাতে আমরা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতে পারি। আমাদের মাফিয়া সাম্রাজ্য যাতে আরও গতিহীনভাবে এগিয়ে যেতে পারে।’
একটানা কথাগুলো বলে জামশেদ সবার চোখের দিকে তাকালো। তারপর বলা শুরু করলো, ‘তোমরা হয়তো ভাবছো বিষয়টা সম্ভব নয়। কিন্তু সুন্দর পরিকল্পনা থাকলে সবই সম্ভব। শুধু বুদ্ধিটা একটু বাঁকিয়ে নিতে হবে। দীর্ঘদিন এক সরকারের অধীনে থেকে জনগণও তাদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, তাই তাদের মনের গতি অনুসারে তাদেরকে জাগিয়ে দিতে হবে। বাকিটা জনগণই করবে। বুঝতে পারছো?’ (চলবে) ...








